মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গল উপজেলায় আশিদ্রোন ইউনিয়নে প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ টাকার একটি সড়ক সংস্কার প্রকল্পে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার ও ত্রুটিপূর্ণ কাজের প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী কাজ বন্ধ করে দিয়েছে।
রোববার আরসিসি ঢালাইয়ের কাজ বন্ধ করে দিয়ে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে লিখিত অভিযোগ জমা দেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, হোসনাবাদ-বিলাসছড়া সড়কটি আশিদ্রোন ইউনিয়নের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম। সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন ভারী যানবাহনসহ সাতটি চা বাগানের হাজারো শ্রমিক চলাচল করেন। দীর্ঘদিন সংস্কারের অভাবে সড়কটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় প্রায় ৪ কোটি ৫ লাখ ২২ হাজার ৮৪৬ টাকা ব্যয়ে সংস্কার প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। চলতি বছরের ৮ ফেব্রুয়ারি কার্যাদেশ দেওয়া হয় এবং কাজের মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০২৭ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত।
অভিযোগ রয়েছে, প্রকল্পে উন্নতমানের বালু, পাথর ও খোয়া ব্যবহারের কথা থাকলেও বাস্তবে নিম্নমানের ইটের খোয়া ও রাবিশ দিয়ে ঢালাই করা হচ্ছে। এছাড়া যথাযথ কমপ্যাকশন না করায় কাজের গুণগত মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। পুরোনো গাইডওয়ালের ওপর নতুন কাঠামো নির্মাণ করায় বিভিন্ন স্থানে ফাটল দেখা দিয়েছে বলে অভিযোগ স্থানীয়দের।
হোসনাবাদ পানপুঞ্জির প্রধান ওয়েল সুরং বলেন, প্রকৌশল বিভাগের যথাযথ তদারকির অভাবে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ইচ্ছেমতো কাজ করছে, ফলে প্রকল্পের গুণগত মান ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
স্থানীয় বাসিন্দা শাহিন মিয়া বলেন, কোটি টাকার প্রকল্প হলেও কাজের মান অত্যন্ত নিম্নমানের। একই ধরনের অভিযোগ করেন বিনোদ তাঁতি, সঞ্জয় মুন্ডাসহ আরও অনেক বাসিন্দা।
তবে অভিযোগ অস্বীকার করে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান সানি এন্টারপ্রাইজের স্বত্বাধিকারী মো. হাসানুজ্জামান বলেন, ব্যবহৃত ইটগুলো সরকারের অনুমোদিত সেলভেজ মালামাল। টেন্ডারের শর্ত অনুযায়ী এগুলো ব্যবহার করা হচ্ছে। পাহাড়ি ঢল ও অতিবৃষ্টির কারণে কিছু স্থানে সমস্যা দেখা দিলেও তা দ্রুত সংস্কার করা হয়েছে।
উপজেলা এলজিইডির উপ-সহকারী প্রকৌশলী সঞ্জয় পন্ডিত বলেন, অনিয়মের অভিযোগ পুরোপুরি সত্য নয়, তবে কিছু ক্ষেত্রে সামান্য ত্রুটি থাকতে পারে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা প্রকৌশলী মো. আব্দুর রাকিব বলেন, আমি নিয়মিত কাজ পরিদর্শন করেছি। নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের আগে ল্যাব টেস্ট করা হয়। অভিযোগের বিষয়ে আবারও সরেজমিনে গিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শ্রীমঙ্গল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমান বলেন, অভিযোগ তদন্তে এলজিইডির প্রকৌশলীকে পাঠানো হবে। চলমান কাজে কোনো ধরনের অনিয়ম বা দুর্নীতি সহ্য করা হবে না। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

