এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের বিরুদ্ধে অভিযোগ

পেইজে মাঠকর্মীর চাকরি স্থায়ী হয় না ১০ মাসেও

জেলা প্রতিনিধি, হবিগঞ্জ

পেইজে মাঠকর্মীর চাকরি স্থায়ী হয় না ১০ মাসেও
হবিগঞ্জের এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর

বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ‘পেইজ ডেভেলপমেন্ট সেন্টার’ এর হবিগঞ্জ এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরকে ঘুষ না দিলে শিক্ষানবিশ মাঠকর্মীর চাকরি স্থায়ীকরণ হয় না। দেশের ১৭ জেলায় ১৮০টিরও বেশি শাখা রয়েছে সংস্থাটির। আর এসব শাখার মাধ্যমেই পরিচালনা করা হচ্ছে বিভিন্ন আর্থ-সামাজিক কর্মসূচি।

বিজ্ঞাপন

তবে হবিগঞ্জের এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের সহকর্মীদের সঙ্গে অশোভন আচরণ, দুর্ব্যবহার, অকথ্য ভাষায় গালিগালাজসহ অসদাচরণের অভিযোগ উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটির বিধি অনুযায়ী মাঠকর্মীদের স্থায়ীকরণের সময়সীমা ছয়মাস। তবে চাকরিতে যোগদানের ১০ মাস পার হলেও চাকরি হয় না স্থায়ীকরণ।

সংস্থাটির মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী ইয়াসমিন আক্তার বলেন, চাকরি করেছি প্রায় দেড় বছর। ২০২৫ সালের নভেম্বরে ছেড়ে দেই। চাকরির বয়স যখন ৬ মাস অর্থাৎ শিক্ষানবিশ অধ্যায় শেষ করে স্থানীয়করণের সময়ে এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ১০ হাজার টাকা ঘুষ চায়। তার চাকরির আশায় বাধ্য হয়ে জাহাঙ্গীরকে ১০ হাজার টাকা দিয়েছি। শুধু তাই নয়, মাধবপুর শাখা ম্যানেজার আবুল হাসানও ঘুষ বাণিজ্যের সাথে জড়িত। দুই জনে মিলে শিক্ষানবিশ কর্মীদের সাথে অনেক খারাপ আচরণ করেন। তাদের অন্যায় আবদার ও অত্যাচারে অনেক মাঠ কর্মী চাকরি ছেড়ে দিতে বাধ্য হয়। জাহাঙ্গীর রাতে নারী কর্মীদের মোবাইলে ভিডিও কল দেয়। কল রিসিভ না করলে পরদিন অফিসে গিয়ে হুমকিধামকি দেয় এবং অকথ্য ভাষায় গালাগালি করে।

বাহুবল শাখার সাবেক ফিল্ড অফিসার মোহাম্মদ রোমন বলেন, এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীরের অত্যাচারে বছরখানেক চাকরি করে ছেড়ে দিয়েছি। কারণ, চাকরি স্থায়ীকরণের সময় জাহাঙ্গীরকে বাধ্য হয়ে ১০ হাজার টাকা ঘুষ দিতে হয়েছে। অবশ্য আমার টাকা খেয়ে হজম করতে পারেনি জাহাঙ্গীর।

মাধবপুর শাখার সাবেক মাঠকর্মী রেজুয়ানা আক্তার বলেন, এরিয়া ম্যানেজার জাহাঙ্গীর ও শাখা ম্যানেজার আবুল হাসানের অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ, অশুভ আচরণের কারণে আড়াই মাস চাকরি করে ছেড়ে দিতে হয়েছে।

হবিগঞ্জ রিচি গ্রামের পেইজের ঋণ গ্রহিতা সদস্য জহুর আলী বলেন, জাহাঙ্গীরের ব্যবহার খুবই খারাপ। আমার এলাকার দুইটি মেয়ে পেইজের চাকরির জন্য আবেদন করে কুমিল্লা গিয়ে পরীক্ষা দিয়েছিল। এই সুযোগে জাহাঙ্গীর আমার মাধ্যমে তাদের কাছে ঘুষ চেয়েছিল চাকরি দেওয়ার জন্য।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংস্থাটির এক অফিসার বলেন, প্রতিষ্ঠানটির ডেপুটি ডিরেক্টর মো. শাহাজাহানের ভাতিজা পরিচয় দিয়ে ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন জাহাঙ্গীর। তবে তাকে মাঠপর্যায় থেকে না সরালে সংস্থার মানসম্মান দিনদিন ক্ষুন্ন হবে।

এবিষয়ে পেইজের এরিয়া ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীরের সাথে মোবাইল ফোনে কথা বললে তিনি মাঠকর্মীদের কাছ থেকে ঘুষ নেওয়ার বিষয়টি অস্বীকার করেন।

তিনি আরো বলেন, ঋণ দিয়ে কিস্তি উঠানো খুব কঠিন কাজ। তাই কর্মীদের সাথে একটু গরম হয়ে কথা বলতেই হয়। শতভাগ কিস্তি আদায় না হওয়ায় হবিগঞ্জ শাখার ম্যানেজারকে ডিমোশন দিয়ে একাউন্সের দায়িত্ব দিয়েছি।

পেইজের পরিচালক মুজিবুর রহমান বলেন, ইতোমধ্যে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি, আমরা তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করব। সঠিক তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত হলে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

জেডএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...