যুব সমাজে অনলাইন জুয়ার প্রভাব ও ভয়ংকর পরিণতি তুলে ধরে নাট্য নির্মাতা মিকসেতু মিঠু নির্মাণ করেছেন একক নাটক ‘টোকা’। নাটকটির গল্প ও সংলাপ লিখেছেন নির্মাতা নিজেই। আব্দুল্লাহ আল সেন্টু, তারিফ জামান, সৌমিক বোস, জায়না ইসলাম, প্রীতি আক্তার রিয়া, শিখা কর্মকার, ফয়সাল আহমেদসহ এক ঝাঁক তরুণ শিল্পী এতে অভিনয় করেছেন।
নাটকটি আগামীকাল রাত ১০টায় বৈশাখী টিভিতে প্রচারিত হবে।
টোকা নিয়ে আমার দেশকে মিকসেতু মিঠু বলেন, আমরা কেন যেন অনলাইন জুয়ার ভয়াবহতা বুঝতে পারছি না। যদি বুঝতে পারতাম তাহলে এটাকে সকল সামাজিক সংকটের শীর্ষে রেখে রাষ্ট্রীয় ও সামাজিকভাবে অনলাইন জুয়া বন্ধের চেষ্টা করতাম। শহরের অভিযাত এলাকা থেকে গ্রামের প্রান্তিক মানুষ পর্যন্ত জুয়ার শিকার হচ্ছে। বহু মানুষ নিঃস্ব হয়ে গেছে। বহু সংসার ভেঙে গেছে। বাবা মায়ের সঙ্গে সন্তানের দূরত্ব তৈরি হয়েছে জুয়ার কারণে। টোকা নাটকে আমি সেই বার্তাটাই দিতে চেয়েছি। আমার বিশ্বাস এই নাটক দেখে বহু তরুণ জুয়া থেকে মুক্তির উপায় খুঁজবে। যদি একজন মানুষও সফলভাবে জুয়ার জাল ছিঁড়ে স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারে সেটাই আমার কাজের প্রধান সফলতা বলে মনে করব।’
আগের দুইটা নাটক নিয়ে এই নির্মাতা বলেন, ‘এর আগে বেকারত্ব ও চাকরির বাজারে যুবকদের প্রতারিত হওয়া নিয়ে বানিয়েছিলাম ভাইভাম্যান নামে একটা নাটক। এরপর মাদকের ভয়াবহতা তুলে ধরে বানিয়েছিলাম বন্দী। আমার আগের দুইটা কাজ দেখে তরুণরা তাদের প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন। বন্দী দেখার পর বহু মানুষ কমেন্টে জানিয়েছেন, মাদকের ভয়াবহতা ফুটিয়ে তোলার পাশাপাশি মাদক থেকে মুক্তির চেষ্টা ও উপায় তাদের উপকারে এসেছে। আমার বিশ্বাক টোক দেখেও বহু তরুণ জুয়া ছেড়ে দিয়ে সুস্থ জীবনে ফিরে আসবে।’
মিকসেতু মিঠু আরও বলেন, ‘আমি বয়স ও চিন্তায় তরুণ। আমি চেষ্টা করছি তরুণদের উপকারে আসে এমন বার্তা নাটকের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিতে। সমস্যা হলো ভিউ ও ভাইরালের যুগে ভালো কাজে পৃষ্ঠপোষকতা করার লোকের প্রচণ্ড অভাব। যে কারণে, চেষ্টা থাকলেও নিয়মিত কাজ করা হয় না। বৈশাখী টেলিভিশনকে ধন্যবাদ। তারা আমার কাজটা পছন্দ করেছেন। পৃষ্ঠপোষকতা করছেন। বৈশাখী টেলিভিশনের সাপোর্ট নিয়ে আমি আরও ভালো ভালো কাজ করতে চাই। যা দেখে দর্শক শান্তি পাবে, নিজেকে বদলানোর দাগিদ অনুভব করবে।’
নাটকটি নিয়ে প্রশংসিত অভিনেতা আব্দুল্লাহ আল সেন্টু বলেন, ‘আমি সবসময় বেছে বেছে ভালো গল্পে কাজ করি। যেন আমার কাজটা সমাজে একটু হলেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে। টোকা তেমনই একটা কাজ। দর্শক এই নাটক থেকে কেবল বিনোদনই পাবে না, নিজেদের করণীয় ও বর্জনীয় খুঁজে পাবে। মিকসেতু ভাই খুবই মেধাবী ও পরিশ্রমী নির্মাতা। আশাকরি দর্শক তার মেধা ও শ্রমের মূল্যায়ন করবে।’
লেখালেখি দিয়ে ক্যারিয়ার শুরু করলেও মিকসেতু মিঠু বর্তমানে নির্মাণকেই বেছে নিয়েছেন। মিডনাইট মিটিং দিয়ে তার নির্মাণে পথচলা। ক্যারিয়ারের প্রথম নির্মাণেই তিনি দেখিয়েছে ডিপস্টেট ও মাফিয়ারা কিভাবে রাতের আঁধারে বদ্ধ ঘরে বসে দেশের ও দেশের মানুষের ভবিষ্যৎ নিয়ন্ত্রণ করছে। এরপর ভাইভাম্যানে দেখান চাকরি প্রত্যাশী যুবকদের ঠকাতে সমাজের নানা শ্রেণির মানুষের ফাঁদ পেতে রাখার চিত্র। টোকায় দেখা যাবে অনলাইন জুয়ায় নিঃস্ব তরুণদের আর্তনাদ ও ফিরে আসার গল্প। এই নাটকের মাধ্যমে তরুণদের জুয়া থেকে ফিরে আসার আহ্বান জানিয়ে মিঠু বলেন, ‘জুয়ায় আপনি কত টাকা পেয়েছেন বা কত টাকা হেরেছেন, এই হিসেব করে কখনো জয়ী হওয়া যায় না। যে মুহূর্তে আপনি জুয়া খেলা ছেড়ে দেবেন, সেই মুহূর্ত থেকে আপনি বিজয়ীর দলে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

