সোনালু গ্রীষ্মের সোনাঝরা সৌন্দর্য

সাকী মাহবুব

সোনালু গ্রীষ্মের সোনাঝরা সৌন্দর্য

প্রচণ্ড দাবদাহে যখন প্রকৃতি ওষ্ঠাগত, ঠিক তখনই চারপাশ আলো করে হেসে ওঠে সোনালু। তামাটে রোদের বুক চিরে ঝুলে থাকা হলুদ রঙের পুষ্পমঞ্জুরি যেন প্রকৃতির এক পশলা সোনালি বৃষ্টি। গ্রামবাংলার মেঠো পথ থেকে শুরু করে শহরের ইট-পাথরের দেয়াল—সবখানেই সোনালুর এই রাজকীয় উপস্থিতি গ্রীষ্মের রুক্ষতাকে হার মানিয়ে দেয়।

সোনালু মূলত ‘ফ্যাবেসি’ পরিবারের অন্তর্ভুক্ত একটি বৃক্ষ, যার বৈজ্ঞানিক নাম Cassia fistula। এই গাছটি মাঝারি আকারের হয়ে থাকে এবং এর শাখা-প্রশাখা তুলনামূলকভাবে কম। সোনালুর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর দীর্ঘ লতানো মঞ্জুরি। একেকটি মঞ্জুরি এক থেকে দেড় ফুট পর্যন্ত লম্বা হতে পারে। ফুলগুলো দেখতে অনেকটা আঙুর ফলের থোকার মতো নিচের দিকে ঝুলে থাকে। প্রতিটি ফুলে পাঁচটি করে পাপড়ি থাকে এবং মাঝখানে থাকে কাস্তের মতো বাঁকানো পুংকেশর। সোনালুর বিশেষত্ব হলো, ফুল ফোটার সময় গাছে খুব একটা পাতা থাকে না, ফলে পুরো গাছটিই এক সোনালি রূপ ধারণ করে। বাংলার প্রকৃতিতে সোনালুর নাম বৈচিত্র্যময়। কেউ একে ডাকেন ‘সোঁদাল’, কেউ বা ‘বানরলাঠি’। শেষোক্ত নামটি এসেছে এর ফলের আকৃতি থেকে। সোনালুর ফলগুলো এক থেকে দুই ফুট লম্বা লাঠির মতো হয়। কাঁচা অবস্থায় এগুলো সবুজ থাকলেও পাকার পর তা কালচে খয়েরি রঙ ধারণ করে। গ্রামের শিশুরা অনেক সময় এই ফল নিয়ে খেলে বলেই একে ‘বানরলাঠি’ বলা হয়।

বিজ্ঞাপন

সোনালু কেবল সৌন্দর্যের আধার নয়, এর রয়েছে ব্যাপক ঔষধি গুণাগুণ। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রে সোনালুর পাতা, বাকল ও ফলের শাঁস বিভিন্ন রোগের চিকিৎসায় ব্যবহার করা হয়। বিশেষ করে কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে এবং চর্মরোগ নিরাময়ে এটি অত্যন্ত কার্যকর। বর্তমানে নগরায়ণের ভিড়ে এবং বিদেশি দ্রুত বর্ধনশীল গাছের দাপটে আমাদের এই দেশি সোনালু গাছ বিলুপ্তির পথে। রাস্তার ধারে বা পার্কের শোভাবর্ধনে সোনালুর জুড়ি নেই। পরিবেশের ভারসাম্য রক্ষা এবং গ্রীষ্মের এই নান্দনিক সোনাঝরা রূপ ধরে রাখতে আমাদের বেশি করে সোনালু গাছ রোপণ করা প্রয়োজন।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন