জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) স্টাফ বাসে করে ক্যাম্পাসে আসার সময় তিন ছাত্রীকে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক কর্মকর্তা হেনস্তা করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। সোমবার সকালে এ ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত কর্মকর্তা খন্দকার হাবিবুর রহমান বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীরা হলেন চিটাগাং রোড থেকে আসা অ্যাকাউন্টিং বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র, কাজলা থেকে আসা আইইআর বিভাগের ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী মিতু আক্তার এবং শনির আখড়া থেকে আসা দর্শন বিভাগের ১৭ ব্যাচের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান।
ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীদের ভাষ্য, নিয়মিত শিক্ষার্থী পরিবহন বাসটি মিস করায় তারা স্টাফ বাসে উঠেন। এ সময় বাসে থাকা এক কর্মকর্তা শিক্ষার্থীদের আইডি কার্ড দেখতে চান এবং কার্ডের মেয়াদ নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের লোকাল বাসে চলাচলের কথা বলেন এবং স্টাফ বাসে ওঠা নিয়ে আপত্তিকর মন্তব্য করেন।
দর্শন বিভাগের শিক্ষার্থী সামিয়া রহমান বলেন, আমরা স্টুডেন্ট বাস মিস করায় স্টাফ বাসে উঠেছিলাম। উনি আমাকে জিজ্ঞেস করেন আমি কে, এরপর আইডি কার্ড দেখতে চান। কার্ড দেখে বলেন, এর তো কোনো মেয়াদ নেই, এই কার্ড নিয়ে আর কোনোদিন আমাদের বাসে উঠবেন না। আরেক আপুর আইডি কার্ড প্রায় পাঁচ মিনিট নিজের কাছে রেখে দেন।
অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষার্থী মারুফ ইসলাম হিমাদ্র বলেন, বাসে উঠার পর উনি বলেন আমি নাকি প্রতিদিন এই বাসে আসি। আমি বললাম, আজকেই প্রথম উঠেছি, কারণ স্টুডেন্ট বাস মিস হয়েছে। তখন তিনি বলেন, তুমি আর এই বাসে আসবা না, লোকাল বাসে ভাড়া দিয়ে আসবা। এই বাস তোমাদের জন্য না।
এ ঘটনায় শিক্ষার্থীদের মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে। তারা বলছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের পরিবহন ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক সময় শিক্ষার্থীদের বিকল্প বাসে উঠতে হয়। সে ক্ষেত্রে এ ধরনের আচরণ অগ্রহণযোগ্য এবং অপমানজনক। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি প্রশাসনের নজরে এনে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
এ ঘটনায় সামাজিক যোগযোগ মাধ্যম ফেসবুকে নিজ আইডিতে করা এক পোস্টে জকসুর আইন সম্পাদক হাবিব মোহাম্মদ ফারুক ক্ষোভ প্রকাশ করে লিখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মকর্তাদের মধ্যে সিন্ডিকেট চলমান, অনেক পাওয়ারফুল ব্যক্তিদের মধ্যে অর্থ বিভাগের হাবিব সাহেব একজন। স্টাফদের বাসকে তিনি নিজের সম্পত্তি মনে করেন। শিক্ষার্থীরা বাস মিস করে কখনো উঠলে খারাপ ব্যবহার করেন তিনি। দরখাস্তে উল্লিখিত ঘটনা আজকের। বিশ্ববিদ্যালয়কে নিজেদের সম্পত্তি যারা মনে করবে, তাদের বিরুদ্ধে আমাদের পদক্ষেপ জারি থাকবে।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালের পরিবহন প্রশাসক তারেক বিন আতিক বলেন, যেকোনো স্টুডেন্টের প্রয়োজন আগে, বিশেষ করে নারী স্টুডেন্টের সুবিধা আগে। আমাদের নারী শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে ভার্সিটির বাস মিস করলে কাজলা, শনির আখড়া থেকে আসাটা আরো বেশি কষ্টকর। আমাদের সবার উচিত, শিক্ষার্থীদের সাহায্য করা। আর কোনো কর্মকর্তা-শিক্ষক যদি এমন বিষয়ে কোনো দূর্ব্যবহার করে থাকেন, তাহলে আমার মতে তার শাস্তি হওয়া উচিত, এটা আমার ক্ষেত্রে হয়ে থাকলে আমারও শাস্তি হওয়া উচিত।
এ বিষয়ে অভিযুক্ত অর্থ ও হিসাব দপ্তরের উপপরিচালক খন্দকার হাবিবুর রহমান বলেন, ‘বাইরের অনেকে শিক্ষক-কর্মকর্তাদের জন্য নির্ধারিত বাসে ওঠায় অনেক দিন সিট সংকটের কারণে অনেককেই দাঁড়িয়ে যাতায়াত করতে হয়। সেই অবস্থান থেকে আজকে আমি আমাদের বাসে যারা উঠতেছিল, তাদেরকে জিজ্ঞেস করি তারা আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী কি না এবং সেটা যাচাই করতে তাদের আইডি কার্ড দেখতে চাই। যে শিক্ষার্থী অভিযোগ তুলেছে তার পূর্বেও দুইজনকে বাসে বসার অনুমতি দিই। কিন্তু তার আইডি কার্ড দেখতে চাওয়ার বিষয়ে কার্ড নিয়ে নেওয়া, উচ্চ স্বরে কথা বলা বা হেনস্তার অভিযোগ তুলেছে; সেরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক তাজাম্মুল হক বলেন, শিক্ষার্থীরা আমাকে বিষয়টি জানিয়েছে। আমরা তাদের অভিযোগ দিতে বলেছি। অভিযুক্ত যেহেতু বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন কর্মকর্তা, তাই শিক্ষার্থীদের অভিযোগ পাওয়ার পর উপাচার্য ও রেজিস্ট্রার স্যারের সাথে কথা বলে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


জবির একমাত্র ছাত্রী হলে ১৩ পদের ১০টিই শিবিরের
বাসে জবি ছাত্রীকে ধর্ষণের হুমকি, আটক ২