নিয়মিত সূর্যাস্ত দেখলে মিলতে পারে মানসিক প্রশান্তি, ভালো ঘুম ও সুস্থতা

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

নিয়মিত সূর্যাস্ত দেখলে মিলতে পারে মানসিক প্রশান্তি, ভালো ঘুম ও সুস্থতা

ব্যস্ত জীবনের ফাঁকে প্রতিদিন কিছু সময় সূর্যাস্ত উপভোগ করা শুধু মনকে প্রশান্তই করে না, বরং মানসিক ও শারীরিক স্বাস্থ্যের ওপরও ইতিবাচক প্রভাব ফেলে। সাম্প্রতিক বিভিন্ন বৈজ্ঞানিক গবেষণায় দেখা গেছে, নিয়মিত সূর্যাস্ত বা সূর্যোদয় দেখার অভ্যাস হতাশা ও উদ্বেগ কমাতে, স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়াতে এবং ঘুমের মান উন্নত করতে সহায়ক হতে পারে।

বিজ্ঞাপন

বিশেষজ্ঞদের মতে, সূর্যাস্তের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য মানুষের মধ্যে বিস্ময় ও শ্রদ্ধাবোধের অনুভূতি তৈরি করে। এর ফলে ব্যক্তিগত সমস্যা ও দুশ্চিন্তা তুলনামূলকভাবে ছোট মনে হয়, যা মানসিক চাপ কমাতে এবং বর্তমান মুহূর্তে মনোযোগ ধরে রাখতে সাহায্য করে।

গবেষণায় আরও উঠে এসেছে, যারা নিয়মিত প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করেন, তাদের শরীরে প্রদাহজনিত ক্ষতিকর ‘সাইটোকাইন’-এর মাত্রা তুলনামূলক কম থাকে। এই উপাদানের উচ্চমাত্রা ডায়াবেটিস, হৃদরোগ ও বিষণ্ণতার মতো নানা স্বাস্থ্যঝুঁকির সঙ্গে সম্পর্কিত।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সূর্যাস্তের কোমল প্রাকৃতিক আলো শরীরের জৈবিক ঘড়ি বা সার্কাডিয়ান রিদম ঠিক রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। গোধূলির আলো স্নায়ুতন্ত্রকে শান্ত করে এবং শরীরকে বিশ্রামের জন্য প্রস্তুত করে। এর ফলে ‘মেলাটোনিন’ হরমোনের নিঃসরণ বাড়ে, যা গভীর ও স্বস্তিদায়ক ঘুমে সহায়তা করে। বিপরীতে, সন্ধ্যায় অতিরিক্ত স্ক্রিনের নীল আলো এই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াকে ব্যাহত করতে পারে।

এ ছাড়া গবেষকদের মতে, প্রকৃতির মনোরম পরিবেশ ও সূর্যাস্তের সৌন্দর্য মানুষের চিন্তাশক্তি বিকাশ, সৃজনশীলতা বৃদ্ধি এবং সহমর্মিতা ও পরোপকারের মানসিকতা গড়ে তুলতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ, সুস্থ মন ও শরীরের জন্য প্রতিদিন অন্তত কিছু সময় প্রকৃতির সান্নিধ্যে থেকে সূর্যাস্ত উপভোগ করার অভ্যাস গড়ে তোলা উপকারী হতে পারে।

এসআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন