ভিটামিন ‘এ’ (Vitamin A) আমাদের শরীরের জন্য একটি অত্যন্ত প্রয়োজনীয় চর্বিতে দ্রবণীয় (fat-soluble) ভিটামিন। শরীর নিজে এটি তৈরি করতে পারে না, তাই খাবার বা সাপ্লিমেন্টের মাধ্যমে এটি গ্রহণ করতে হয়। নিচে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের উপকারিতা, ডোজ, উৎস এবং পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করা হলো—
প্রধান উপকারিতা
* এটি দৃষ্টিশক্তি ভালো রাখে। এটি চোখের রেটিনাকে সুস্থ রাখে এবং রাতকানা (Night Blindness) রোগ প্রতিরোধ করে।
* শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বা ইমিউন সিস্টেমকে শক্তিশালী করে, যা বিভিন্ন সংক্রমণ ও ভাইরাসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে।
* ত্বক মসৃণ ও সুস্থ রাখতে এবং শরীরের টিস্যু ও কোষের স্বাভাবিক বৃদ্ধিতে এটি ভূমিকা রাখে।
* গর্ভস্থ শিশুর অঙ্গপ্রত্যঙ্গের স্বাভাবিক গঠনে এটি সাহায্য করে (তবে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নির্দিষ্ট মাত্রায়)।
ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল ক্যাম্পেইন
দেশে সাধারণত ছয় মাস থেকে পাঁচ বছর বয়সি শিশুদের জন্য বছরে দুবার জাতীয় ভিটামিন ‘এ’ প্লাস ক্যাম্পেইন পরিচালনা করা হয়—
* ৬ থেকে ১১ মাস বয়সি শিশু : একটি *নীল রঙের* ক্যাপসুল (এক লাখ আইইউ)।
* ১২ থেকে ৫৯ মাস (১-৫ বছর) বয়সি শিশু : একটি লাল রঙের ক্যাপসুল (দু লাখ আইইউ)।
সতর্কতা : শিশুদের খালি পেটে ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খাওয়ানো উচিত নয়। ভরা পেটে খাওয়ানো ভালো।
প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য ভিটামিন ‘এ’-এর ডোজ
সাধারণত একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের প্রতিদিনের ভিটামিন ‘এ’-এর চাহিদা খাবার থেকেই পূরণ হয়ে যায়। তবে শরীরে তীব্র ঘাটতি থাকলে চিকিৎসকরা ক্যাপসুল প্রেসক্রাইব করে থাকেন। পুরুষদের জন্য দৈনিক চাহিদা প্রায় ৯০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg) RAE । নারীদের জন্য দৈনিক চাহিদা প্রায় ৭০০ মাইক্রোগ্রাম (mcg) RAE।
অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ গ্রহণের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া
ভিটামিন ‘এ’ যেহেতু লিভারে জমা থাকে, তাই চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে উচ্চমাত্রার ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুল খেলে শরীরে এর বিষাক্ততা (Hypervitaminosis A) দেখা দিতে পারে। এর লক্ষণগুলো হলো—
* মাথাব্যথা এবং বমি বমি ভাব।
* ত্বক খসখসে হয়ে যাওয়া বা চামড়া ওঠা।
* লিভারের ক্ষতি হওয়া।
* গর্ভবতী মায়েরা অতিরিক্ত ভিটামিন ‘এ’ খেলে গর্ভস্থ শিশুর জন্মগত ত্রুটি হতে পারে।
বাচ্চাদের জন্য ভিটামিন ‘এ’ ক্যাপসুলের ডোজ মূলত তাদের বয়সের ওপর নির্ভর করে।
খাওয়ানোর নিয়ম সতর্কতা
খালি পেটে খাওয়াবেন না । বাচ্চাকে অবশ্যই ভরা পেটে (কিছু খাওয়ানোর পর) ক্যাপসুলটি খাওয়াতে হবে। খালি পেটে খাওয়ালে বমি বমি ভাব হতে পারে।
* ছোট বাচ্চাদের কখনোই আস্ত ক্যাপসুল গিলতে দেবেন না। ক্যাপসুলের মুখটি কাঁচি দিয়ে কেটে ভেতরের তরল ওষুধটুকু বাচ্চার মুখে চেপে খাইয়ে দিতে হবে।
* বাচ্চা যদি তীব্র ডায়রিয়া, নিউমোনিয়া বা অন্য কোনো মারাত্মক রোগে আক্রান্ত থাকে, তবে সুস্থ হওয়ার পর চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী এটি খাওয়ানো ভালো।
* যদি সরকারি ক্যাম্পেইনের দিন কোনো কারণে বাচ্চা বাদ পড়ে যায়, তবে নিকটস্থ টিকাদান কেন্দ্র বা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যোগাযোগ করে তাকে ডোজটি দিয়ে দেওয়া যায়।
বিশেষ দ্রষ্টব্য : এই উচ্চমাত্রার (High Dose) ক্যাপসুলগুলো শুধু নির্দিষ্ট সময় পর পর সরকারি নিয়মে বা চিকিৎসকের পরামর্শেই খাওয়ানো উচিত। নিজে থেকে ফার্মেসি থেকে কিনে ঘন ঘন বাচ্চাদের এই ক্যাপসুল খাওয়ানো একদমই ঠিক নয়।
লেখক : সহযোগী অধ্যাপক, পালমনোলজি বিভাগ
বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউট
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

