মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর সমাধান নিশ্চিত করতে সমন্বিত উদ্যোগ, গবেষণা এবং আধুনিক প্রযুক্তি উদ্ভাবনের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন। তিনি বলেছেন, মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে কোনো একক কার্যকর পদ্ধতি নেই; বরং গবেষণাভিত্তিক প্রযুক্তি, বহুমুখী কৌশল এবং সংশ্লিষ্ট সব অংশীজনের সমন্বিত প্রচেষ্টার মাধ্যমেই এ ধরনের রোগ কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব।
বুধবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সভাকক্ষে ‘মশক নিধনে গবেষণা ও প্রযুক্তি উদ্ভাবন’ বিষয়ক শোকেসিং পর্যালোচনা উপলক্ষে আয়োজিত আন্তঃমন্ত্রণালয় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সচিব বলেন, গবেষণায় সফলতা অর্জনের জন্য গবেষকদের দৃঢ় অঙ্গীকার, নিষ্ঠা এবং লক্ষ্যভিত্তিক কর্মপরিকল্পনা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। একটি সুস্পষ্ট বৈজ্ঞানিক লক্ষ্য নির্ধারণ করে গবেষণা পরিচালনা করা হলে বাস্তবসম্মত ও কার্যকর ফলাফল অর্জন সম্ভব বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি মশার জীবনচক্রের বিভিন্ন পর্যায়ে কার্যকর হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করতে আধুনিক ও উদ্ভাবনী প্রযুক্তি উদ্ভাবনের আহ্বান জানান। পাশাপাশি গবেষণায় উদ্ভাবিত সম্ভাবনাময় প্রযুক্তিগুলো যাচাই-বাছাই করে পর্যায়ক্রমে পাইলট প্রকল্পের মাধ্যমে মাঠপর্যায়ে পরীক্ষার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
সভায় অংশগ্রহণকারী গবেষক ও বিশেষজ্ঞরা মশাবাহিত রোগ নিয়ন্ত্রণে সমন্বিত (মাল্টি-অ্যাপ্রোচ) কৌশল গ্রহণের প্রয়োজনীয়তার ওপর মতামত দেন। এ সময় কার্যকর মশক নিধনে সম্ভাব্য নতুন প্রযুক্তি, চলমান গবেষণার অগ্রগতি এবং বিভিন্ন উদ্ভাবনী ধারণা নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা ও বিস্তারিত আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়।
সভায় বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মুহম্মদ আশরাফ আলী ফারুক, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন, আইসিডিডিআরবি এবং আইইডিসিআরের অধ্যাপক ও গবেষকরা অংশ নেন। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন প্রবাসী বাংলাদেশি গবেষক ড. মুর্শিদা খান। সভায় স্থানীয় সরকার বিভাগ এবং ঢাকা উত্তর ও ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের প্রতিনিধিরাও উপস্থিত ছিলেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

