ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের এবং ভাইস প্রেসিডেন্ট ফাতিমা তাসনিম জুমা প্রতিষ্ঠানটি থেকে পদত্যাগ করেছেন। একই সঙ্গে কালচারাল সেন্টারটিকে এর প্রতিষ্ঠাতা শহীদ ওসমান হাদির ওয়ারিশদের (উত্তরাধিকারীদের) নিকট হস্তান্তরের আনুষ্ঠানিক সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে।
বুধবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে পৃথক দুটি বিবৃতির মাধ্যমে তারা এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
বিবৃতিতে প্রতিষ্ঠাকালীন নির্বাহী পরিচালক ও বর্তমান চেয়ারম্যান আব্দুল্লাহ আল জাবের জানান, শহীদ ওসমান হাদি শাহাদাতের পূর্বে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের ট্রাস্ট গঠনের উদ্যোগ নিলেও তা শেষ করে যেতে পারেননি। প্রতিষ্ঠানটি শুরু থেকেই 'জনতার আমানত' হিসেবে পরিচিত ছিল। হাদির শাহাদাতের পর বিগত ছয় মাস ধরে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত জটিলতা সমাধানের চেষ্টা করা হলেও সম্প্রতি বিষয়টি আরও জটিল রূপ ধারণ করেছে।
জাবের আরও উল্লেখ করেন, আল্লাহ তাআলা শহীদ ওসমান হাদীকে যে সম্মান দিয়েছেন, সেই সম্মানের স্বার্থে, তাঁর ওয়ারিশদের দাবির প্রেক্ষিতে এবং সমস্ত দলিল-দস্তাবেজের ভিত্তিতে ইনকিলাব কালচারাল সেন্টার দাবিকারীদের নিকট হস্তান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিজের দায়িত্বকালীন আর্থিক স্বচ্ছতার বিষয়ে তিনি জানান, শহীদ ওসমান হাদির শাহাদাতের পর ঢাকা-৮ ও সেন্টারসহ সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকায়, সেই সংক্রান্ত হিসাব ব্যতীত অন্য সব হিসাব দ্রুততম সময়ে জনসমক্ষে (পাবলিক) প্রকাশ করা হবে। এর মাধ্যমেই ইনকিলাব কালচারাল সেন্টারের সঙ্গে তাঁর যাত্রার সমাপ্তি ঘটছে বলে তিনি জানান।
অপপ্রচার ও মানসিক চাপের মুখে জুমার পদত্যাগ!
এদিকে সংগঠনটির বর্তমান ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রতিষ্ঠাকালীন সদস্য ফাতিমা তাসনিম জুমা তাঁর পোস্টে জুলাই-পরবর্তী রাজনৈতিক প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে এই 'বাংলাদেশপন্থী' কালচারাল সেন্টারে যুক্ত হওয়ার স্মৃতিচারণ করেন। তিনি জানান, সাম্প্রতিক সময়ে ওয়ারিশ-সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে নানাবিধ অপপ্রচার ও মানহানিকর মন্তব্য ছড়ানো হয়েছে, যা তাঁর পরিবারকে মানসিক কষ্টের মুখোমুখি করেছে।
পদত্যাগের কারণ ও ক্ষোভ প্রকাশ করে জুমা বলেন, আমি মনে করি না, নিজের বাবা-মায়ের টাকায় চলে এই ধরনের বোঝা বহন করার কোনো অধিকার আমার আছে। আমার বাবা-মা অন্তত এসব দেখা ডিজার্ভ করেন না।
আর্থিক হিসাবের বিষয়ে জাবেরের সুরেই জুমা জানান যে, হাদির শাহাদাতের পূর্বের সব অ্যাকাউন্ট ফ্রিজ থাকার পর থেকে তাঁর দায়িত্বকালীন সময়ের সব আর্থিক হিসাব দ্রুততম সময়ে পাবলিক করা হবে।
পদত্যাগ করলেও সাংস্কৃতিক লড়াই চালিয়ে যাওয়ার প্রত্যয় ব্যক্ত করে তিনি বলেন, লড়াইটা আমাদের নিকট মূখ্য। লড়াই চলবে অন্য কোনো মাধ্যমে, অন্য কোনো উপায়ে। জিতটাই কেবল জীবন নয়, লড়াইটাই জীবন। আগামীতে ইনকিলাব মঞ্চ জনগণের এই বিশ্বাসের দায় রক্ষা করবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
এসআর
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

