ছাত্র-জনতা জুলাই ছাত্র-গণঅভ্যুত্থানকে নাম দিয়েছে দ্বিতীয় স্বাধীনতা বা ‘৩৬ জুলাই’। সফল এই আন্দোলন দ্বিতীয় বর্ষ পূর্ণ করেছে। চব্বিশের এই ৩৬ দিনের আন্দোলনে সারা দেশে সৃষ্টি হয়েছিল অবিস্মরণীয় এক গণজোয়ার, এক স্বতঃস্ফূর্ত গণঅভ্যুত্থান। এর মাধ্যমে অবসান ঘটে আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের একচ্ছত্র স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদী শাসনের।
ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতন হয় এবং তিনি ভারতে পালিয়ে যান। মূলত ৫ জুন উচ্চ আদালত কর্তৃক সরকারি চাকরিতে কোটা পুনর্বহালের রায়ের পর সাধারণ শিক্ষার্থীরা বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ব্যানারে মাঠে নামে। কিন্তু শেখ হাসিনা সরকারের দমন-পীড়ন, ইন্টারনেট ব্ল্যাকআউট এবং নজিরবিহীন গণহত্যার মুখে সাধারণ মানুষের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে আন্দোলন এক ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থানে রূপ নেয়।
কোটাবিরোধী আন্দোলনের সূচনা হয়েছিল ২০১৮ সালে। ছাত্রদের আন্দোলনের মুখে কোটাপ্রথা বাতিল করা হয়েছিল। কিন্তু ২০২৪ সালের ৫ জুন হাইকোর্টের রায়ে কোটা পুনর্বহাল করলে শিক্ষার্থীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে ওঠে। জুলাইয়ের শুরু থেকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়সহ দেশের বিভিন্ন ক্যাম্পাসে শুরু হয় শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভ ও ‘বাংলা ব্লকেড’ কর্মসূচি। ১৪ জুলাই এই আন্দোলনে ঘি ঢালেন স্বয়ং শেখ হাসিনা। আন্দোলনকারীদের তিনি ‘রাজাকারের বাচ্চা’, ‘রাজাকারের নাতিপুতি’ বলে গালমন্দ করেন। তার এই ‘রাজাকার’ মন্তব্য শিক্ষার্থীদের তীব্রভাবে আঘাত করে এবং ওই রাতেই ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা স্লোগান তোলে—‘তুমি কে, আমি কেÑরাজাকার রাজাকার’/‘কে বলেছে, কে বলেছে, স্বৈরাচার স্বৈরাচার।’
১৫ জুলাই ২০২৪ ক্যাম্পাসে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের ওপর শাসক দলের ছাত্রসংগঠন ছাত্রলীগ ও বহিরাগত গুন্ডাবাহিনী চড়াও হয় এবং রড, লাঠিসোঁটা নিয়ে নৃশংস হামলা চালায়। পরের দিন ১৬ জুলাই আন্দোলনের গতিপথ বদলে যায়। রংপুরের বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র আবু সাঈদ দুই হাত প্রসারিত করে পুলিশের বন্দুকের সামনে বুক পেতে দিলে পুলিশ নির্মম ও নিষ্ঠুরভাবে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করে। তার শাহাদতবরণের এই ভিডিও মুহূর্তের মধ্যে ভাইরাল হয়। আন্দোলন স্ফুলিঙ্গের মতো পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। ১৬ জুলাইয়ের পর সারা দেশে স্কুল-কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ ঘোষণা করা হয়। এর জবাবে শিক্ষার্থীরা ১৮ জুলাই দেশব্যাপী ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচি ঘোষণা করে।
উত্তরায় আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের পানি পান করানোর জন্য ‘পানি লাগবে কারো পানি?’ স্লোগান দিতে দিতে মীর মুগ্ধ পানির বোতল নিয়ে এগিয়ে এলে পুলিশের গুলিতে নির্মমভাবে হত্যার শিকার হন। তেমনি চট্টগ্রামে নিষ্ঠুরভাবে হত্যা করা হয় ওয়াসিমকে। আন্দোলন দমাতে সরকার সব ধরনের ইন্টারনেট বন্ধ (ব্ল্যাকআউট) করে দেয়। নামানো হয় বিজিবি ও সেনাবাহিনী। জারি করা হয় কারফিউ। আন্দোলনের প্রথমদিকে ছাত্রদের ৯ দফা থাকলেও শেখ হাসিনার ব্যাপক হত্যাযজ্ঞের পর ৩ আগস্ট কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এক দফাÑঅর্থাৎ শেখ হাসিনার পদত্যাগের ঘোষণা দেয়। ৪ আগস্ট থেকে সারা দেশে অসহযোগ আন্দোলন শুরু হয়ে যায়। রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশ রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। ছাত্র-জনতা ৫ আগস্ট ‘মার্চ টু ঢাকা’ কর্মসূচির ডাক দিলে সৃষ্টি হয় অভূতপূর্ব গণজোয়ার। অবস্থা বেগতিক দেখে শেখ হাসিনা পদত্যাগ করে সামরিক বিমানে করে ভারতে পালিয়ে যান। তার এই পলায়নে সহযোগিতা করে ভারতের স্বয়ং মোদি সরকার এবং তাদের গোয়েন্দা বাহিনী ‘র’। বাংলাদেশ দ্বিতীয় স্বাধীনতা লাভ করে ৩৬ জুলাইয়ের এই আন্দোলনে।
ইতিহাস বদলে দিতে তরুণদের একটি স্ফুলিঙ্গই যে যথেষ্টÑতার সবচেয়ে বড় প্রমাণ চব্বিশের জুলাই গণঅভ্যুত্থান। শাসকের বন্দুকের নল বনাম সাধারণ শিক্ষার্থীদের খালি বুকÑএই অসম লড়াইয়ে শেষ পর্যন্ত বিজয় হয়েছে ন্যায়ের। প্রায় ১৪০০ ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ এবং ২৫ হাজার মানুষের পঙ্গুত্বের বিনিময়ে অর্জিত হয় দ্বিতীয় স্বাধীনতা। জুলাইয়ের তপ্ত দিনগুলোয় কীভাবে একাত্ম হয়েছিল পুরো বাংলাদেশ এবং কীভাবে ছাত্র-জনতা মিলে উপড়ে ফেলল স্বৈরাচারের শক্ত ভিতÑসেটাই আজ অবিস্মরণীয় জুলাই বিপ্লবের ইতিহাস হিসেবে লেখা হয়ে গেছে।
জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার
৩৬ জুলাই স্মরণে শনিবার রাজধানীর চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘জুলাই জাতীয় সম্মেলন-২০২৬’-এ বক্তব্য দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের মাটিতে অবশ্যই জুলাইয়ের সব হত্যাকাণ্ডের বিচার হবে। তিনি বলেন, আইনের সব নিয়ম বজায় রেখে, প্রয়োজনে কিছুটা সময় নিয়ে হলেও প্রকৃত অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা হবে। এমন বিচার হতে হবে, যেন শহীদের আত্মা শান্তি পায়। তিনি প্রতিশোধের রাজনীতি পরিহার করে দীর্ঘ স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন ও জুলাইয়ের ত্যাগ থেকে অনুপ্রেরণা নিয়ে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।
নিজের মরহুম মা সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কথা স্মরণ করে তারেক রহমান বলেন, অন্যায়-অবিচারের প্রতিশোধ নেওয়ার চেয়ে দেশকে এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ করাই এখন তার প্রধান দায়িত্ব। তিনি জানান, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে শহীদ ও আহতদের যথাযথ মূল্যায়ন, দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসা এবং পূর্ণাঙ্গ পুনর্বাসন করাকে তার সরকার পবিত্র দায়িত্ব হিসেবে মনে করে। তিনি জুলাইয়ের শহীদ পরিবার ও আহত জুলাইযোদ্ধাদের হাতে জুলাই স্মৃতি স্মারক তুলে দেন।
খালেদা জিয়ার আদর্শ ও উদারতার কথা
জুলাই জাতীয় সম্মেলনে তারেক রহমান তার মায়ের উদারতার কথা সবাইকে স্মরণ করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘এই অনুষ্ঠান চলাকালে আমি বারবার ভাবছিলাম, এই মুহূর্তে যদি আমি আমার মাকে জিজ্ঞেস করতে পারতামÑমা, গত ১৭ বছরে আপনার ওপর যে অন্যায় ও অত্যাচার হয়েছে, আপনি কি চান আমি এসবের প্রতিশোধ নিই? আমার বিশ্বাস, মা বলতেনÑএই মুহূর্তে তোমার কাজ সকলকে ঐক্যবদ্ধ করে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া।’
এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, তার মা বেগম খালেদা জিয়া নিজের জীবনের সব কষ্ট এবং অন্যায়ের বিপরীতে কখনো প্রতিশোধের কথা ভাবতেন না। দেশের স্বার্থে এবং শহীদদের স্বপ্নপূরণে সবাইকে সঙ্গে নিয়ে একতাবদ্ধভাবে কাজ করাই যে এখন তার প্রধান দায়িত্ব, মায়ের আদর্শ থেকে তিনি সেই শিক্ষাই পেয়েছেন। মায়ের পাশাপাশি ছোট ভাই আরাফাত রহমান কোকোর কথাও স্মরণ করেন তিনি। বলেন, বেঁচে থাকলে তার ভাইও প্রতিশোধের চেয়ে দেশ গড়ার কাজেই বেশি মনোযোগ দিতে বলতেন। তারেক রহমান স্পষ্ট করে জানান, স্বৈরাচারের আমল থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলন পর্যন্ত যে লাখ লাখ মানুষ শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন এবং কষ্টের শিকার হয়েছেন, ঠিক একই রকম কষ্ট ও ক্ষত তিনি এবং তার মা জীবনভর বয়ে বেড়াচ্ছেন। তাই নিজেরা ভুক্তভোগী হয়েও তারা চান না যে বিচারের নামে নতুন কোনো অন্যায় বা প্রতিশোধের রাজনীতি দেশে চলুক।
আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে শেখ হাসিনার মুখোশ
শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল নিয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে অসংখ্য অনুসন্ধানী ও বিশ্লেষণমূলক রিপোর্ট প্রকাশিত এবং প্রচারিত হয়েছে। এসব রিপোর্টে শেখ হাসিনাকে একজন নিষ্ঠুর একনায়ক বা স্বৈরাচার হিসেবে চিত্রায়িত করা হয় এবং চব্বিশের জুলাইয়ের হত্যাকাণ্ডকে শেখ হাসিনার ‘মানবতাবিরোধী অপরাধ’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
বিবিসির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, শেখ হাসিনার ১৫ বছরে বাংলাদেশে কোনো নাগরিকের মুক্তমত প্রকাশের স্বাধীনতা ছিল না, ভিন্নমতাবলম্বীদের গুম এবং নির্বাচনি ব্যবস্থাকে পুরোপুরি ধ্বংস করা হয়েছিল। ‘দ্য ব্যাটল ফর বাংলাদেশ : ফল অব শেখ হাসিনা’ শীর্ষক বিবিসি আইয়ের রিপোর্টে বলা হয়, চব্বিশের জুলাই-আগস্টে শেখ হাসিনার প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহারের নির্দেশ ও হত্যাকাণ্ড ছিল নিষ্ঠুরতার প্রমাণ। বিবিসি এ সম্পর্কিত অডিও ফাঁস করে। এতে যাত্রাবাড়ীসহ বিভিন্ন স্থানে পুলিশের নির্বিচার গুলি এবং রাষ্ট্রীয়ভাবে পরিকল্পিত গণহত্যার চিত্র তুলে ধরা হয়।
নিউ ইয়র্ক টাইমসের এক অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার শেষ মুহূর্তের নাটকীয় পলায়নের বিবরণ তুলে ধরা হয়। সেখানে বলা হয়, লাখো মানুষের ক্ষুব্ধ মিছিল যখন গণভবনের দিকে ধেয়ে আসছিল, তখন পরিবারের সদস্যদের পরামর্শে ও জীবন বাঁচাতে তিনি পদত্যাগ করে সামরিক বিমানে ভারতে পালিয়ে যান।
আলজাজিরা তাদের অনুসন্ধানী ও ভিডিও প্রতিবেদনে শেখ হাসিনার দমন-পীড়নকে নজিরবিহীন নৃশংসতা বলে আখ্যা দেয়। এতে মন্তব্য করা হয়, শান্তিকামী সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশ ও আওয়ামী ক্যাডার বাহিনী লেলিয়ে দেওয়া এবং বুলেটের মাধ্যমে ক্ষমতা টিকিয়ে রাখার মরিয়া শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকে দেয়।
ব্রিটিশ ম্যাগাজিন দ্য ইকোনমিস্ট শেখ হাসিনাকে এশিয়ার ‘সবচেয়ে নির্মম একনায়ক’ হিসেবে আখ্যায়িত করে। ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা রাষ্ট্রীয় প্রতিটি প্রতিষ্ঠানÑবিশেষ করে পুলিশ, বিচার বিভাগ এবং নির্বাচন কমিশনকে সম্পূর্ণ নিজের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে একটি ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কায়েম করেছিলেন। তবে বাংলাদেশের সাধারণ ‘জেন-জি’ প্রজন্ম বুলেটের ভয়কে জয় করে তার অহংকার চূর্ণ করে দিয়েছে।
আন্তর্জাতিক ম্যাগাজিন দ্য ডিপ্লোমেটের প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনা নিজেই নিরাপত্তা বাহিনীকে নির্দেশ দিয়েছিলেন যেন বিক্ষোভের মূল সমন্বয়কদের হত্যা করে লাশ গুম করে ফেলা হয়।
রয়টার্স ও এএফপি আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা এবং জাতিসংঘের রিপোর্টের বরাত দিয়ে নিয়মিত বিশ্ববাসীকে জানায়, প্রায় ১৪০০ মানুষকে হত্যা করে চালানো শেখ হাসিনার এই দমন-পীড়ন ছিল আধুনিক ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ রাষ্ট্রীয় গণহত্যা। রিপোর্টে তথ্যপ্রমাণ দিয়ে নিশ্চিত করা হয় যে, শেখ হাসিনার নির্দেশেই পুলিশ পয়েন্ট ব্ল্যাংক রেঞ্জ থেকে বিক্ষোভকারীদের ওপর প্রাণঘাতী গুলি চালিয়েছে।
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনের বিশেষ ফ্যাক্ট-ফাইন্ডিং রিপোর্টে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকার সুপরিকল্পিতভাবে মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে ১২ থেকে ১৩ শতাংশই ছিল নিষ্পাপ শিশু। ক্ষমতার দম্ভ এবং তথাকথিত ‘লাইসেন্স টু কিল’ মানসিকতার কারণেই আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইসিটি শেখ হাসিনাকে মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সর্বোচ্চ শাস্তি প্রদান করেছে।
সামগ্রিকভাবে বিশ্ব গণমাধ্যমের চোখে শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনকাল ছিল একটি গণতন্ত্রহীন অন্ধকার অধ্যায়, যা নিজের জনগণের ওপর চালানো এক নির্মম গণহত্যার মধ্য দিয়ে সমাপ্ত হয়। এত বড় নিষ্ঠুরতার পরও শেখ হাসিনার কিংবা আওয়ামী লীগের নেতাদের কোনো অনুশোচনা নেই। ভারতের দয়ায় বর্তমানে দিল্লিতে অবস্থান করছেন শেখ হাসিনা। সেখানে পালিয়ে গিয়ে তিনি এখন ভারতের আশ্রিতা। কিন্তু তার দম্ভ এবং অহংকার এখনো চুল পরিমাণও কমেনি। তেমনি আওয়ামী লীগের অন্য পলাতক নেতাদের আস্ফালনও মানুষ দেখছে।
দেশে এত দিন আওয়ামী লীগের যেসব নেতা চুপচাপ ছিলেন, তারাও গলা তুলছে। ফ্যাসিস্টদের সহযোগী কিছু সাংবাদিকও আওয়াজ তোলা শুরু করেছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ ইতোমধ্যে বলেছেন, আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক অধ্যায় সম্পূর্ণ শেষ হয়ে গেছে। এই দল রাজনৈতিকভাবে দাফন হয়ে গেছে এবং দলটি দেশে আর কোনো দিন রাজনীতি করতে পারবে না। জুলাই অভ্যুত্থানে এত বড় গণহত্যাকাণ্ড চালানোর পরও শেখ হাসিনার কিংবা দলটির নেতাদের মধ্যে কোনো অনুশোচনা ও দোষ স্বীকারের মানসিকতা নেই। শেখ হাসিনার অপরাধ ক্ষমার অযোগ্য। তেমনি দল হিসেবে আওয়ামী লীগের কার্যক্রমও এখন নিষিদ্ধ। দল হিসেবে আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হবে কি নাÑতা আদালতই ঠিক করবে। যেমন শেখ হাসিনার ক্ষমা নেই, তেমনি দল হিসেবে আওয়ামী লীগকেও দেশের মানুষ ক্ষমা করবে না।
লেখক : বর্তমান সরকারের প্রধান তথ্য কর্মকর্তা ও সাবেক সাধারণ সম্পাদক, জাতীয় প্রেস ক্লাব
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


