নরওয়ের বিপক্ষে বিশ্বকাপ কোয়ার্টার ফাইনালে জোড়া গোল করে ইংল্যান্ডকে সেমিফাইনালে তুলেছেন জুড বেলিংহ্যাম। ম্যাচের নায়ক হওয়ার পরও ব্যক্তিগত অর্জনের চেয়ে দলীয় লড়াই ও সতীর্থদের আত্মত্যাগকেই সামনে আনলেন রিয়াল মাদ্রিদের এই মিডফিল্ডার। তার ভাষায়, ইংল্যান্ডের এই জয় একজনের নয়, পুরো দলের এবং পুরো দেশের।
মায়ামিতে অনুষ্ঠিত কোয়ার্টার ফাইনালে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়েছিল ইংল্যান্ড। তবে বিরতির ঠিক আগে সমতায় ফেরান বেলিংহ্যাম। এরপর অতিরিক্ত সময়ের শুরুতেই নিজের দ্বিতীয় গোল করে দলকে ২-১ ব্যবধানে জয় এনে দেন তিনি। এই জয়ে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে জায়গা নিশ্চিত করেছে থ্রি লায়ন্স।
ম্যাচ শেষে আবেগঘন প্রতিক্রিয়ায় বেলিংহ্যাম বলেন, ‘চরিত্র, অধ্যবসায় ঠিকমতো না চললেও আমরা আবারও জয়ের পথ খুঁজে নিয়েছি। ৯০ মিনিট হোক বা ১২০ মিনিট, আমাদের যা কিছু আছে, সবকিছু আমরা মাঠে উজাড় করে দেব। আপনারা দেখেছেন, যারা বদলি হিসেবে নেমেছে, তারাও দারুণ প্রভাব ফেলেছে। এই দলকে নিয়ে আমি ভীষণ গর্বিত। বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে ওঠা অসাধারণ অনুভূতি।’
ম্যাচসেরা হওয়ার পরও নিজের সাফল্য নিয়ে খুব বেশি কথা বলতে চাননি বেলিংহ্যাম। বরং তিনি বলেন, এই জয় পুরো ইংল্যান্ডের মানুষের। তার ভাষ্য, ‘এটা সবার জয়। পুরো দেশ আমাদের সমর্থন করছে। এখানে থাকা সব খেলোয়াড়, কোচিং স্টাফ এবং দলের সঙ্গে কাজ করা প্রত্যেকের কৃতিত্ব আছে। সবাই অসাধারণ পরিশ্রম করেছে।’
ইংল্যান্ড কোচ টমাস টুখেল ম্যাচ শেষে দলের পারফরম্যান্স নিয়ে কঠোর সমালোচনা করেছিলেন। তিনি বলেছিলেন, ইংল্যান্ড ছিল ‘এলোমেলো’ এবং ‘ভাগ্যবান’। সাংবাদিকরা সেই মন্তব্যের প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে বেলিংহ্যাম খুব সংক্ষিপ্ত উত্তর দেন, ‘হ্যাঁ... যাই হোক। ওই পরিস্থিতিতে খেলাটা কতটা কঠিন ছিল, সেটা যারা মাঠে ছিল তারাই জানে। আমার সম্মান আর কৃতজ্ঞতা তাদের জন্য, যারা মাঠে নেমে আবারও সর্বস্ব দিয়ে লড়েছে।’
নরওয়ের শক্তিশালী আক্রমণভাগের বিপক্ষে খেলাকে বিশেষ চ্যালেঞ্জিং বলেও উল্লেখ করেন বেলিংহ্যাম। আর্লিং হালান্ড, মার্টিন ওদেগার্ড, আন্তোনিও নুসা ও আলেকজান্ডার সোরলোথদের বিপক্ষে খেলতে শারীরিক ও মানসিক দুই দিক থেকেই সর্বোচ্চটা দিতে হয়েছে বলে জানান তিনি। তার ভাষ্য, ‘হয়তো বাইরে থেকে বোঝা কঠিন, কিন্তু এমন আবহাওয়া আর এমন প্রতিপক্ষের বিপক্ষে খেলা সহজ নয়। আমাদের বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে।’
ম্যাচে অভিষিক্ত বা তুলনামূলক কম অভিজ্ঞ কয়েকজন সতীর্থের ভূয়সী প্রশংসাও করেন বেলিংহ্যাম। বিশেষ করে এলিয়ট অ্যান্ডারসন, ড্যান বার্ন এবং ডিজেড স্পেন্সের নাম উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের খেলায় অভিজ্ঞতার কোনো ঘাটতি চোখে পড়েনি, ‘তারা ছিল সত্যিকারের যোদ্ধা। দেখে মনে হয়নি তারা নতুন। তিনজনই সর্বোচ্চ মানের ফুটবল খেলেছে। প্রতিভা থাকাটা এক বিষয়, কিন্তু কঠিন সময়ে কার কতটা হৃদয় আর মানসিক শক্তি আছে, সেটাই আসল।’
এই বিশ্বকাপে ইতোমধ্যে ছয় গোল করে অধিনায়ক হ্যারি কেইনের সমান গোল করেছেন বেলিংহ্যাম। তবে ব্যক্তিগত পরিসংখ্যান নিয়ে ভাবার সময় এখন নয় বলেই মনে করেন তিনি। তার কাছে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো দলকে আরো এক ধাপ এগিয়ে নেওয়া, ‘আমরা এখনো কাজ শেষ করিনি। সেমিফাইনালে উঠেছি, কিন্তু আমাদের লক্ষ্য আরো বড়। এখন আমাদের বিশ্রাম নিতে হবে, নিজেদের প্রস্তুত করতে হবে এবং আবারও একই মানসিকতা নিয়ে মাঠে নামতে হবে।’
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

