নরওয়েকে হারিয়েও খুশি নন টুখেল

স্পোর্টস ডেস্ক

নরওয়েকে হারিয়েও খুশি নন টুখেল

বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে উঠেছে ইংল্যান্ড। কিন্তু জয় উদযাপনের চেয়ে নিজের দলের পারফরম্যান্স নিয়েই বেশি কথা বললেন প্রধান কোচ টমাস টুখেল। নরওয়ের বিপক্ষে ২-১ গোলের নাটকীয় জয়ের পর সংবাদ সম্মেলনে তিনি অকপটে স্বীকার করেছেন, ইংল্যান্ড ভাগ্যের সহায়তা পেয়েছে এবং এমন পারফরম্যান্স নিয়ে সামনে এগোনো সম্ভব নয়।

মায়ামির তীব্র গরম ও আর্দ্র আবহাওয়ায় খেলতে নেমে প্রথমার্ধে পিছিয়ে পড়ে ইংল্যান্ড। পরে জুড বেলিংহ্যামের জোড়া গোলে অতিরিক্ত সময়ে জয় তুলে নিয়ে শেষ চারে জায়গা নিশ্চিত করে থ্রি লায়ন্স। তবে ম্যাচ শেষে টুখেলের মুখে ছিল আত্মসমালোচনার সুর। ইংল্যান্ড কোচ বলেন, ‘আজ আমরা নিজেরাই নিজেদের খুব কঠিন করে তুলেছি। আমি পারফরম্যান্সে খুশি নই। কোনো দিক থেকেই খুশি নই। আমরা এলোমেলো খেলেছি, অনেক ভুল করেছি এবং সত্যি বলতে কিছুটা ভাগ্যও আমাদের পক্ষে ছিল।’

বিজ্ঞাপন

টুখেলের মতে, জয় গুরুত্বপূর্ণ হলেও দলের খেলায় যে অসংখ্য ত্রুটি ছিল, সেগুলো আড়াল করার সুযোগ নেই। বিশেষ করে বলের দখল, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং রক্ষণভাগের ভুল নিয়ে তিনি হতাশ। এ প্রসঙ্গে ইংলিশ কোচ বলেন, ‘আমরা খুব সহজে বল হারিয়েছি। অপ্রয়োজনীয় ভুল করেছি। ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারিনি। এমন অনেক মুহূর্ত ছিল, যেখানে আমরা নিজেদের মানের ধারেকাছেও ছিলাম না।’

তবে হতাশার মাঝেও তিনি একটি দিক নিয়ে সন্তুষ্ট। দলের লড়াই করার মানসিকতায় দারুণ খুশি টুখেল, ‘ছেলেরা কখনো হাল ছাড়েনি। তারা শেষ পর্যন্ত বিশ্বাস রেখেছে। এই মানসিক শক্তিটাই আমাদের ম্যাচে ফিরিয়েছে। কিন্তু শুধু মানসিকতা দিয়ে সব সময় ম্যাচ জেতা যাবে না। আমাদের ফুটবলও ভালো খেলতে হবে।’

ম্যাচের নায়ক জুড বেলিংহ্যামকে আলাদা করে প্রশংসা করতে ভোলেননি টুখেল। ইংল্যান্ডের কোচের মতে, কঠিন সময়ে বিশ্বমানের খেলোয়াড়রাই পার্থক্য গড়ে দেন এবং বেলিংহ্যাম সেটিই করেছেন। এই তরুণকে নিয়ে টুখেল বলেন, ‘জুড অসাধারণ। বড় ম্যাচে বড় খেলোয়াড়রা যেভাবে দায়িত্ব নেয়, সে ঠিক সেটাই করেছে। কিন্তু আমরা বারবার একজন খেলোয়াড়ের ওপর নির্ভর করতে পারি না। দল হিসেবে আমাদের আরো ভালো হতে হবে।’

প্রথমার্ধে ইংল্যান্ডের ছন্দহীন পারফরম্যান্সের সময় টুখেলকে টাচলাইনে ক্ষুব্ধ দেখা যায়। বিশেষ করে ডান প্রান্তে ননি মাদুয়েকের অবস্থান ও গতিশীলতা নিয়ে তিনি অসন্তুষ্ট ছিলেন। বিরতির আগেই কয়েকবার নির্দেশনা দিলেও কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন না আসায় দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই বদলি নামান বুকায়ো সাকাকে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি ইঙ্গিত দেন, কৌশলগত দিক থেকেও অনেক কিছু নতুন করে ভাবতে হবে। তার ভাষ্য, ‘সেমিফাইনালে যেতে পেরে আমরা অবশ্যই আনন্দিত। কিন্তু যদি একইভাবে খেলি, তাহলে পরের ধাপে আমাদের জন্য কাজটা অনেক কঠিন হয়ে যাবে। এখন আমাদের দ্রুত উন্নতি করতে হবে।’

টুখেল আরো বলেন, বিশ্বকাপের নকআউট পর্বে অনেক সময় নিখুঁত ফুটবল না খেলেও জয় পাওয়া যায়। তবে প্রতিটি ম্যাচে ভাগ্যের ওপর নির্ভর করলে শেষ পর্যন্ত শিরোপা জেতা সম্ভব নয়, ‘আমরা আজ ভাগ্যবান ছিলাম। কিন্তু আপনি বিশ্বকাপ জিততে চাইলে ভাগ্যের ওপর ভরসা করে এগোনো যাবে না। আমাদের আরো সংগঠিত, পরিষ্কার এবং আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। শেষ পর্যন্ত আমরা জিতেছি, সেটাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। এই ধরনের ম্যাচ ব্যবধান গড়ে দেয়। তবে এখন উদযাপন শেষ করে আবার কাজে ফিরতে হবে। কারণ সামনে আরো বড় চ্যালেঞ্জ অপেক্ষা করছে।’

নরওয়ের বিপক্ষে জয় ইংল্যান্ডকে বিশ্বকাপের সেমিফাইনালে তুলেছে। কিন্তু টুখেলের কথাতেই পরিষ্কার, শেষ চারে ওঠাই তার দলের শেষ লক্ষ্য নয়। বরং এই পারফরম্যান্সকে সতর্কবার্তা হিসেবে দেখছেন তিনি। সামনে আর্জেন্টিনার মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিপক্ষে নামার আগে ইংল্যান্ডকে নিজেদের খেলায় উল্লেখযোগ্য উন্নতি করতেই হবে—এটাই টুখেলের স্পষ্ট বার্তা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...