পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলকে হারানোর স্বপ্ন অনেক দলই দেখে। কিন্তু সেই স্বপ্ন বাস্তবে রূপ দিতে পারে খুব কমই। উত্তর আমেরিকার বিশ্বকাপে সেটাই করে দেখাল নরওয়ে। রোমাঞ্চে ভরা শেষ ষোলোর লড়াইয়ে ব্রাজিলকে ২-১ গোলে হারিয়ে প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে উঠে ইতিহাস গড়েছে স্ক্যান্ডিনেভিয়ান দেশটি।
শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই নরওয়ের খেলোয়াড়দের উল্লাসে ভেসে যায় মাঠ। গ্যালারিতে উচ্ছ্বাস, বেঞ্চে আবেগ আর ডাগআউটে কোচ স্টালে সোলবাক্কেনের চোখে-মুখে ছিল অবিশ্বাস এবং গর্বের মিশেল। সংবাদ সম্মেলনে এসে তিনি বললেন, এই জয় শুধু একটি ম্যাচ জেতা নয়, এটি পুরো দেশের ফুটবল ইতিহাসে নতুন অধ্যায়।
ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি একে আখ্যা দিলেন নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সবচেয়ে গৌরবময় দিন হিসেবে। তিনি বলেন, ‘এটি নরওয়ের ফুটবল ইতিহাসের সর্বশ্রেষ্ঠ দিন। আমি মনে করি, প্রতিটি নরওয়েজিয়ান এই জয় উদযাপন করতে পারে।’
সোলবাক্কেনের কাছে এ জয়ের সবচেয়ে বড় কারণ কোনো একজন খেলোয়াড় নন, বরং পুরো দলের ঐক্য। তিনি আরো বলেন, ‘এটি অসাধারণ একটি দল। তারা একসঙ্গে থাকতে ভালোবাসে, দারুণভাবে অনুশীলন করে, একে অপরকে সাহায্য করে এবং একে অপরকে রক্ষা করে। আমাদের একটি শক্তিশালী সংস্কৃতি রয়েছে। আমরা প্রত্যেককে নিজের মতো করে থাকতে এবং নিজের কথা বলতে উৎসাহ দিই। ভালো সময় হোক কিংবা কঠিন সময়Ñএই সংস্কৃতিই আমাদের শক্তি।’
নরওয়ের ডাগআউটে অনেক দিন ধরেই দেখা যায় বিখ্যাত ‘রোয়িং’ উদযাপন। খেলোয়াড়রা গোলের পর যেন একসঙ্গে বৈঠা বাইছেনÑএমন ভঙ্গিতে উদযাপন করেন। সোলবাক্কেনের মতে, এটি কেবল একটি উদযাপন নয়, পুরো জাতির ঐক্যের প্রতীক। তার ভাষ্য, ‘আজ শুধু আমাদের দল নয়, পুরো দেশ একসঙ্গে বৈঠা বাইছে। এই অনুভূতিটা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন।’
ব্রাজিলের মতো দলের বিপক্ষে নরওয়ে যে ম্যাচের বড় একটা সময় বলের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, সেটিও বিশেষভাবে উল্লেখ করেন তিনি। কোচের দাবি, সেটি ছিল আগেই সাজানো পরিকল্পনার অংশ। এ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমাদের পরিকল্পনা ছিল বল নিজেদের কাছে রাখা, তাদের ব্যস্ত রাখা এবং ধীরে ধীরে ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ নেওয়া। খেলোয়াড়রা পরিকল্পনাটি দারুণভাবে বাস্তবায়ন করেছে। আমি মনে করি, আমরা আমাদের সেরা ফুটবলটাই খেলেছি।’
অবশ্য সামনে অপেক্ষা করছে আরো কঠিন পরীক্ষা। কোয়ার্টার ফাইনালে প্রতিপক্ষ হবে ইংল্যান্ড অথবা মেক্সিকো। কিন্তু সোলবাক্কেন এখনই সেই লড়াই নিয়ে ভাবতে চান না, ‘এ মুহূর্তে আমি প্রতিপক্ষ নিয়ে ভাবছি না। আমরা এমন একটি ম্যাচ জিতেছি, যা আমাদের দেশের ইতিহাসে লেখা থাকবে। এ মুহূর্তটা উপভোগ করার অধিকার ছেলেরা অর্জন করেছে।’
নরওয়ের এই যাত্রা যে কেবল ভাগ্যের ফল নয়, সেটিও মনে করিয়ে দিয়েছেন অভিজ্ঞ এই কোচ। তার বিশ্বাস, দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা দলীয় সংস্কৃতি, পারস্পরিক বিশ্বাস এবং আত্মত্যাগই আজ তাদের বিশ্বকাপের শেষ আটে পৌঁছে দিয়েছে। ব্রাজিলের বিপক্ষে ঐতিহাসিক এই জয় দিয়ে শুধু একটি ম্যাচ জেতেনি নরওয়ে; বিশ্বফুটবলকে জানিয়ে দিয়েছে তারা আর শুধু সম্ভাবনাময় দল নয়, এখন তারা শিরোপার লড়াইয়েও নিজেদের দাবি জানাতে প্রস্তুত।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

