এবারের ফুটবল বিশ্বকাপে গোল্ডেন বুটের লড়াই জমে উঠেছে বেশ। বিশেষ করে ফুটবল বিশ্বের নজর এখন টুর্নামেন্টের দুই অন্যতম সেরা তারকা লিওনেল মেসি ও কিলিয়ান এমবাপ্পের ওপর। এই লড়াইয়ে অবশ্য তাদের পিছু ছুটছেন নরওয়ের ফরোয়ার্ড আর্লিং হাল্যান্ডও। একের পর এক গোল করে দুজনেই যখন ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ড বুক ওলটপালট করছেন, তখন অবধারিতভাবেই সামনে চলে এসেছে তাদের মধ্যকার ব্যক্তিগত দ্বৈরথের প্রসঙ্গ। তবে পিএসজির সাবেক সতীর্থ মেসির সঙ্গে এই মাঠের লড়াইকে ব্যক্তিগত কোনো প্রতিদ্বন্দিতা হিসেবে দেখতে নারাজ ফরাসি ফরোয়ার্ড কিলিয়ান এমবাপ্পে।
ইরাকের বিপক্ষে ফ্রান্সের ৩-০ ব্যবধানে জয়ের ম্যাচে জোড়া গোল করে বিশ্বকাপে নিজের সবমিলিয়ে গোলসংখ্যা ১৬-তে নিয়ে গেছেন এমবাপ্পে। এর মাধ্যমে তিনি ছুঁয়েছেন জার্মান কিংবদন্তি মিরোস্লাভ ক্লোসাকে এবং পেছনে ফেলেছেন ব্রাজিলের রোনালদো নাজারিওকে। একই রাতে অস্ট্রিয়াকে ২-০ গোলে হারিয়ে মেসির আর্জেন্টিনা যখন ড্রেসিংরুমে ফিরছে, ততক্ষণে মেসির বিশ্বকাপ গোলসংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১৮-তে, যা ক্লোসাকে ছাড়িয়ে তাকে দিয়েছে বিশ্বকাপের ইতিহাসের সর্বোচ্চ গোলদাতার মর্যাদা।
স্বাভাবিকভাবেই ম্যাচ শেষে সংবাদমাধ্যমের মূল প্রশ্ন ছিল মেসির এই রেকর্ড ভাঙার পিছু নেওয়া নিয়ে। তবে মেসিকে নিয়ে কথা বলতে গিয়ে দারুণ পরিপক্বতা ও শ্রদ্ধাবোধ দেখিয়েছেন এমবাপ্পে। ব্যক্তিগত লড়াইয়ের বিষয়টি এক ফুঁৎকারে উড়িয়ে দিয়ে ২৭ বছর বয়সী এই বিশ্বকাপজয়ী তারকা বলেন, ‘মেসির সঙ্গে আমার কোনো দ্বৈরথ নেই। লিও গোল করেছে, সে গোল করে এবং সবসময়ই করবে। সে মাঠে কী করছে আমি তা দেখতে যাই না। কারণ সেটা দেখতে গেলে আমাকে আরও বেশি পরিশ্রম করতে হবে। আমি শুধু আমার দলের দিকেই মনোযোগ দিই।’
এমবাপ্পে আরও যোগ করেন, গোল করার পর এই ধরণের পারস্পরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতার আলোচনা আসাটা স্বাভাবিক। তবে তার কাছে এই মুহূর্তের সবচেয়ে বড় অগ্রাধিকার হলো দলের অগ্রগতি ও সাফল্য।
শীর্ষে ওঠার এই লড়াইয়ে এমবাপ্পে নিজেকে সরিয়ে নিলেও, ফরাসি কোচ দিদিয়ের দেশম কিন্তু শিষ্যের সামর্থ্যে পুরো ভরসা রাখছেন। আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ১০০তম ম্যাচে ৬০তম গোল করা এমবাপ্পেকে নিয়ে দেশম জানান, রেকর্ড তৈরিই হয় ভাঙার জন্য। মেসি বা ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর মতো এমবাপ্পেও দীর্ঘদিন খেলবেন এবং ফুটবল ইতিহাসের রেকর্ডগুলোকে এক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাবেন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

