ব্রাজিল জাতীয় ফুটবল দলের কোচ হিসেবে এক বছরের কিছু বেশি সময় পার করার পর বিশ্বকাপে দলের পারফরম্যান্স ও নিজের কৌশলগত সিদ্ধান্ত নিয়ে মুখ খুলেছেন অভিজ্ঞ ইতালিয়ান কোচ কার্লো আনচেলত্তি। সম্প্রতি ব্রাজিলের খ্যাতনামা সংবাদমাধ্যম ‘ফোলহা দে এস. পাওলো’-কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি জাপানের বিপক্ষে নেওয়া সিদ্ধান্ত, আগামী ম্যাচের প্রতিপক্ষ নরওয়ে এবং তারকা ফরওয়ার্ড নেইমারের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
জাপানের বিপক্ষে শেষ ৩২-এর ম্যাচে ক্যাসেমিরোকে তুলে মার্তিনেল্লিকে মাঠে নামানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে ফুটবল মহলে বিভিন্ন আলোচনা-সমালোচনা চলছিল। সে প্রসঙ্গে ৬৭ বছর বয়সি এই কোচ বেশ সরাসরি জবাব দেন। বলেন, ‘আমরা যদি জাপানকে না হারাতাম, তাহলে লোকে কী বলত? সিদ্ধান্ত ভুল হলে সব দোষ তো আমার ওপরই আসত। আমি এটা খুব ভালো করেই বুঝি।’ দলে ভারসাম্য বজায় রাখাই তার মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে যোগ করেন, ‘এটা শতভাগ নিশ্চিত যে, আমি জিনিয়াস নই। আবার শতভাগ নিশ্চিত যে, আমি স্টুপিডও নই।’
শেষ ষোলোর ম্যাচে ব্রাজিলের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে ইউরোপের পরাশক্তি নরওয়ে। ম্যাচটিকে ব্রাজিলের জন্য আরেকটি বড় পরীক্ষা হিসেবে দেখছেন আনচেলত্তি। বিশেষ করে নরওয়ের তারকা স্ট্রাইকার আর্লিং হাল্যান্ডকে বিশ্বের ‘অন্যতম সেরা খেলোয়াড়’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন।
কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠার ব্যাপারে আশাবাদ ব্যক্ত করে আনচেলত্তি বলেন, ‘বিশ্বকাপের এই নকআউট পর্বে শুধু কৌশল বা প্রযুক্তিতে ম্যাচ জেতা যায় না, এর সঙ্গে মানসিক শক্তিও জড়িত। নরওয়ে অত্যন্ত শক্তিশালী দল। তবে আমরা আত্মবিশ্বাসী যে, ভালো খেলব।’
কাফ ইনজুরি থেকে সদ্য সেরে ওঠা নেইমারকে জাপানের বিপক্ষে অতিরিক্ত সময়ের জন্য বেঞ্চে বসিয়ে রাখা প্রসঙ্গে কোচ জানান, নেইমারের ম্যাচের ছন্দ ও পরিস্থিতি সামলানোর দারুণ অভিজ্ঞতা রয়েছে। দলের প্রয়োজন অনুযায়ীই তাকে ব্যবহার করা হবে।
নেইমার পুরো ৯০ মিনিট খেলার জন্য ফিট কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি ইতিবাচক সায় দিয়ে বলেন, ‘হ্যাঁ, সে ৯০ মিনিট খেলতে পারে।’ তবে বেঞ্চে বসে থাকা যে নেইমারকে আনন্দ দিচ্ছে না, তা অকপটে স্বীকার করেন কোচ। তিনি বলেন, ‘সে খুশি নয়, কিন্তু তার আচরণ দারুণ। সে খুব বিনয়ী, শ্রদ্ধাশীল এবং সতীর্থদের কাছে অত্যন্ত প্রিয়। একজন খেলোয়াড় কখনোই বেঞ্চে বসে খুশি হতে পারে না, এটাই স্বাভাবিক এবং ইতিবাচক।’
নেইমারের অনুপস্থিতিতে তরুণ ফরোয়ার্ড ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দলের মূল তারকা কি নাÑএমন প্রশ্নের জবাবে আনচেলত্তি নিজের ফুটবল দর্শনের স্পষ্ট বহিঃপ্রকাশ ঘটান। বলেন, ‘ভিনিসিয়ুস অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড়। তারকা খেলোয়াড়দের প্রয়োজন মূলত ভক্তদের জন্য। কিন্তু এ-জাতীয় দলে আমরা কোনো একক তারকা চাই না। আমরা চাই আরো বেশি খেলোয়াড়, যারা দলের জয়ে অবদান রাখতে পারবে।’
বিশ্বকাপের পরবর্তী হাই ভোল্টেজ ম্যাচে নরওয়ের বিপক্ষে আনচেলত্তির এই ‘দলগত পারফরম্যান্স’ দর্শন ব্রাজিলকে কতদূর নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

