যে নিয়মে মিসরের গোল বাতিল ও আর্জেন্টিনারটি বহাল

স্পোর্টস রিপোর্টার

যে নিয়মে মিসরের গোল বাতিল ও আর্জেন্টিনারটি বহাল

বিশ্বকাপের শেষ ষোলোয় আর্জেন্টিনার বিপক্ষে ম্যাচে রেফারিং ও ভিএআরের দুটি সিদ্ধান্ত নিয়ে আপত্তি ছিল মিসরের। আফ্রিকান দলটির দাবি, মোস্তফা জিকোর করা গোলটি অন্যায্যভাবে বাতিল করা হয়েছে ফাউলের অজুহাতে। কিন্তু আর্জেন্টিনার জয়সূচক গোলের আগে ফাউল হলেও সেটি ধরা হয়নি। এখন ফুটবল দুনিয়ায় প্রশ্ন একটাই-মিসরের গোল কেন বাতিল হলো; আর আর্জেন্টিনার গোল কেন বহাল রয়ে গেছে? ভিএআর চেকের নিয়ম জানলেই পুরো বিষয়টি পরিষ্কার হয়ে যাবে।
ভিএআর ম্যাচের প্রতিটি ফ্রেম চেক করে। এ বিশ্বকাপে রেকর্ডিং ফ্রেম রেট হলো ৫০ এফপিএস (ফ্রেমস পার সেকেন্ড)। তার মানে যেটা দাঁড়ায় এবারের বিশ্বকাপে ব্যবহৃত প্রতিটি ক্যামেরা প্রতি সেকেন্ডে ৫০টি ছবি তোলে। একটি ফ্রেম থেকে অন্য ফ্রেমের পার্থক্য প্রায় ২০ মিলি সেকেন্ড। আর বল ট্র‍্যাকিং টেকনোলজি দিয়ে এবারের ট্রায়োন্ডা বল মাঠ থেকে প্রতি সেকেন্ডে ৫০০ বার ডেটা পাঠায়। তাই মাঠের কোনো ঘটনাই মিস হওয়ার কোনো সুযোগ নেই। রেফারি না দেখলেও ভিএআর নিজেই চার ধরনের ঘটনা রি-চেক করে-যেমন গোল, পেনাল্টি, সরাসরি লাল কার্ড ও ভুল প্লেয়ারকে কার্ড দেওয়ার মতো বিষয়গুলো।
ফাউল চেকের ক্ষেত্রে কিছু সিস্টেম আছে। ভিএআর কেবল তখনই ফাউল রিভিউ করে, যখন সেটা চারটি ঘটনার সঙ্গে সম্পর্কিত হয়।
এক. গোলের আগে আক্রমণ চালানো দলের কেউ কোনো ফাউল করেছে কি না-সেটা চেক করে ভিএআর। ম্যাচে মিসরের গোল বাতিল হওয়ার আগে লিসান্দ্রোকে ফাউলের বিষয়টি চেক করে সিদ্ধান্তটি নিয়েছিল ভিএআর! সেটা ফাউল হওয়ায় গোলটি বাতিল হয়ে যায়।
দুই. পেনাল্টি হওয়া উচিত ছিল কি না বা দেওয়া পেনাল্টি ভুল ছিল কি না-সেটাও চেক করে ভিএআর। আর্জেন্টিনার তৃতীয় গোলের আগে ডি-বক্সের মধ্যে সালাহকে ফাউলের বিষয়টিও চেক করে ভিএআর। কিন্তু সেটি ফাউল হয়নি। সে কারণে আর্জেন্টিনার গোল বহাল থেকে যায়।
তিন. সরাসরি লাল কার্ডের মতো ফাউল হয়েছে কি না-এটাও পরীক্ষা করে দেখে ভিএআর।
চার. ভুল খেলোয়াড়কে কার্ড দেওয়া হয়েছে কি না- সেটিও দেখে সিদ্ধান্ত নেয় ভিএআর।
সবাই হয়তো এ বিষয়গুলো বোঝেন না। যেগুলোতে রেফারির সন্দেহ থাকে বা মাঠের রেফারির সিদ্ধান্তের সঙ্গে ভিএআরের সিদ্ধান্ত মেলে না, সেগুলো রিভিউ করা হয়। দর্শক টিভির পর্দায় সেটাই দেখতে পান। বাকিগুলো সব রেফারির সঙ্গে হেডফোনে আলোচনা হয়ে যায়। টিভিতে না দেখানোর মানে এ নয় যে, সেগুলো চেক হয়নি।
লড়াইয়ের ৬২ মিনিটে মিসরের ফরোয়ার্ড মোস্তফা জিকো আর্জেন্টিনার জালে বল জড়িয়েছিলেন। কিন্তু ভিএআরের রিভিউ শেষে গোলটি বাতিল করা হয়। কারণ, গোল হওয়ার আগে আক্রমণ গড়ে ওঠার সময় মিসরের ডিফেন্ডার মারওয়ান আত্তিয়া আর্জেন্টিনার লিসান্দ্রো মার্তিনেজকে ফাউল করেছিলেন। আত্তিয়া একই সময় মার্তিনেজের জার্সি ধরে টানেন এবং তার পায়ের ওপর পা রাখেন-যা ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়েছে। ভিডিও দেখার পর ফরাসি রেফারি লেতেক্সিয়ে ভিএআরের সঙ্গে একমত হন এবং গোল বাতিল করেন।
ম্যাচের যোগ করা সময়ের দ্বিতীয় মিনিটে এনজো ফার্নান্দেজ গোল করার আগে ফাউলের আবেদন করেছিল মিসর। ঘটনাটি আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকার ভেতরে ঘটে। মোহাম্মদ সালাহ দাবি করেন, আর্জেন্টিনার পেনাল্টি এলাকায় ঢোকার সময় হুলিয়ান আলভারেস তাকে ফাউল করেছেন। কিন্তু রেফারির মতে, এটি ফাউল দেওয়ার মতো ঘটনা ছিল না। ভিএআর ঘটনাটি পরীক্ষা করে মাঠের রেফারির সিদ্ধান্ত বহাল রাখে; এ কারণে কোনো পেনাল্টি দেওয়া হয়নি। আলভারেসের পক্ষ থেকে স্পষ্ট কোনো ফাউল ছিল না। দুজনের বুট একে অপরের সঙ্গে লেগে গিয়েছিল সেসময় এবং দুজনের গতির কারণেই সেই সংস্পর্শ তৈরি হয়েছিল। সালাহ অহেতুক মাটিতে পড়ে যান। এ ঘটনায় দুজনের বুটের মধ্যে স্বাভাবিক সংস্পর্শ হয়েছিল, যা দুই খেলোয়াড়ের গতির ফল। যে কারণে এটি ফাউল হিসেবে বিবেচিত হয়নি। আর তাই আর্জেন্টিনার গোলও বাতিল হয়নি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...