২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের বাধা পেরিয়ে নকআউট বা শেষ বত্রিশের মঞ্চ এখন পুরোপুরি প্রস্তুত। বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার জন্য এবারের নকআউটের সমীকরণটি কাগজে-কলমে বেশ স্বস্তিদায়ক। টুর্নামেন্টের লাইন-আপ ও রোডম্যাপ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, সেমিফাইনালের আগ পর্যন্ত লিওনেল মেসির দলকে কোনো সাবেক বিশ্বচ্যাম্পিয়ন বা পরাশক্তির মুখোমুখি হতে হচ্ছে না। তবে শিরোপা ধরে রাখার মিশনে ফাইনালে পৌঁছাতে হলে তাদের পর্যায়ক্রমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ ধাপ পার হতে হবে। নিচে আর্জেন্টিনার ফাইনালের সম্ভাব্য রোডম্যাপ ও তার একটি বিশ্লেষণ তুলে ধরা হলো-
রাউন্ড অব ৩২
নকআউট পর্বের প্রথম ম্যাচে আর্জেন্টিনার প্রতিপক্ষ আফ্রিকান দল কেপ ভার্দে। শক্তির বিচারে এবং মাঠের পারফরম্যান্সে কোচ লিওনেল স্কালোনির শিষ্যরা এই ম্যাচে অনেকটাই এগিয়ে থাকবে। ৪ জুলাই, শনিবার ভোররাত ৪টায় মিয়ামির চেনা মাঠে জয় তুলে নিয়ে পরের রাউন্ডে যাওয়াই হবে আলবিসেলেস্তেদের মূল লক্ষ্য।
রাউন্ড অব ১৬
প্রথম পর্বের বাধা টপকাতে পারলে শেষ ষোলোতে আর্জেন্টিনার সামনে আসবে অস্ট্রেলিয়া বা মিশরের মধ্যকার যেকোনো এক দল। কাতার বিশ্বকাপেও আর্জেন্টিনার সঙ্গে অস্ট্রেলিয়ার লড়াই হয়েছিল। নকআউট পর্বের চাপ থাকলেও বড় মঞ্চের অভিজ্ঞতা ও স্কোয়াড ডেপথের কারণে এই বাধা পার হওয়া আর্জেন্টিনার জন্য খুব বেশি কঠিন হওয়ার কথা নয়।
কোয়ার্টার ফাইনাল
কোয়ার্টার ফাইনালের মঞ্চে লড়াইটি কিছুটা জমে উঠতে পারে। এই ধাপে প্রতিপক্ষ হিসেবে কলম্বিয়া কিংবা সুইজারল্যান্ডের মতো লড়াকু দলগুলোর সামনে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। কাগজে-কলমে এরা শক্ত প্রতিদ্বন্দ্বী হলেও, বড় টুর্নামেন্টে নকআউট ম্যাচ খেলার অভিজ্ঞতা এবং ফুটবলীয় কৌশলের বিচারে আর্জেন্টিনাই ফেভারিট হিসেবে মাঠে নামবে।
সেমিফাইনাল
আর্জেন্টিনার জন্য আসল অগ্নিপরীক্ষা অপেক্ষা করছে সেমিফাইনালে। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত বড় কোনো পরাশক্তি সামনে না এলেও, ফাইনালের টিকিট নিশ্চিত করতে হলে আর্জেন্টিনাকে লড়তে হবে চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী ব্রাজিল অথবা শক্তিশালী ইংল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচটিই হতে যাচ্ছে এবারের বিশ্বকাপে ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়নদের সবচেয়ে কঠিন এবং রোমাঞ্চকর পরীক্ষা।
সামগ্রিক রোডম্যাপ বিবেচনা করলে দেখা যায়, ফাইনালের পথটি আর্জেন্টিনার জন্য বেশ সুগম। কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত কোনো বিশ্বচ্যাম্পিয়ন দলের মুখোমুখি না হওয়াটা দলের জন্য বড় একটি মানসিক সুবিধা দেবে। তবে ফুটবল অনিশ্চয়তার খেলা হওয়ায় কোনো প্রতিপক্ষকেই হালকাভাবে নেওয়ার সুযোগ নেই। সেমিফাইনালের মহাদ্বৈরথ পার হতে পারলেই ২০২৬ বিশ্বকাপের ফাইনালে টানা দ্বিতীয়বারের মতো দেখা যাবে আর্জেন্টিনাকে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

