ব্রাজিলের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ বিশ্ব গণমাধ্যম

স্পোর্টস ডেস্ক

ব্রাজিলের মহাকাব্যিক প্রত্যাবর্তনে মুগ্ধ বিশ্ব গণমাধ্যম

জাপানের বিপক্ষে নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের পর শুধু শেষ ষোলো নিশ্চিত করেনি ব্রাজিল, জয় করেছে বিশ্ব গণমাধ্যমেরও মনোযোগ। শেষ মুহূর্তে গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির গোলে পাওয়া ২-১ ব্যবধানের জয়কে বিশ্বের প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলো ভিন্ন ভিন্ন বিশেষণে বর্ণনা করেছে। কারও কাছে এটি ‘মহাকাব্যিক’, কারও চোখে ‘রোমাঞ্চকর’, আবার কেউ দেখেছে ‘নাটকীয়’ এক ফুটবল নাট্যরূপ।

ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ান মনে করছে, এবারের বিশ্বকাপে ব্রাজিল এখনও তাদের সেরা ফুটবল খেলতে পারেনি। তবু কার্লো আনচেলত্তির দলের সবচেয়ে বড় শক্তি হলো, তারা শেষ পর্যন্ত ম্যাচে টিকে থাকতে জানে।

গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, এই টুর্নামেন্টে একাধিকবার দীর্ঘ সময় ধরে দর্শকদের মুগ্ধ করতে ব্যর্থ হয়েছে ব্রাজিল। কিন্তু আনচেলত্তির সেই পুরোনো দর্শন—প্রতিপক্ষের ভুল কিংবা নিজের দলের কোনো তারকার অসাধারণ মুহূর্তের অপেক্ষায় থাকা—আবারও ফল দিয়েছে। রিয়াল মাদ্রিদে যে কৌশলে সাফল্য পেয়েছিলেন ইতালিয়ান কোচ, সেটিই যেন নতুন করে দেখা গেল সেলেসাওদের খেলায়।

একই প্রতিবেদনে জাপানের পারফরম্যান্সেরও প্রশংসা করেছে গার্ডিয়ান। তাদের মতে, বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই ছিল জাপানের অন্যতম সেরা প্রদর্শনী। অন্যদিকে, জয়সূচক গোল করা গ্যাব্রিয়েল মার্টিনেল্লির ভূয়সী প্রশংসা করেছে সংবাদমাধ্যমটি।

দ্য নিউইয়র্ক টাইমস ম্যাচটিকে অভিহিত করেছে ‘রোমাঞ্চকর’ ও ‘নাটকীয়’ হিসেবে। তাদের প্রতিবেদনে বিশেষভাবে উঠে এসেছে মার্টিনেল্লির ৯৬তম মিনিটের গোল, যা ব্রাজিলকে শেষ ষোলোয় তুলে দেয়।

মার্কিন সংবাদমাধ্যমটি কাসেমিরোর পারফরম্যান্স নিয়েও আলাদা বিশ্লেষণ করেছে। তাদের মতে, প্রথমার্ধে অভিজ্ঞ এই মিডফিল্ডারকে দেখে অনেকেই ভেবেছিলেন বিরতির পর তাকে তুলে নেওয়া হবে। কিন্তু আনচেলত্তি কৌশল বদলে কাসেমিরোকে আরও স্বাধীনভাবে খেলতে দেন। সেই সিদ্ধান্তই ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দেয়। দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতে তার হেড থেকেই আসে সমতাসূচক গোল। নিউইয়র্ক টাইমস লিখেছে, কাসেমিরো আবারও প্রমাণ করলেন—প্রত্যাশাকে ভুল প্রমাণ করা যেন তার পুরোনো অভ্যাস।

স্পেনের জনপ্রিয় ক্রীড়া দৈনিক মার্কামব্রাজিলের এই জয়কে তুলনা করেছে জাপানের বিখ্যাত অ্যানিমেশন ক্যাপ্টেন সুবাসা–র গল্পের সঙ্গে। তাদের ভাষায়, ম্যাচের সমাপ্তি ছিল যেন কোনো অ্যানিমেটেড চলচ্চিত্রের শেষ দৃশ্য।

মার্কা আরও লিখেছে, বর্তমান ব্রাজিল হয়তো সবচেয়ে দৃষ্টিনন্দন দল নয়, কিন্তু তাদের রয়েছে অসাধারণ মানসিক দৃঢ়তা। কঠিন লড়াইয়ের মধ্যেও চরিত্র দেখিয়ে শেষ পর্যন্ত জয় তুলে নেওয়াই তার প্রমাণ। এমনকি জয়সূচক গোলদাতা মার্টিনেল্লিকে তারা তুলনা করেছে *ক্যাপ্টেন সুবাসা*–র প্রধান চরিত্র ওলিভার সুবাসার সঙ্গে।

অন্যদিকে ফরাসি ক্রীড়া দৈনিক লেকিপ ব্রাজিলের জয়কে এক শব্দে বর্ণনা করেছে—‘মহাকাব্যিক’। তবে প্রশংসার পাশাপাশি সতর্কবার্তাও দিয়েছে তারা। লেকিপের মতে, প্রথমার্ধে ব্রাজিল প্রত্যাশার অনেক নিচে খেলেছে। বিশ্বকাপ জয়ের স্বপ্ন বাস্তবায়ন করতে হলে নকআউট পর্বে আরও উন্নত ফুটবল খেলতে হবে সেলেসাওদের।

বিশ্বের শীর্ষ সংবাদমাধ্যমগুলোর মূল্যায়নে তাই একটি বিষয় স্পষ্ট—ব্রাজিল এখনও নিখুঁত নয়। কিন্তু ম্যাচের শেষ বাঁশি বাজার আগ পর্যন্ত লড়াই চালিয়ে যাওয়ার মানসিকতা, অভিজ্ঞতা এবং বড় মুহূর্তে তারকাদের জ্বলে ওঠার ক্ষমতাই তাদের সবচেয়ে বড় শক্তি।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন