ফুটবল বিশ্বকাপের মঞ্চে গ্লাভস হাতে তার অতিমানবীয় পারফরম্যান্সে মুগ্ধ হয়েছিল গোটা বিশ্ব। কেপ ভার্দে নামের ছোট এক দেশের হয়ে পোস্টের নিচে দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে যিনি রুখে দিয়েছিলেন বিশ্বসেরা সব আক্রমণভাগকে, সেই গোলরক্ষক ভোজিনহা এবার পেলেন এক বিরল ও অনন্য সম্মান। তবে কোনো ট্রফি বা পদক নয়, সমুদ্রের নিচে সদ্য আবিষ্কৃত এক নতুন প্রজাতির সামুদ্রিক শামুকের নামকরণ করা হয়েছে এই তারকা গোলরক্ষকের নামানুসারে!
ক্যারিবীয় সাগরে লাল রঙের ছোট এই মোলাস্ক বা কম্বোজ গোত্রীয় প্রাণীটি আবিষ্কার করেছেন প্রখ্যাত জীববিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া। কেপ ভার্দের ৪০ বছর বয়সি এই গোলরক্ষকের প্রতি শ্রদ্ধা ও সম্মান জানিয়ে তিনি প্রাণীটির বৈজ্ঞানিক নাম রেখেছেন ‘আলদিসা ভোজিনহা’।
জনসংখ্যার হিসাবে ইতিহাসের দ্বিতীয় ক্ষুদ্রতম দেশ হিসেবে ফুটবল বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে ইতিহাস গড়েছিল কেপ ভার্দে। শুধু অংশগ্রহণই নয়, গ্রুপ পর্বের বৈতরণী পেরিয়ে তারা জায়গা করে নেয় শেষ ৩২-এর নকআউট পর্বে। সেখানে বর্তমান বিশ্বচ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হয়ে আলবিসেলেস্তেদের রীতিমতো ঘাম ছুটিয়ে দিয়েছিল তারা। অতিরিক্ত সময়ের নাটকীয় লড়াইয়ে ৩-২ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নিলেও, বিদায়ের আগেই ফুটবল ইতিহাসে এক রূপকথা লিখে ফেলেছিল ভোজিনহা দল।
বিশেষ করে, ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিপক্ষে গোলশূন্য ড্র করে বিশ্বকাপে নিজেদের ইতিহাসের প্রথম পয়েন্টটি পেয়েছিল কেপ ভার্দে। আর সেই ম্যাচে পোস্টের নিচে একাই দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়ে ভোজিনহা যা করেছিলেন, তা ফুটবল বিশ্ব মনে রাখবে অনেক দিন।
নিজের আবিষ্কারের প্রতিবেদনে বিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া জানিয়েছেন, ভোজিনহার সেই ‘অনন্য ভূমিকা’কে স্মরণীয় করে রাখতেই তিনি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। কাকতালীয়ভাবে, স্পেনের জাতীয় ফুটবল দলের ডাকনাম ‘লা রোজা’ বা লাল দল। ওর্তেয়া তার প্রতিবেদনে লিখেছেন, ‘এই প্রজাতির লাল রংটি ভোজিনহার সেই অবিস্মরণীয় কীর্তিকেই মনে করিয়ে দেয়।’
৭৫ বছর বয়সি বিজ্ঞানী হেসুস ওর্তেয়া স্পেনের ওভিয়েদো বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘প্রফেসার ইমেরিটাস’ এবং একজন অন্ধ ফুটবল ভক্ত। কেপ ভার্দের জলসীমায় গবেষণার স্বীকৃতি হিসেবে ২০২৩ সালে এই দ্বীপরাষ্ট্র তাকে ‘মেডেল অব মেরিট’ সম্মানে ভূষিত করেছিল।
বিজ্ঞানের সঙ্গে ফুটবলের এই ভালোবাসাকে মেলানোর কাজ ওর্তেয়া এবারই প্রথম করেননি। এর আগেও কোস্টারিকায় আবিষ্কৃত একটি প্রাণীর নামকরণ করেছিলেন দেশটির সাবেক গোলরক্ষক কেইলর নাভাসের নামে। এছাড়া স্প্যানিশ ক্লাব স্পোর্টিং গিহনের জার্সির রঙের সঙ্গে মিল থাকা একটি ক্ষুদ্র প্রাণীর নাম রেখেছিলেন ক্লাবটির সাবেক স্ট্রাইকার কিনির নামে।
স্পেনের বিপক্ষে সেই ঐতিহাসিক ম্যাচের পর রাতারাতি ভোজিনহার জনপ্রিয়তা আকাশ ছুঁয়ে ফেলে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তার ইনস্টাগ্রাম অনুসারীর সংখ্যা মাত্র ৫০ হাজার থেকে একলাফে বেড়ে হয়ে যায় ১ কোটি ৭৪ লাখ! জনপ্রিয়তার এই জোয়ারে পেছনে ফেলে দেন যুক্তরাষ্ট্রের এনএফএল কিংবদন্তি টম ব্রেডির মতো বিশ্বখ্যাত অ্যাথলেটকেও।
মাঠের পারফরম্যান্সের পর এবার বিজ্ঞানের পাতায় নিজের নাম লিখিয়ে ভোজিনহা প্রমাণ করলেন—কীর্তিমানদের সম্মান শুধু মাঠের ট্রফিতেই সীমাবদ্ধ থাকে না, তা ছড়িয়ে পড়তে পারে সমুদ্রের অতল গভীরেও।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

