ভেনিজুয়েলার উত্তর উপকূলে দুটি ভূমিকম্প আঘাত হানার পর দেশটির পাশে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র সাহায্য করার জন্য প্রস্তুত, ইচ্ছুক এবং সক্ষম।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘আমি আমাদের সরকারের সব সংস্থাকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার জন্য প্রস্তুত হতে নির্দেশ দিয়েছি। আমরা আমাদের নতুন এবং মহান বন্ধুদের পাশে থাকব।’
তিনি আরো বলেন, ‘প্রাথমিক প্রতিবেদনগুলো মোটেও ভালো নয়!!!’
ভেনিজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পিত জরুরি সহায়তার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানিয়েছেন দেশটির বৈদেশিক সহায়তা বিষয়ক আন্ডার সেক্রেটারি জেরেমি লেউইন।
তিনি বলেন, গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা পৌঁছে দিতে এবং সমন্বয় করতে একটি বিশেষ দুর্যোগ সহায়তা দল ও টাস্কফোর্স ইতিমধ্যে প্রস্তুত করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) দেওয়া একটি পোস্টে লেউইন জানান, এই মর্মান্তিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ প্রথম দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র সেখানে ‘অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা ও মানবিক সামগ্রী এবং অন্যান্য সরঞ্জাম’ পাঠাবে।
বুধবার ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্প আঘাত হানার পর এক এক্সপোস্টে যুক্তরাষ্ট্রের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ক্রিস্টোফার লান্দাউ ভূমিকম্পে বিধ্বস্ত ভেনেজুয়েলার পাশে দাঁড়ানো এবং দেশটিকে সহায়তার প্রতিশ্রুতি দেন। তিনি বলেন, ‘আজ সন্ধ্যায় বিধ্বংসী ভূমিকম্পের শিকার ভেনেজুয়েলার জনগণের পাশে আছে যুক্তরাষ্ট্র। এই কঠিন মুহূর্তে ঈশ্বর আমাদের ভেনেজুয়েলার ভাই-বোনদের পাশে থাকুন। আমরা কর্তৃপক্ষের সাথে যোগাযোগ রাখছি এবং সহায়তা কার্যক্রম সংগঠিত করছি। ভেনেজুয়েলা দীর্ঘজীবী হোক! আমরা আপনাদের সাথে আছি।’
মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৪ মিনিটে কারাকাস থেকে প্রায় ২৮৪ কিলোমিটার পশ্চিমে সান ফেলিপের কাছে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। এর মাত্র ৩৯ সেকেন্ডের ব্যবধানে কারাকাস থেকে প্রায় ২৯৩ কিলোমিটার পশ্চিমে ইউমারের কাছে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, দ্বিতীয় ঝাঁকুনিটির উৎপত্তিস্থল ছিল ইউমারে থেকে ২৩ কিলোমিটার দক্ষিণ-পূর্ব এবং ভূপৃষ্ঠের প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে।
ভূমিকম্পকে ট্রুহিলো, কারাবাও, মিরান্ডা এবং লা গুয়াইরা রাজ্যসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এসব এলাকায় একের পর এক ভবন ধসে পড়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতত্ত্ব জরিপ ও গবেষণা সংস্থা ইউএসজিএস জানিয়েছে, এই ভূমিকম্পে মৃতের সংখ্যা ১০ হাজারে পৌঁছানোর ৪৪ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে। একই সঙ্গে প্রাণহানি ১ লাখ ছাড়িয়ে যাওয়ারও ৩০ শতাংশ সম্ভাবনা রয়েছে।
কারণ হিসেবে সংস্থাটি জানিয়েছে, যে এলাকায় ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে সেটি অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। ওই এলাকার অনেক ভবন রিইনফোর্সড ইট এবং মাটির ব্লক দিয়ে তৈরি। ভূমিকম্পের তীব্রতার কারণে সেখানে ভবন ধ্বংস হওয়া এবং মৃত্যুর উচ্চ সম্ভাবনা রয়েছে।
এমতাবস্থায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ।
উল্লেখ্য,গত জানুয়ারি মাসে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হাতে ভেনিজুয়েলার সাবেক প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো গ্রেপ্তার হন। এরপর থেকে ট্রাম্প প্রশাসন ভেনিজুয়েলা সরকারের সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করে আসছে। বুধবার সন্ধ্যায় ‘ন্যাশনাল মল’-এ বক্তব্য দেওয়ার সময় ট্রাম্প মাদুরোকে গ্রেপ্তারের সেই অভিযানের দিকেও ইঙ্গিত করেন।
সূত্র: সিএনএন, বিবিসি
এএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


