সাত মাসের অনিশ্চয়তা, উদ্বেগ ও প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে মুক্তি পেলেন ৯১ জন বাংলাদেশি মৎস্যজীবী। আন্তর্জাতিক জলসীমা লঙ্ঘনের অভিযোগে ভারতের কারাগারে বন্দি থাকা এই মৎস্যজীবীদের সব আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর নিজ দেশে ফেরানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়। শনিবার দক্ষিণ ২৪ পরগনার ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে চারটি মাছ ধরার ট্রলারসহ তাদের আন্তর্জাতিক জলসীমার উদ্দেশে পাঠানো হয়। সেখানে ভারত ও বাংলাদেশের নৌবাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষের হাতে হস্তান্তর করা হয় তাদের।
প্রশাসন ও পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, প্রায় সাত মাস আগে বঙ্গোপসাগরের গভীর সমুদ্রে মাছ ধরার সময় বাংলাদেশের চারটি ট্রলার অনিচ্ছাকৃতভাবে আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা অতিক্রম করে ভারতীয় জলসীমায় প্রবেশ করে। এরপর ভারতীয় উপকূলরক্ষী বাহিনী ট্রলারসহ ৯১ জন মৎস্যজীবীকে আটক করে। পরে তাদের ফ্রেজারগঞ্জ কোস্টাল থানার পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হয়। আইনি প্রক্রিয়া শেষে আদালতের নির্দেশে তারা দীর্ঘ সময় ভারতীয় কারাগারে বন্দি ছিলেন।
দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অবশেষে দুই দেশের প্রশাসনিক ও কূটনৈতিক পর্যায়ে প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ায় তাদের মুক্তির পথ সুগম হয়। শনিবার সকালে ফ্রেজারগঞ্জ মৎস্যবন্দর থেকে ট্রলারগুলো রওনা দেয়। পুরো প্রক্রিয়াটি শান্তিপূর্ণ ও সুশৃঙ্খলভাবে সম্পন্ন করতে কড়া নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আটক চারটি ট্রলারের মালিকদের মধ্যে রয়েছেন—কুতুবদিয়া উপজেলার বড়ঘোপ ইউনিয়নের জসিম উদ্দিন মাঝি ও নুর মোহাম্মদ সওদাগর, আলি আকবর ডেইল ইউনিয়নের রত্নসেন জলদাশ এবং পটুয়াখালী জেলার ইউছুফ সওদাগর। মৎস্যজীবীদের পাশাপাশি তাদের ট্রলারগুলোও ফেরত দেওয়া হচ্ছে।
আরএ
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

