২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার আগে ইসরাইল কেন তাদের নিরাপত্তাব্যবস্থা রক্ষা করতে ব্যর্থ হয়েছিল, তা নিয়ে একটি সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছে। ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর এই প্রাথমিক তদন্তে বেরিয়ে এসেছে, তথ্যের অভাব নয়, বরং দীর্ঘ সময় ধরে হামাস সম্পর্কে ভুল ধারণা এবং হামাসকে কার্যকরভাবে দমন করা গেছে এমন আত্মতৃপ্তিই ছিল ইসরাইলের বড় ব্যর্থতা।
ইসরাইলের পাবলিক ব্রডকাস্টার 'কান'-এ প্রচারিত এক বক্তব্যে সেনাবাহিনীর অবসরপ্রাপ্ত মেজর জেনারেল রনি নুমা এই তদন্তের তথ্য তুলে ধরেন। তিনি ‘জেরিকো ওয়াল’ নামে পরিচিত হামাসের একটি গোয়েন্দা নথি পর্যালোচনার দায়িত্বে থাকা তদন্ত কমিটির প্রধান।
তদন্ত অনুযায়ী, ২০১৬ সাল থেকেই ইসরাইলি গোয়েন্দারা গাজা উপত্যকা ঘিরে থাকা ইসরাইলের প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেঙে ফেলার বিষয়ে হামাসের পরিকল্পনার তথ্য সংগ্রহ করছিল। ২০১৯ এবং ২০২২ সালেও এই তথ্যের হালনাগাদ প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু তদন্তকারীরা দেখেছেন, এত সতর্কবার্তা থাকার পরও সেগুলো বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘জেরিকো ওয়াল’ নথিপত্র সামরিক বাহিনীর উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাদের কাছে পৌঁছেছিল। কিন্তু একে হামাসের কোনো বড় কৌশলের অংশ হিসেবে না দেখে বিচ্ছিন্ন তথ্য হিসেবে দেখা হয়েছিল। ফলে এই ধারণা বদ্ধমূল হয় যে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে বড় ধরনের কোনো হামলা চালানোর সামর্থ্য বা ইচ্ছা হামাসের নেই।
মেজর জেনারেল রনি নুমা গোয়েন্দা সংস্থায় প্রযুক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতার সমালোচনা করেছেন। তিনি জানান, গোয়েন্দা সংস্থাগুলো মনে করেছিল, আরবি ভাষা বিশেষজ্ঞের প্রয়োজন নেই, স্বয়ংক্রিয় অনুবাদ প্রযুক্তিতেই কাজ হবে। নুমার মতে, এটি ছিল একটি মৌলিক বিশ্লেষণাত্মক ভুল, যা হামাসের চিন্তা এবং পরিকল্পনা বোঝার সক্ষমতাকে দুর্বল করে দিয়েছিল।
তদন্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার হলো, ইসরাইলের এই ব্যর্থতা তথ্য সংগ্রহের নয়, বরং তা বিশ্লেষণের। প্রতিবেদনে বলা হয়, ইসরাইলি নিরাপত্তাব্যবস্থায় হামাসকে দমনের মধ্যে রাখা গেছে এমন একটি ধারণা গভীরভাবে গেঁথে গিয়েছিল। এমনকি তিনজন সেনাপ্রধান এবং একাধিক গোয়েন্দা কর্মকর্তার পরিবর্তনের পরও এই ধারণা বদলায়নি।
ইসরাইলের সামরিক নেতারা একটি পুরোনো কৌশলগত চিন্তায় 'বন্দি' হয়ে পড়েছিলেন, যার ফলে হামাস যে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে, তা জানার পরেও তারা হুমকির মাত্রা উপলব্ধি করতে পারেননি।
তদন্ত প্রতিবেদনে আরো বলা হয়, ৭ অক্টোবরের ঘটনা কেবল একটি একক গোয়েন্দা ব্যর্থতা নয়, বরং এটি ইসরাইলের সামগ্রিক বিশ্লেষণ, পরিকল্পনা ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ার এক বড় ধরনের ব্যর্থতার ফসল।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


