তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা সম্পন্ন

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

তেহরানে আয়াতুল্লাহ খামেনির জানাজা সম্পন্ন

ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ও তার পরিবারের চার সদস্যের জানাজা সম্পন্ন হয়েছে।

সাত দিনব্যাপী আনুষ্ঠানিক শোক ও দাফনপ্রক্রিয়ার তৃতীয় দিন রোববার স্থানীয় সময় সকাল ৮টায় তেহরানে তার জানাজা সম্পন্ন হয় । শিয়া ধর্মীয় নেতা জাফর সোবহানি জানাজার নামাজের ইমামতি করেন।

বিজ্ঞাপন

ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর (আইআরজিসি) কমান্ডার ও জানাজার আনুষ্ঠানিকতার প্রধান হাসান হাসানজাদেহ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের প্রথম দিন মার্কিন–ইসরাইলি হামলায় ৮৬ বছর বয়সি খামেনি নিহত হন। ১৯৮৯ সাল থেকে তিনি ইরান শাসন করে আসছিলেন।

খামেনি নিহত হওয়ার পর তার ছেলে মোজতবা খামেনিকে নতুন সর্বোচ্চ নেতা ঘোষণা করা হয়েছে। তবে একই হামলায় তিনি আহত হয়েছেন। দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে এ পর্যন্ত তাকে প্রকাশ্যে দেখা যায়নি।

আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির জানাজা উপলক্ষে আজ পুরো ইরানে সরকারি ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে। সন্ধ্যায় তার লাশ গ্র্যান্ড মোসাল্লা থেকে স্থানান্তর করা হবে। আগামীকাল সোমবার রাজধানীজুড়ে শোকমিছিল হবে।

জানাজা উপলক্ষে রাজধানীতে ব্যাপক নিরাপত্তাব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে অতিরিক্ত ভিড়ে মানুষের পদপিষ্ট হওয়ার ঝুঁকির ব্যাপারেও সতর্ক করা হয়েছে।

এর আগে গত শুক্রবার তেহরানে আনুষ্ঠানিকভাবে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠান শুরু হয়েছে। শুক্রবার তেহরানে বিদেশি নেতাদের বেশির ভাগই খামেনির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানিয়েছেন।

গতকাল শনিবার লাখ লাখ ইরানি খামেনির জানাজার আনুষ্ঠানিকতার দ্বিতীয় দিনের কর্মসূচিতে যোগ দেন।

বলা হচ্ছে, ১৯৮৯ সালে আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির পূর্বসুরি ও ইরানের ইসলামি বিপ্লবের নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির জানাজার পর ইরানে এটাই সবচেয়ে বড় জনসমাগম হতে চলেছে। খোমেনির শোক ও দাফন অনুষ্ঠানে প্রায় এক কোটি মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।

নিরাপত্তার কারণে ইরানের বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা ও খামেনির ছেলে মোজতবা আলি খামেনি শোক অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকছেন না। সম্প্রতি মোজতবাকে হত্যার হুমকি দিয়েছে ইসরাইল। সেই হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এর আগে আয়াতুল্লাহ খামেনিকে গত মার্চ মাসে দাফন করার পরিকল্পনা ছিল। তবে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হওয়ায় সেই সূচি পিছিয়ে দেওয়া হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় ৮৬ বছর বয়সি আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হন। ওই দিনই ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র-ইসরাইলের আগ্রাসন শুরু হয়েছিল।

আগ্রাসনের ৪০ দিনের মাথায় পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়। গত ১৭ জুন দেশ দুটি একটি সমঝোতা স্মারকে সই করে। এখন তারা কাতার ও পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় স্থায়ী শান্তিচুক্তির জন্য আলোচনা চালাচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে যুদ্ধের পর এ বিশাল জমায়েতকে নিজেদের শক্তি ও প্রতিরোধের বার্তা হিসেবে দেখাতে চাইছে ইরানি কর্তৃপক্ষ।

গতকাল শোকের প্রতীক কালো পোশাক পরে এবং প্রতিশোধের প্রতীক রক্তলাল পতাকা হাতে শোক প্রকাশ করেন লাখো মানুষ। এ সময় সমবেত মানুষের অনেকে কান্নার পাশাপাশি ‘যুক্তরাষ্ট্র ধ্বংস হোক’ এবং ‘প্রতিশোধ, প্রতিশোধ’ স্লোগান দেন।

আগামীকাল শোকমিছিল শেষে মঙ্গলবার খামেনির কফিন নিয়ে যাওয়া হবে নগরী কোমে। বুধবার কফিন নেওয়া হবে প্রতিবেশী দেশ ইরাকে। বৃহস্পতিবার খামেনির জন্মস্থান ইরানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে তাকে দাফন করা হবে।

সূত্র: এএফপি

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

বিষয়: