নেত্রকোনায় বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে পাঠদান

শফিকুল আলম শাহীন, পূর্বধলা (নেত্রকোনা)

নেত্রকোনায় বিদ্যালয় ভবনে ফাটল, ঝুঁকিতে পাঠদান

নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার পুকুরিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় চলতি বছর জেলার শ্রেষ্ঠ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি অর্জন করেছে। তবে এই সাফল্যের আড়ালে রয়েছে অবকাঠামোগত সংকটের এক উদ্বেগজনক চিত্র। প্রায় ৩০ বছর আগে নির্মিত মেয়াদোত্তীর্ণ ভবনের ফাটল ধরা ছাদের নিচেই প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে কোমলমতি শিক্ষার্থীরা।

উপজেলার বামেরচর এলাকায় মোহনগঞ্জ-ধর্মপাশ সড়কের পাশে অবস্থিত বিদ্যালয়টি ১৯৩৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং ১৯৭৩ সালে জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে বিদ্যালয়টিতে সাতজন শিক্ষক ও ১৬৭ জন শিক্ষার্থী রয়েছে। দীর্ঘদিনেও নতুন ভবন নির্মাণ না হওয়ায়, দুটি একতলা ভবনের ওপরই পাঠদান চলছে।

বিজ্ঞাপন

এর মধ্যে ১৯৯৭ সালে নির্মিত ভবনটির ছাদে ফাটল দেখা দিয়েছে । বিভিন্ন সময় পলেস্তারা খসে পড়ছে এবং দরজা-জানালাও নষ্ট হয়ে গেছে। অন্যদিকে ২০০৬ সালে নির্মিত ভবনটিতে মাত্র তিনটি শ্রেণিকক্ষ থাকায় সেটিও প্রয়োজনের তুলনায় অপ্রতুল। ফলে বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনেই শ্রেণি কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। এমনকি শিক্ষকদের অফিস কক্ষও ওই ভবনে অবস্থিত। প্রধান শিক্ষক সোহাগ সিদ্দিকী বলেন, শিক্ষার মান উন্নয়নে আমরা আন্তরিকভাবে কাজ করছি। কিন্তু সবচেয়ে বড় সমস্যা শ্রেণিকক্ষের সংকট। বাধ্য হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ ভবনে পাঠদান করতে হচ্ছে। শিক্ষকদের অফিসও সেখানে। সারাক্ষণ আতঙ্কে থাকতে হয়। বহুবার ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছি। দ্রুত একটি নতুন ভবন নির্মাণ ও প্রয়োজনীয় মেরামতের ব্যবস্থা করা হলে শিক্ষার্থীরা নিরাপদ পরিবেশে পাঠ গ্রহণ করতে পারবে। বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটির অভিভাবক সদস্য আরিফুল ইসলাম বলেন, জেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যালয়ের স্বীকৃতি আমাদের গর্বিত করেছে। কিন্তু অবকাঠামোগত দিক থেকে বিদ্যালয়টি চরম বৈষম্যের শিকার। ছোট ছোট শিক্ষার্থীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে ক্লাস করছে। দ্রুত নতুন ভবন নির্মাণ জরুরি।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা আবুল হোসেন বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। তবে এখনো নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া যায়নি। ক্ষুদ্র মেরামতের বরাদ্দও অধিদপ্তর থেকেই নির্ধারণ করা হয়। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আমেনা খাতুন বলেন, বিদ্যালয়ের ফাটলসহ প্রয়োজনীয় মেরামতের কাজ দ্রুত করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি নতুন ভবন নির্মাণের জন্যও আবেদন করা হবে।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শহীদুল আজম বলেন, ঝুঁকিপূর্ণ ভবনের তথ্য উপজেলা পর্যায় থেকে পাঠানো হয়। বিষয়টি খোঁজ নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন