একসঙ্গে রাতের খাবার খাওয়ার কথা ছিল স্বামী-স্ত্রীর। কিন্তু পাহাড় ধস সেই ইচ্ছা চিরজীবনের জন্য শেষ করে দিয়েছে। পাহাড়ধসে স্বামী অল্পের জন্য প্রাণে বাঁচলেও মাটিচাপায় মারা গেছেন স্ত্রী রোজিনা বেগম।
শনিবার রাত ১০টার দিকে কক্সবাজার শহরতলীর পূর্ব কলাতলী ঝরঝরি পাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
এ নিয়ে পাহাড় ধস ও অতিবৃষ্টিতে সৃষ্ট বন্যায় ২৫ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের মধ্যে ১৫ জন মারা গেছেন উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে।
ফায়ার সার্ভিস সূত্রমতে, স্বামী আব্দুল মজিদকে রাতের খাবার একসঙ্গে খাওয়ার কথা বলে পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে ঢুকেছিলেন স্ত্রী রোজিনা বেগম। রান্নাঘরে ঢুকতেই ভারি বৃষ্টির মধ্যে ধসে পড়ে পাহাড়। স্বামী সামান্য আহত হয়ে প্রাণে বাঁচলেও মাটিচাপায় রোজিনার মৃত্যু হয়।
স্বামী আব্দুল মজিদ বলেন, আমি বারবার ওকে বলেছিলাম, পাহাড়ের পাশের রান্নাঘরে না যেতে। বলেছিলাম, বৃষ্টি বেশি, পাহাড় ধসে যেতে পারে। কিন্তু গ্যাসের সিলিন্ডার খুলতে রান্নাঘরে যেতেই মুহূর্তেই পাহাড় ধসে পড়ে।
তিনি বলেন, আমি অল্পের জন্য বেঁচে গেলেও আমার স্ত্রী মাটিচাপা পড়ে মারা যায়।
মজিদ বলেন, ঘটনার সময় আমি ও স্ত্রী পেছনের ঘরে, আর বাবা ও আমার ছোট মেয়ে সামনের ঘরে ছিলেন।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, রোজিনা বেগম রান্নাঘরে যাওয়ার কিছুক্ষণ পরই হঠাৎ পাহাড়ের ওপরের অংশ ধসে পড়ে। এতে তিনি মাটিচাপা পড়ে আটকা পড়েন। খবর পেয়ে দ্রুত উদ্ধার অভিযানে যোগ দেয় ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট। তাদের সহযোগিতা করেন স্থানীয়রা।
ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স কক্সবাজার কার্যালয়ের উপপরিচালক সৈয়দ মোরশেদ হোসাইন বলেন, রাত ৯টা ৪৫ মিনিটের দিকে কলাতলীর ঝরঝরিপাড়ায় পাহাড়ধসে একজন নারী মাটিচাপা পড়েছেন-এমন খবর পেয়ে তাৎক্ষণিকভাবে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার অভিযান শুরু করে। কয়েক ঘণ্টার চেষ্টার পর তাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
জেডএম
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

