রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক শরীফুল ইসলামের বিরুদ্ধে সরকারি অফিসের অতিথিশালায় সপরিবারে বসবাস, সরকারি সম্পদ ব্যক্তিগত কাজে ব্যবহারসহ নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিত দেখিয়ে ভাতা উত্তোলন এবং নিয়মিত অফিস না করার। এসব কারণে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও প্রশিক্ষণার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত বছরের অক্টোবর মাসে তিনি রাজশাহী জেলা যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের উপপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই অফিস ভবনের ওপরের তলার অতিথিশালায় পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। একই সঙ্গে নির্ধারিত অফিস সময়ে নিয়মিত উপস্থিত না থাকা এবং বিভিন্ন অজুহাতে দুই থেকে তিন দিনের জন্য কর্মস্থল ত্যাগ করার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
অভিযোগ রয়েছে, প্রশিক্ষণার্থীদের ব্যবহারের জন্য বরাদ্দ ফ্রিজ, এসি এবং অফিসের সিসিটিভি ক্যামেরার মনিটর তিনি ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন। এছাড়া বাসার বিদ্যুৎ বিল অফিসের নামে পরিশোধ করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিত দেখিয়ে তাদের নামে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগও উঠেছে। এ কাজে কয়েকজন ট্রেড ইন্সট্রাক্টরকে ব্যবহার করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে একাধিক সূত্র।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অফিসের এক কর্মকর্তা বলেন, স্যার যোগদানের পর থেকেই নিয়মিত অফিস করেন না। অধীনস্থ কর্মকর্তাদের ওপর নানা ধরনের চাপ সৃষ্টি করেন। ফলে কেউ প্রকাশ্যে কিছু বলতে সাহস পান না। তিনি আরো বলেন, প্রায় আট মাস ধরে তিনি অফিসের অতিথিশালায় বসবাস করছেন। সরকারি অফিসে এভাবে স্থায়ীভাবে থাকার কোনো বিধান নেই। পাশাপাশি অফিসের বিভিন্ন সামগ্রীও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন। শিক্ষার্থীদের ভাতার অর্থ নিয়েও নানা অভিযোগ রয়েছে।
সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, অফিস ভবনের অতিথিশালায় উপ-পরিচালকের বসবাসের বিষয়টি সত্য। তবে এ বিষয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ভিন্নমত রয়েছে। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ট্রেড ইন্সট্রাক্টর বলেন, অফিসে একটি গেস্ট হাউস রয়েছে। স্যার সেখানে থাকছেন। আমার ব্যক্তিগতভাবে মনে হয়, তার এখানে থাকার সুযোগ আছে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে উপ-পরিচালক মো. শরীফুল ইসলাম বলেন, পরিবারের জন্য নির্ধারিত বাসা এখনো প্রস্তুত হয়নি। তাই আপাতত অফিসের ওপরের কক্ষে অবস্থান করছেন। বাসা প্রস্তুত হলে সেখানে চলে যাবেন। তিনি আরো বলেন, নিজের কক্ষে ফ্রিজ, এসি ও টেলিভিশন না থাকায় অফিসের ফ্রিজ এবং সিসিটিভি মনিটর ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ব্যবহার করছেন।
তবে অনুপস্থিত প্রশিক্ষণার্থীদের উপস্থিত দেখিয়ে ভাতা উত্তোলনের অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি বলেন, এ ধরনের কোনো ভাতা তিনি উত্তোলন করছেন না এবং এমন ঘটনা ঘটছে বলেও তার জানা নেই। যদি এমন কিছু হয়ে থাকে, তাহলে বিষয়টি তিনি খোঁজ নিয়ে দেখবেন।
এদিকে সরকারি অফিসে দীর্ঘদিন বসবাস, সরকারি সম্পদের ব্যক্তিগত ব্যবহার এবং প্রশিক্ষণার্থীদের ভাতা সংক্রান্ত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন


প্রলোভনে রাশিয়ায় গিয়ে যুদ্ধে নিখোঁজ ১৫ বাংলাদেশি