চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ইতিহাসে রাজস্ব আদায়ে এক অনন্য নজির সৃষ্টি হয়েছে। চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষ থেকে বকেয়া হোল্ডিং ট্যাক্স (পৌরকর) বাবদ রেকর্ড ১৯৮ কোটি ২৬ লাখ ৯৪ হাজার ৬৫১ টাকা কর আদায় নিশ্চিত করেছেন চসিকের সচিব মোহাম্মদ আশরাফুল আমিন। সিটি কর্পোরেশনের ইতিহাসে এটিকে অন্যতম বৃহৎ একক কর আদায়ের ঘটনা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
চসিক সূত্রে জানা গেছে, চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেনের সরাসরি তত্ত্বাবধান ও প্রশাসনিক তৎপরতায় এই বিপুল পরিমাণ রাজস্ব আদায় সম্ভব হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আটকে থাকা এই বকেয়া কর আদায়ের লক্ষ্যে বন্দর কর্তৃপক্ষের সাথে কার্যকর উদ্যোগ ও ধারাবাহিক আলোচনা চালায় চসিক প্রশাসন। কয়েক দফায় এ সংক্রান্ত কমিটির বৈঠক হলেও সুরাহা হয়নি। পরে মন্ত্রণালয়ে সংশ্লিষ্ট কমিটি মতামত জানতে চায়। এপ্রিলে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় চসিকের দাবি অনুসারে হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের নির্দেশ দেয় বন্দর কর্তৃপক্ষকে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই রেকর্ড পরিমাণ রাজস্ব আদায়ের ফলে চসিকের আর্থিক সক্ষমতা আরও সুদৃঢ় ভিত্তি পাবে। সংগৃহীত এই অর্থ নগরীর সামগ্রিক অবকাঠামো উন্নয়ন, নাগরিক সেবা সম্প্রসারণ, পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম, সড়ক সংস্কার এবং দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কর্মকাণ্ডে ব্যয় করা হবে। যা নগরবাসীর জীবনমান উন্নয়নে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
সিটি কর্পোরেশন সংশ্লিষ্টরা জানান, দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন চসিকের রাজস্ব বৃদ্ধি, আর্থিক শৃঙ্খলা প্রতিষ্ঠা এবং স্থবির হয়ে থাকা নগর উন্নয়নে বিশেষ জোর দিয়ে আসছেন। চট্টগ্রাম বন্দর থেকে এই বিপুল পরিমাণ বকেয়া আদায় তারই একটি বড় ও উল্লেখযোগ্য সাফল্য।
গত বছরের এপ্রিলে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন চট্টগ্রাম বন্দরের কাছে ১৬০ কোটি টাকা গৃহজর দাবি করে। যা বন্দরের মোট রাজস্ব আয়ের ১ শতাংশ হিসেবে ধরা হয়। সে সময় ১০০ কোটি টাকা পরিশোধ করে চট্টগ্রাম বন্দর।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

