যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙনের মুখে পড়েছে মানিকগঞ্জের দৌলতপুর উপজেলার চরকালিকাপুর শুকুরিয়া দাখিল মাদরাসা। প্রতিদিনই নদী এগিয়ে আসছে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির দিকে। বর্তমানে মূল মাদরাসা ভবন থেকে যমুনা নদীর দূরত্ব মাত্র পাঁচ মিটার। প্রায় ১০ কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত তিনটি ভবনসহ পুরো ক্যাম্পাস যেকোনো সময় নদীতে বিলীন হয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
জানা গেছে, ১৯৮১ সালে প্রতিষ্ঠিত এ মাদরাসায় বর্তমানে কারিগরি বিভাগসহ পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী পড়াশোনা করছে। প্রতিষ্ঠানটিতে তিনটি ভবন রয়েছে। নির্মাণ ত্রুটির কারণে নতুন ভবনটি এখনো শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের কাছে হস্তান্তর করা হয়নি।
সরেজমিন দেখা গেছে, যমুনা নদীর তীব্র স্রোতে চারতলা ভবনের সামনের অংশের মাটি সরে যাচ্ছে এবং সীমানা প্রাচীরের একটি অংশ ইতোমধ্যে নদীতে ভেঙে পড়েছে। তবে স্থানীয় প্রশাসন ভবনটিকে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করায় চেয়ার-টেবিল, আলমারি ও শিক্ষাসামগ্রী দ্রুত নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে।
মাদরাসা ছাড়াও যমুনার ভাঙনে দৌলতপুর উপজেলার বাঘুটিয়া, বাঁচামারা, জিয়নপুর ও চরকাটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ এলাকা হুমকির মুখে রয়েছে। ঝুঁকিতে আছে বাঘুটিয়া ওমর আলী উচ্চবিদ্যালয়, বাঘুটিয়া পুরোনো বাজার, অসংখ্য বসতভিটা ও ফসলি জমি। ইতোমধ্যে কয়েকশ পরিবার বাড়িঘরের মালামাল সরিয়ে নিরাপদ স্থানে চলে গেছে বলে জানা গেছে।
স্থানীয়রা সাংবাদিকদের বলেছেন, প্রতিবছর বর্ষা এলেই নামমাত্র জিও ব্যাগ ফেলে সাময়িকভাবে ভাঙন ঠেকানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু স্থায়ী নদীশাসনের কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয় না।
বাঘুটিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন জানান, শুষ্ক মৌসুমে স্থায়ী বাঁধ বা নদীশাসনের ব্যবস্থা না নেওয়ায় প্রতিবছর নদীভাঙনে ভয়াবহ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়। বর্তমানে কয়েক দিনের পানি বৃদ্ধিতে ভাঙনের তীব্রতা আরো বেড়েছে। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ না নিলে মাদরাসাসহ আশপাশের অনেক স্থাপনা নদীতে চলে যাবে।
মাদরাসার সুপার মাওলানা বাকি বিল্লাহ বলেন, ভবনটি এখন আর নিরাপদ নয়। উপজেলা প্রশাসনের নির্দেশে মূল্যবান আসবাবপত্র সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। ভাঙনের বর্তমান অবস্থা অব্যাহত থাকলে যেকোনো সময় ভেঙে পড়বে ভবনটি।
শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত দায়িত্বপ্রাপ্ত নির্বাহী প্রকৌশলী ইশতিয়াক ইকবাল হিমেল বলেছেন, যমুনার ভাঙনে প্রতিষ্ঠানটির তিনটি ভবনই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আখতারুজ্জামান বলেছেন, ভাঙনকবলিত এলাকা সার্বক্ষণিক নজরদারিতে রাখা হয়েছে। জরুরি ভিত্তিতে জিও ব্যাগ ফেলা হচ্ছে। তবে মাদরাসাসহ আশপাশের কয়েকটি বাড়িঘর এখনো ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

