তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ মোহনগঞ্জের মানুষ

উপজেলা প্রতিনিধি, মোহনগঞ্জ (নেত্রকোনা)

তীব্র গরমে ঘনঘন লোডশেডিং, অতিষ্ঠ মোহনগঞ্জের মানুষ

তীব্র গরমের মধ্যে ঘনঘন লোডশেডিং ও ভোল্টেজের ওঠানামায় (লো-হাই ভোল্টেজ) বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে নেত্রকোনার মোহনগঞ্জ উপজেলার জনজীবন। চাহিদার তুলনায় বিদ্যুতের ঘাটতি, অপর্যাপ্ত সরবরাহ এবং ত্রুটিপূর্ণ সঞ্চালন ব্যবস্থার কারণে দিনের পাশাপাশি রাতেও দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎবিহীন থাকতে হচ্ছে গ্রাহকদের। এতে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন শিক্ষার্থী, ব্যবসায়ী, হাসপাতালের রোগী, শিশু, বয়স্ক এবং দিনমজুররা।

সরেজমিনে দেখা যায়, গত কয়েক মাস ধরে উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় নিয়মিত বিরতিতে বিদ্যুৎ আসা-যাওয়া করছে। কোথাও আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলেও পরবর্তী দুই থেকে তিন ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকে না। তীব্র গরমে এই পরিস্থিতিতে সাধারণ মানুষের দুর্ভোগ চরমে পৌঁছেছে।

বিজ্ঞাপন

মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুৎ অফিস সূত্রে জানা গেছে, জোনাল অফিসের আওতাধীন প্রায় ৫৩ হাজার গ্রাহকের জন্য প্রতিদিন প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের প্রয়োজন হয়। তবে জাতীয় গ্রিড থেকে নিয়মিতভাবে চাহিদার অর্ধেকেরও কম বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। সাধারণ সময়ে যেখানে ৭ থেকে ৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যেত, সেখানে গত দুই-তিন দিন ধরে সরবরাহ নেমে এসেছে মাত্র ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াটে।

অফিস সূত্র জানায়, মোহনগঞ্জ জোনের সাতটি ফিডার সচল রাখতে ১৫ থেকে ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র তিন থেকে চারটি ফিডার চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে। ফলে বাকি ফিডারগুলো পর্যায়ক্রমে বন্ধ রাখতে হচ্ছে, যার কারণে ঘন ঘন লোডশেডিং দিতে হচ্ছে। পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবল না থাকায় ত্রুটিপূর্ণ লাইন মেরামতের কাজও ধীরগতিতে চলছে, যা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

মোহনগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি থাকা রোগী হালিমা আক্তার বলেন, "দুই-তিন দিন ধরে হাসপাতালে ভর্তি আছি। প্রচণ্ড গরমে বিদ্যুৎ না থাকায় রোগীদের খুব কষ্ট হচ্ছে। আধা ঘণ্টা বিদ্যুৎ থাকলে আবার দুই-তিন ঘণ্টা থাকে না। বিশেষ করে রাতে বিদ্যুৎ না থাকায় দুর্ভোগ আরও বেড়ে যায়।"

স্থানীয় গ্রাহক জুয়েল রানা বলেন, "২৪ ঘণ্টার মধ্যে গড়ে চার-পাঁচ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পাই। এই গরমে পরিবার নিয়ে খুব কষ্টে আছি। অথচ বিদ্যুৎ বিল আগের তুলনায় অনেক বেশি এসেছে। বিদ্যুৎও নেই, আবার বাড়তি বিলও দিতে হচ্ছে।"

ছাত্রের অভিভাবক স্বপ্না আক্তার বলেন, "সন্ধ্যার পর বিদ্যুৎ থাকে না। গরমের কারণে বাচ্চারা পড়তে বসতে চায় না। এতে তাদের লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে। পাশাপাশি ফ্রিজে রাখা মাছ-মাংসও নষ্ট হয়ে যাচ্ছে।"

কাজী অফিস মোড়ের কম্পিউটার ব্যবসায়ী উবায়দুল্লাহ বলেন, "বিদ্যুৎ না থাকলে কম্পিউটারের কাজ বন্ধ হয়ে যায়। প্রতিদিন এমন পরিস্থিতির কারণে ব্যবসায় ক্ষতি হচ্ছে। বিভিন্ন জরুরি সেবা নিতে আসা মানুষও ভোগান্তিতে পড়ছেন।"

এ বিষয়ে মোহনগঞ্জ পল্লী বিদ্যুতের জোনাল অফিসের উপমহাব্যবস্থাপক (ডিজিএম) মো. এমদাদুল হক বলেন, "আমাদের এলাকায় প্রতিদিন প্রায় ১৬ মেগাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও জাতীয় গ্রিড থেকে গড়ে মাত্র ৬ থেকে ৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে। গত কয়েক দিন তা আরও কমে ৪ থেকে ৫ মেগাওয়াটে নেমে এসেছে। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় বাধ্য হয়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে বিদ্যুৎ সরবরাহও স্বাভাবিক হবে বলে আশা করছি।"

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...