প্রিয় দল ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে বাংলাদেশ থেকে উড়ে গিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে। নিউজার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে বসে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের শেষ ষোলোর ব্রাজিল-নরওয়ে ম্যাচ উপভোগ করেন অভিনেত্রী সাফা কবির। তবে ম্যাচের ফল তার প্রত্যাশার মতো হয়নি। প্রিয় দলের বিদায়ে মন খারাপ হলেও আশা ছাড়ছেন না তিনি।
ম্যাচ শুরুর আগে স্টেডিয়াম থেকেই ফেসবুক লাইভে এসে সাফা বলেন, তিনি ব্রাজিলের বড় সমর্থক। তবে নরওয়ের তারকা ফুটবলার এরলিং হালান্ডকেও তার ভালো লাগে। এরপর নিজের ফুটবল-ভালোবাসার গল্প শোনাতে গিয়ে তিনি বলেন, ‘যখন থেকে আমি ফুটবল আর বিশ্বকাপ বুঝতে শিখি, ২০০২ সালে শেষবার ব্রাজিল বিশ্বকাপ জিতেছিল। এরপর থেকে আমাদের হাত খালি। কিন্তু আজ আমি আশাবাদী। তাই বাংলাদেশ থেকে এত দূর শুধু ব্রাজিলকে সমর্থন জানাতে এখানে এসেছি।’
লাইভেই নিজের একটি স্বপ্নের কথাও জানান এই অভিনেত্রী। তিনি বলেন, ‘আমার খুব ইচ্ছা, একদিন এই রকম ফিফা বিশ্বকাপে এসে বাংলাদেশের ম্যাচ দেখব। এটাই আমার স্বপ্ন, এটাই আমার আশা।’ ম্যাচ শেষে সামাজিক মাধ্যমে নেইমার জুনিয়র ও এরলিং হালান্ডকে একই ফ্রেমে ধারণ করা একটি ছবি প্রকাশ করেন সাফা। ক্যাপশনে লেখেন, ‘একই ফ্রেমে নেইমার জুনিয়র ও হালান্ডকে বন্দি করেছি। এখনো বিশ্বাস করতে পারছি না। এটি সত্যিই জীবনের এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত। এত কাছ থেকে বিশ্বমানের এই ফুটবলারদের খেলা দেখতে পেরে নিজেকে ভীষণ সৌভাগ্যবান মনে হচ্ছে।’
আরেক পোস্টে তিনি লেখেন, ‘হালান্ড দুর্দান্ত খেলেছে। ব্রাজিলও হৃদয়, আবেগ ও গর্ব নিয়ে লড়াই করেছে। তবে ফলাফলের বাইরে দুই দলের প্রতিটি খেলোয়াড়কে মাঠে শতভাগ উজাড় করে খেলতে দেখাটাই আমার কাছে সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি।’ এছাড়া বিশ্বকাপে অংশ নেওয়া প্রতিটি দেশ ও ফুটবলারের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এ ধরনের মুহূর্তই মনে করিয়ে দেয়, কেন ফুটবলকে বিশ্বের সবচেয়ে সুন্দর খেলা বলা হয়।’ তবে ম্যাচ শেষে হতাশা লুকাতে পারেননি সাফা। স্টেডিয়াম থেকে বের হওয়ার সময় আবারও ফেসবুক লাইভে এসে তিনি বলেন, ‘আজ আমি খুবই দুঃখিত। তবে ইনশাআল্লাহ, পরের বিশ্বকাপে আবারও ফিরব।’
ব্রাজিল ভক্তদের দুঃস্বপ্নের রাতে উল্লাসে মাতলেন আর্জেন্টিনার কট্টর সমর্থক অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরী। চিরপ্রতিদ্বন্দ্বীদের পরাজয়ের মুহূর্তটিই যেন সবচেয়ে বড় উৎসবের কারণ। সাফা কবিরের মতো মেহজাবীন চৌধুরীও স্টেডিয়ামে বসে ব্রাজিলের বিদায় সরাসরি দেখলেন, আর শেষ বাঁশি বাজার সঙ্গে সঙ্গেই উল্লাসে ভাসলেন।
ব্রাজিলকে খোঁচা দিয়ে নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে গ্যালারি থেকে তোলা কয়েকটি ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘ব্রাজিলকে দু-একটা ফুটবলের টিপস দিতে এলাম। আমি কিন্তু আর্জেন্টিনা।’ লাল টপস ও সবুজ স্কার্টে গ্যালারিতে বসা মেহজাবীনের হাতে ছিল বাংলাদেশের জাতীয় পতাকাও। ম্যাচ চলাকালে তিনি ভক্তদের উদ্দেশে আরেকটি পোস্টে লেখেন, ‘তোমার ফোনের চার্জ যত পার্সেন্ট, মানে ব্রাজিলের হারার চান্স! কমেন্ট দ্য পার্সেন্টেজ।’
পোস্টটি মুহূর্তেই ভক্তদের নানা মন্তব্যে সরগরম হয়ে ওঠে। এরপর শেষ বাঁশি বাজতেই শুরু হয় মেহজাবীনের উদযাপন। গ্যালারিতে দুই হাত উঁচিয়ে উল্লাস প্রকাশ করেন তিনি। স্টেডিয়ামের বিশাল স্ক্রিনে নরওয়ের জয় ও ব্রাজিলের বিদায়ের দৃশ্যকে পেছনে রেখে একটি ভিডিও শেয়ার করে ছোট্ট ক্যাপশনে লেখেন, ‘বাই বাই ব্রাজিল।’
আর্জেন্টিনা সমর্থক এই অভিনেত্রীর এমন উচ্ছ্বাস আর ব্রাজিলকে উদ্দেশ্য করে করা ধারাবাহিক ট্রল মুহূর্তেই সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। কেউ মজা পেয়েছেন, কেউ আবার ব্রাজিল ভক্তদের অনুভূতির কথা তুলে ধরে সমালোচনাও করেছেন। তবে বিশ্বকাপের চিরপ্রতিদ্বন্দ্বী দুই দলের সমর্থকদের চিরচেনা ফুটবল-রসিকতারই নতুন অধ্যায় হয়ে উঠেছে মেহজাবীনের এই পোস্টগুলো।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

