ইবনে বতুতা তিনি ছিলেন একজন মুসলিম পর্যটক। সারা জীবন তিনি এক দেশ থেকে আরেক দেশ ঘুরে বেড়িয়েছেন। পৃথিবী ভ্রমণের জন্য তিনি ছিলেন বিখ্যাত।
এসো বন্ধুরা, ইবনে বতুতা সম্পর্কে জেনে নিই গুরুত্বপূর্ণ কিছু তথ্য।
জন্ম : ইবনে বতুতা ১৭ রজব ৭০৩ হিজরি মোতাবেক ১৩০৪ খ্রিষ্টাব্দের ২৪ ফেব্রুয়ারি রোববার মরোক্কোর তাঞ্জিয়ারে এক সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তার পূর্ণ নাম হলো আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে বতুতা। তার বাবার নাম আবু আবদুল্লাহ মুহাম্মদ ইবনে আবদুল্লাহ। পেশায় তিনি একজন কাজী (ইসলামিক বিচারক বা ধর্মীয় আইন বিশেষজ্ঞ) ছিলেন। তিনি মরক্কোর তাঞ্জিয়ারে বিচারক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
প্রাথমিক শিক্ষা : ইবনে বতুতা শৈশবে ইসলামের প্রাথমিক জ্ঞান লাভ করেন। খুব অল্প বয়সেই তার মধ্যে বিশ্ব দেখার এবং জ্ঞান অর্জনের তীব্র কৌতূহল তৈরি হয়। শিক্ষার সেই প্রাথমিক ভিত্তিই তাকে পরবর্তী সময়ে একজন সুপণ্ডিত এবং ইতিহাসের অন্যতম শ্রেষ্ঠ পর্যটক হিসেবে গড়ে তোলে।
বিশ্বভ্রমণ : একুশ বছর বয়স থেকে শুরু করে জীবনের পরবর্তী ৩০ বছরে তিনি প্রায় ৭৫ হাজার মাইল (১ লাখ ২১ হাজার কিমি) পথ পরিভ্রমণ করেছেন। তিনিই একমাত্র পরিব্রাজক যিনি তার সময়কার সমগ্র মুসলিম বিশ্বভ্রমণ করেছেন এবং তৎকালীন সুলতানদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। বর্তমান পশ্চিম আফ্রিকা থেকে শুরু করে মিসর, সৌদি আরব, সিরিয়া, ইরান, ইরাক, কাজাকিস্তান, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, মালদ্বীপ, ভারত, বাংলাদেশ, শ্রীলঙ্কা, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চল এবং চীন ভ্রমণ করেছিলেন তিনি। ভ্রমণকালে তিনি এই উপমহাদেশের বিখ্যাত ব্যক্তিত্ব, সুফি, সুলতান, কাজি এবং আলেমদের সাক্ষাৎ লাভ করেন।
বাংলা ভ্রমণ : ইবনে বতুতা তার বিখ্যাত গ্রন্থে তৎকালীন বাংলা সম্পর্কে বিস্তারিত বর্ণনা করেন। তার বর্ণনা থেকেই বের হয়ে আসে তৎকালীন আবহমান বাংলার প্রকৃতি, সমাজব্যবস্থা, মানুষের জীবনাচরণ এবং রাজনৈতিক কাঠামো।
ইবনে বতুতা ১৩৪৬ সালের ৯ জুলাই বাংলায় এসে পৌঁছান। তিনি প্রথমে বাংলার যে অংশে প্রবেশ করেন, তার গ্রন্থে সেই জায়গার নাম উল্লেখ করেছেন ‘সাঁদকাও’ (চাটগাঁও)। সেখান থেকে তিনি কামরূপের উদ্দেশে রওনা হয়েছিলেন। তার গ্রন্থে তিনি উল্লেখ করেন, ‘একটানা ৪৩ দিন সাগরে ভেসে আমরা বাংলাদেশে এসে পৌঁছালাম। সবুজে শ্যামলে ঘেরা বিশাল এক দেশ। এখানে প্রচুর চাল পাওয়া যায়। অন্য সব জিনিস এত সস্তায় পাওয়া যায়, যা অন্য কোথাও আমি দেখিনি। তবে দেশটির কিছু হতাশাব্যঞ্জক দিকও রয়েছে।
মৃত্যু ও শেষ জীবন : রিহলার বর্ণনা শেষ হওয়ার পর ইবনে বতুতা সম্পর্কে খুব কমই জানা যায়। উল্লেখ্য, তার বর্ণনা শেষ হয় ১৩৫৫ সালে। এরপর তিনি মরক্কোয় একজন কাজী হিসেবে নিযুক্ত হন। ১৩৬৮ সালে মরক্কোর মারকেশে ইন্তেকাল করেন এই বিখ্যাত পরিব্রাজক।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

