শক্তিশালী এআই টুল ‘মিথোস ৫’ চালুর অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

শক্তিশালী এআই টুল ‘মিথোস ৫’ চালুর অনুমতি দিল যুক্তরাষ্ট্র
প্রতীকী ছবি

মার্কিন সরকার তাদের শক্তিশালী এআই মডেল ‘ক্লড মিথোস ৫’ যুক্তরাষ্ট্রের কিছু ‘বিশ্বস্ত’ সংস্থায় চালু করার অনুমতি দিয়েছে বলে জানিয়েছে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) তৈরি ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রোপিক।

এই নতুন নির্দেশনার ফলে ফরচুন ৫০০ ভুক্ত বিভিন্ন কোম্পানিসহ ১০০টিরও বেশি প্রতিষ্ঠান এখন মিথোস ৫ ব্যবহারের সুযোগ পাবে। এর মাধ্যমে জাতীয় নিরাপত্তার ঝুঁকিতে দুই সপ্তাহ আগে এই মডেলের ব্যবহার স্থগিত করার যে সরকারি নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল, তা আংশিকভাবে প্রত্যাহার করা হলো।

বিজ্ঞাপন

বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে এ তথ্য জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট এক সূত্র।

চীন, রাশিয়া বা অন্যান্য দেশের সামরিক গোয়েন্দারা এই শক্তিশালী এআই ব্যবস্থার অপব্যবহার করতে পারে-এমন আশঙ্কা থেকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন অ্যানথ্রোপিক এবং তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী ওপেনএআই-এর নতুন বা ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলোর ওপর কঠোর তদারকি শুরু করেছে।

একই দিনে ওপেনএআই জানিয়েছে, মার্কিন সরকারের অনুরোধে তারা তাদের ‘জিপিটি-৫.৬’ মডেলের পূর্ণাঙ্গ পাবলিক লঞ্চ বা উন্মুক্ত প্রকাশ বিলম্বিত করছে। বর্তমানে তারা শুধুমাত্র সরকারের কাছে তথ্য শেয়ার করা নির্দিষ্ট ও যাচাইকৃত অংশীদারদের মধ্যেই এর অ্যাক্সেস সীমাবদ্ধ রেখেছে।

গত ১২ জুন সরকারের রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আদেশের পর অ্যানথ্রোপিক হঠাৎ করেই তাদের সবচেয়ে উন্নত এআই মডেল মিথোস ৫ এবং ফেবল ৫ সব ব্যবহারকারীর জন্য বন্ধ করে দিয়েছিল। গত শুক্রবার এক বিবৃতিতে অ্যানথ্রোপিক জানায়, সরকার তাদের জানিয়েছে যে তাদের সবচেয়ে শক্তিশালী সাইবার নিরাপত্তা মডেল ‘মিথোস ৫’ এখন যুক্তরাষ্ট্রের কিছু সংস্থায় পুনরায় মোতায়েন করা যাবে, যারা মূলত গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পরিচালনা ও রক্ষা করে।

প্রতিষ্ঠানটি আরো জানিয়েছে, তারা দ্রুত এই সংস্থাগুলোর জন্য অ্যাক্সেস ফিরিয়ে দিচ্ছে এবং ফেবল ৫ মডেলটি সাধারণ ব্যবহারের জন্য উন্মুক্ত করতে সরকারের সাথে কাজ করে যাচ্ছে।

সুযোগ পাওয়াদের নিয়ে সমালোচনা

কোন কোম্পানিগুলো মিথোস ব্যবহারের সুযোগ পাবে-সরকারের এমন যাচাইকরণ প্রক্রিয়া নিয়ে তীব্র সমালোচনা শুরু হয়েছে। ফিলাডেলফিয়া ভিত্তিক মুক্তবাক বা বাকস্বাধীনতা বিষয়ক অরাজনৈতিক সংস্থা ‘ফাউন্ডেশন ফর ইন্ডিভিজুয়াল রাইটস অ্যান্ড এক্সপ্রেশন’-এর আইনি উপদেষ্টা জন কোলম্যান বলেন, ‘কেউ জানে না এই কোম্পানিগুলোকে কীভাবে বেছে নেওয়া হচ্ছে এবং কেন অন্যদের বাদ দেওয়া হচ্ছে। এটি সরকারের হাতে অতিরিক্ত ক্ষমতা দিচ্ছে। এখানে স্বচ্ছতার অভাব রয়েছে এবং এটি আইনের শাসন নিয়ে প্রশ্ন তোলে।’

ওপেনএআই-এর প্রধান স্যাম অল্টম্যান এক্স-এ (সাবেক টুইটার) এক পোস্টে সরকারের এই গ্রাহক বা ব্যবহারকারী বেছে নেওয়ার প্রক্রিয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন। তিনি লিখেছেন, ব্যাপক নিরাপত্তা পরীক্ষা করা খারাপ ধারণা নয়, তবে সরকারের এভাবে কাস্টমার বেছে নেওয়ার বিষয়টি তার পছন্দ নয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, মিথোস মডেলটি ভুল হাতে পড়লে তা অত্যাধুনিক সাইবার হামলাকে নাটকীয়ভাবে বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে ব্যাংকিং খাতের মতো ক্ষেত্রগুলোতে, যা কয়েক দশকের পুরোনো ও জটিল আন্তঃসংযুক্ত প্রযুক্তি ব্যবস্থার ওপর নির্ভরশীল, সেখানে ঝুঁকি অনেক বেশি।

মার্কিন বাণিজ্য সচিব হাওয়ার্ড লাটনিক অ্যানথ্রোপিককে দেওয়া এক চিঠিতে জানিয়েছেন, কাভার্ড মডেল বা সংশ্লিষ্ট মডেলগুলোর ঝুঁকি মোকাবেলায় সরকারের সাথে কোম্পানির কাজে ‘উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি’ হয়েছে। তবে কী ধরনের সুরক্ষামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, তা তাৎক্ষণিকভাবে স্পষ্ট করা হয়নি।

অ্যানথ্রোপিক চলতি মাসের শুরুতে জানিয়েছিল, ফেবল ৫ মডেলে থাকা একটি নিরাপত্তা ব্যবস্থা এড়িয়ে সফটওয়্যারের ত্রুটি শনাক্তের কাজে ব্যবহার করা হতে পারে বলে সরকার মনে করে।

অভিবাসীদের জন্য রপ্তানি লাইসেন্স লাগবে না

বাণিজ্য সচিব লাটনিক চিঠিতে আরো জানান, অনুমোদিত বিশ্বস্ত কোম্পানি ও তাদের যেসব কর্মী মার্কিন নাগরিক নন, অথবা অ্যানথ্রোপিকের যেসব কর্মী মার্কিন নাগরিক নন, তাদের ক্ষেত্রে মিথোস ৫ ব্যবহারের জন্য কোনো রপ্তানি লাইসেন্সের প্রয়োজন হবে না। তবে অনুমোদিত তালিকায় না থাকা কোম্পানিগুলোর ওপর এই লাইসেন্সিং নিষেধাজ্ঞা বহাল থাকবে।

সূত্রটি জানিয়েছে, অনুমোদিত কোম্পানিগুলোর অনেকেই অ্যানথ্রোপিকের ‘প্রজেক্ট গ্লাসউইং’-এর অংশ, যার মধ্যে প্রায় ১০০টি সুপরিচিত প্রযুক্তি কোম্পানি ও প্রতিষ্ঠান রয়েছে। সরকার শিগগিরই অ্যানথ্রোপিককে ‘ফেবল’ মডেলটি ছাড়ার অনুমতি দেওয়ার দিকেও এগোচ্ছে, তবে এর সময়সীমা এখনো অস্পষ্ট। ফেবল ৫ এবং মিথোস উভয়ই একই অন্তর্নিহিত বা মূল এআই মডেল ব্যবহার করে। তবে ফেবল ৫ সাধারণ মানুষের ব্যবহারের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে, অন্যদিকে মিথোসের ক্ষেত্রে কিছু সুরক্ষামূলক বিধিনিষেধ তুলে নেওয়া হয়েছে।

বর্তমানে অ্যানথ্রোপিক এবং ওপেনএআই উভয় প্রতিষ্ঠানই পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিতে রূপান্তরিত বা শেয়ার বাজারে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। তবে মার্কিন সরকারের সাথে অ্যানথ্রোপিকের সম্পর্কটি বেশ উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে গেছে। মার্কিন সামরিক বাহিনীকে দেশের অভ্যন্তরে নজরদারি এবং সম্পূর্ণ স্বয়ংক্রিয় অস্ত্র ব্যবস্থায় এআই মডেল ব্যবহার করতে দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছিল অ্যানথ্রোপিক। এর প্রতিশোধ হিসেবে সরকার প্রতিষ্ঠানটিকে জাতীয় নিরাপত্তার ব্ল্যাকলিস্ট বা কালো তালিকাভুক্ত করেছিল।

চলতি মাসে ট্রাম্পের একটি নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষরের পরই অ্যানথ্রোপিক ও ওপেনএআই-এর ওপর এই সরকারি নিষেধাজ্ঞা আসে। ওই আদেশে বলা হয়েছিল, এআই ডেভেলপারদের তাদের নতুন ফ্রন্টিয়ার মডেলগুলো বিশ্বস্ত অংশীদারদের কাছে ছাড়ার অন্তত ৩০ দিন আগে মার্কিন সরকারের কাছে জমা দিতে হবে।

ওয়াশিংটনের ‘সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজ’-এর বিশ্লেষক এবং সাবেক বাণিজ্য বিভাগীয় কর্মকর্তা কেট কোরেন প্রশাসনের এই সর্বশেষ আদেশকে একটি ‘ব্যবহারিক অন্তর্বর্তী পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।

তবে তিনি আরো বলেন, কোম্পানিগুলো কীভাবে নতুন মডেলগুলো ব্যাপকভাবে সাধারণ মানুষের জন্য উন্মুক্ত করবে, সেই বড় বিষয়টি এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে। মার্কিন কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন মডেলগুলো ব্যাপকভাবে ছাড়ার ব্যবস্থা যত দেরি হবে, চীনের পক্ষে ততটাই তাদের ধরে ফেলা বা সমকক্ষ হওয়া সহজ হবে।

সূত্র: রয়টার্স

এএম

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...