ঋতুর পালাবদলে প্রকৃতিতে এখন চলছে বর্ষাকাল। এই মৌসুমে এই কাঠফাটা রোদ, আবার হঠাৎ নামে ঝুম বৃষ্টি। কখনো অঝোরে বৃষ্টি ঝরে থেমে যায়, কখনো সারা দিন অবিরাম ঝরতে থাকে বৃষ্টির কান্না। এই বর্ষাকালে রাস্তায় বের হলেই কাদা আর পানি। তবে বৃষ্টির জন্য তো আর জনজীবন থেমে থাকবে না, জীবন-জীবিকার টানে কাজে বের হতেই হবে। আর তখনই প্রয়োজন পড়ে বর্ষার অগ্রিম প্রস্তুতির।
বর্ষাকালে অন্যতম অনুষঙ্গ বর্ষাতি। বিশেষ করে যারা বাইকে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য বর্ষাতি খুবই প্রয়োজন। বলা যায়, বর্ষায় বর্ষাতি তাদের নিত্যসঙ্গী। এছাড়া ছাতার পরিবর্তে অনেকেই বর্ষাতি বা রেইনকোট ব্যবহার করেন। কারণ এতে পুরো শরীর আবৃত থাকে বলে বৃষ্টিতে শরীর তেমন ভেজে না। সুবিধার জন্য অনেকেই ছাতার পরিবর্তে বর্ষাতি বা রেইনকোট ব্যবহার করেন। হালকা রঙ ও নানা ফ্যাশনের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজারে ছেলেমেয়ে সবার জন্য বর্ষাতি পাওয়া যায়।
পশ্চিমা দেশগুলোয় সাধারণত বর্ষাতির ব্যবহার বেশি হয়। বর্তমানে আমাদের দেশেও অনেকেই রেইনকোট বা বর্ষাতি ব্যবহার করেন। তাই বর্ষার মৌসুমে আজকাল ছাতার পাশাপাশি বর্ষাতিও প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ হয়ে উঠছে। বিশেষ করে খোলা আকাশের নিচে কাজ করতে হয়, এমন পেশাজীবীর জন্য খুবই উপকারী বর্ষাতি। তাছাড়া যারা সাইকেল বা মোটরসাইকেলে চড়ে কর্মক্ষেত্রে যাতায়াত করেন, তাদের জন্য বর্ষাতি খুবই প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ। বর্ষাকালে স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীদের মধ্যেই এই বর্ষাতির ব্যবহার বেশি চোখে পড়ে।
একটি প্রাইভেট অফিসে কর্মরত নওরীন রহমান জানান, বর্ষাকালে যখন-তখন বৃষ্টি নামে। তখন যারা মোটরবাইকে চলাফেরা করেন, তাদের কাকের মতো ভিজতে হয়। মাথায় হেলমেটের পাশাপাশি সঙ্গে বর্ষাতি থাকলে আর চিন্তা করতে হয় না। তাছাড়া ভাঁজ করে ব্যাগে রাখা যায় বলে এগুলো বহন করাও সহজ। তাই অনেকেই এখন বর্ষাতি ব্যবহার করেন বর্ষার ঝুম বৃষ্টি থেকে বাঁচতে।
বর্ষাতির দরদাম
ওভারকোটের পাশাপাশি পায়জামা ও জ্যাকেট নিয়ে বাজারে রয়েছে টু-পিস রেইনকোট। এছাড়া প্লাস্টিকের লম্বা ধরনের কিছু বর্ষাতি পাওয়া যায়, যা দামেও সস্তা।
মাথার হুডিসহ কোট ও ট্রাউজারের পাশাপাশি একত্রে এক সেটের বর্ষাতিও আছে বাজারে। আছে চেইন লাগানো বা বোতাম লাগানো দু-ধরনের কোটই। কোনো কোনোটায় আবার বোতাম বা চেইন ছাড়াও আছে কোমরের কাছে ফিতা বাঁধার ব্যবস্থা।
হালকা ও গাঢ় রঙের বর্ষাতি বাজারে বেশ চলছে। যারা মোটরসাইকেল নিয়ে চলাফেরা করেন, তাদের জন্য বাজারে ফুলপ্যান্টসহ রেইনকোট পাওয়া যায়। বাজারে দেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি ভালো মানের বিদেশি ব্র্যান্ডের রেইনকোটও পাওয়া যায়। ছোট-বড় সবার জন্য প্লাস্টিকের বর্ষাতি পাবেন ৪০০ থেকে এক হাজার টাকার মধ্যে। এছাড়া যারা মোটরসাইকেলে চলাফেরা করেন, তাদের জন্য ভালো মানের বর্ষাতি পাবেন ৬০০ থেকে ১ হাজার ৬০০ টাকার মধ্যে।
বেশিরভাগ বর্ষাতিই সাধারণত প্যারাসুট কাপড় ও পিভিসি দিয়ে তৈরি। পাশাপাশি কম দামি প্লাস্টিকের বর্ষাতিও পাওয়া যায়। তবে প্লাস্টিক বা পিভিসির চেয়ে ওয়াটারপ্রুফ ভালো কাপড়ের বর্ষাতিই বেশি টেকসই।
যেখানে পাওয়া যাবে
যেসব দোকানে ছাতা পাওয়া যায়, সেসব দোকানেই পাবেন বর্ষাতি। ঢাকার নিউমার্কেট, বঙ্গবাজার, গাউসিয়া ও চাঁদনী চক এলাকায় মিলবে ছোট-বড় সব ধরনের বর্ষাতি। তবে ফ্যাশন ও নকশার দিকে খেয়াল রেখে কিনতে চাইলে বড় শপিং মলে যেতে পারেন। সেক্ষেত্রে বসুন্ধরা শপিং মল, যমুনা ফিউচার পার্ক ও ইস্টার্ন প্লাজায় নানা নকশার বর্ষাতি পাওয়া যায়। এক্ষেত্রে দামটা বেশি গুনতে হতে পারে।
এছাড়া গুলশান সিটি করপোরেশন মার্কেট, উত্তরার রাজলক্ষ্মী কমপ্লেক্সসহ রাজধানীর বিভিন্ন বিপণিবিতানেই নানা ডিজাইন ও রঙের বর্ষাতি পাওয়া যায়। কয়েকটা দেশি ব্র্যান্ডের পাশাপাশি চায়নিজ, কোরিয়ান ও ইন্ডিয়ান বর্ষাতিই বেশি বাজারে। বড়দের পাশাপাশি ছোটদের জন্য আছে বাহারি বর্ষাতি।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

