বৈঠকে ইউজিসি চেয়ারম্যান

গবেষণা বাজেট ইউজিসির মাধ্যমে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন থাকবে

স্টাফ রিপোর্টার

গবেষণা বাজেট ইউজিসির মাধ্যমে হলেও বিশ্ববিদ্যালয়ের স্বায়ত্তশাসন অক্ষুণ্ন থাকবে

বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ জানিয়েছেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা বাজেট ইউজিসির মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হলেও দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর একাডেমিক স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন সম্পূর্ণ অক্ষুণ্ন থাকবে।

তিনি বলেছেন, গবেষণা খাতে বরাদ্দকৃত অর্থের সুষ্ঠু, কার্যকর ও স্বচ্ছ ব্যবহার নিশ্চিত করতে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর প্রতিনিধিদের সম্পৃক্ত করে একটি সমন্বিত কমিটি গঠন করা হবে। পাশাপাশি গবেষণা বাজেট ব্যবস্থাপনা ও বাস্তবায়নের জন্য একটি সুস্পষ্ট নীতিমালা প্রণয়ন করবে ইউজিসি।

বিজ্ঞাপন

বৃহস্পতিবার ইউজিসি অডিটোরিয়ামে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের গবেষণা বাজেট বাস্তবায়ন বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

সভায় বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় পরিষদের সভাপতি অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব কোডের পরিবর্তে ইউজিসির কোডে গবেষণা বাজেট বরাদ্দ দেওয়ার ফলে কিছু প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। তবে শিক্ষা ও গবেষণার উন্নয়নে সরকারের অগ্রাধিকার বাস্তবায়নের পাশাপাশি বিশ্ববিদ্যালয়ের দীর্ঘদিনের স্বায়ত্তশাসনের চর্চা বজায় রাখার প্রয়োজন রয়েছে।

এর পরিপ্রেক্ষিতে ইউজিসি চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদ বলেন, সরকারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী গবেষণা বাজেট একটি নির্দিষ্ট কোডের মাধ্যমে বরাদ্দ দেওয়া হচ্ছে। ইউজিসি সরকারের সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন করবে, তবে এ কার্যক্রমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে নিয়মিত আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি কার্যকর ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

ড. মামুন আহমেদ বলেন, ২০২৫–২৬ অর্থবছরে দেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রমে মোট ৮৪৯ কোটি টাকা বরাদ্দ ছিল। এর মধ্যে পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৭৯৩ কোটি টাকা এবং বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ৫৬ কোটি টাকা পেয়েছে।

তিনি বলেন, এই অর্থের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর নিজস্ব গবেষণা তহবিল, ইউজিসির গবেষণা অনুদান এবং হিট ও আইসিএসটিইপি প্রকল্পের আওতায় দেওয়া অর্থায়ন অন্তর্ভুক্ত ছিল।

ইউজিসি চেয়ারম্যান জানান, ২০২৬–২৭ অর্থবছরের মূল বাজেটে গবেষণা খাতে ২৩৮ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর সঙ্গে হিট ও আইসিএসটিইপ প্রকল্পের অর্থায়ন যুক্ত হলে চলতি অর্থবছরে গবেষণায় মোট বরাদ্দ প্রায় ৮৫২ কোটি টাকায় পৌঁছাতে পারে। তিনি বলেন, গবেষণায় অর্থায়নে কোনো সংকট হবে না। বিভিন্ন উৎস থেকে অর্থায়নের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর গবেষণা কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।

তিনি বলেন, এ অর্থ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ উপ-খাতে ব্যয় করা হবে। অর্থবছরের শুরুতেই স্নাতক, স্নাতকোত্তর, এমফিল ও পিএইচডি পর্যায়ের গবেষণার জন্য প্রস্তাব আহ্বান করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তাদের নিজস্ব প্রাতিষ্ঠানিক প্রক্রিয়ায় গবেষণা প্রস্তাব যাচাই-বাছাই করে ইউজিসিতে পাঠাবে। পরবর্তীতে জাতীয় অগ্রাধিকার ও গবেষণার গুণগত মান বিবেচনা করে অর্থায়নের সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। দেশের আঞ্চলিক বিশ্ববিদ্যালয়গুলোও গবেষণা বরাদ্দের ক্ষেত্রে সমান সুযোগ পাবে এবং কোনো বৈষম্য সৃষ্টি হবে না।

সভায় ইউজিসি সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আনোয়ার হোসেন, অধ্যাপক ড. মো. সাইদুর রহমান, অধ্যাপক ড. মাছুমা হাবিব, অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ আইয়ুব ইসলাম এবং অধ্যাপক ড. আব্দুল্লাহ-আল-মামুন উপস্থিত ছিলেন।

এ ছাড়া দেশের ৪৫টি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, তাদের মনোনীত প্রতিনিধি এবং ইউজিসির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা সভায় অংশ নেন।

এমএমআর

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন