অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাবেক উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেছেন, অগ্নিঝরা জুলাই আন্দোলনে এ দেশের আলেম সমাজ যেভাবে বুকের তাজা রক্ত ঢেলে দিয়ে দেশকে ফ্যাসিবাদমুক্ত করেছেন, জাতি তা চিরদিন শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করবে। শুধু জুলাই আন্দোলনে নয়, বরং ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সব আন্দোলন-সংগ্রামে আলেম সমাজ নেতৃত্ব দিয়েছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি রোববার বিকেলে রাজধানীর ইনস্টিটিউশন অব ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার্স মিলনায়তনে সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের উদ্যোগে ‘জুলাইয়ের অগ্নিঝরা দিনগুলোতে উলামায়ে কেরামের অবদান’ শীর্ষক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
ড. খালিদ হোসেন আরো বলেন, জুলাই বিপ্লব-পরবর্তী গঠিত অন্তর্বর্তীকালীন সরকার ক্ষমতার স্বাদ গ্রহণ করতে পারেনি। কারণ সরকারের দায়িত্ব ছিল অনেক। সরকার সেই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে উপদেষ্টারা রাত-দিন কাজ করেছেন।
সাবেক এই উপদেষ্টা বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের জারিকৃত ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি বর্তমান সরকার বাতিল করে দিয়েছে। তার মধ্যে গুম কমিশন অধ্যাদেশ, দুদক অধ্যাদেশ, মানবাধিকার অধ্যাদেশসহ গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল করা হয়েছে। এমন সব অধ্যাদেশ বাতিল করা হয়েছে, যার ফলে সেই পুরোনো সংস্কৃতি বিদ্যমান থাকবে। এতে জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়ন হবে না। কিন্তু জুলাইয়ের চেতনা বিলীন হতে দেওয়া হবে না। জুলাইয়ের চেতনা বাস্তবায়নে আমরা ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখব, ইনশাআল্লাহ। আগামী দিনে এ দেশে কোরআনের রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠিত হবে বলেও আশাপ্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তালিমুল কোরআন ফাউন্ডেশনের সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, শুধু অগ্নিঝরা দিনগুলোতেই নয়, বরং ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগের শাসনামলের প্রতিটি রাতে ঘুমাতে যেতে ওলামায়ে কেরাম চিন্তা করতেন ফজরে মসজিদে যেতে পারবেন নাকি ক্রসফায়ারে যেতে হবে। ফ্যাসিবাদী শাসনামলের সেই দিনগুলো ছিল ভয়াবহ এবং দুর্বিষহ।
হেফাজতে ইসলাম গঠনের কারণ ও প্রক্রিয়া তুলে ধরে তিনি বলেন, আল্লামা বাবুনগরী নিজে জামায়াত আমিরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। আমিরে জামায়াতও আল্লামা বাবুনগরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। কওমি আলেম ও নেতাদের সঙ্গে জামায়াতে ইসলামীর গভীর সম্পর্ক ছিল এবং থাকবে উল্লেখ করে তিনি অশ্রুসিক্ত নয়নে বলেন, আজকে যারা হেফাজতে ইসলামের নেতৃত্বে রয়েছেন, তাদের কথাবার্তায় মনে হয় তারা আল্লামা বাবুনগরীর ওপর যেই জুলুম-নির্যাতন হয়েছে, তা ভুলে যেতে বসেছেন।
তিনি আরো বলেন, আমাদের মাঝে কোনো বিভেদ নেই, বিচ্ছেদ নেই। জামায়াতে ইসলামী মনে করে কওমি, আলিয়া সব এক কালেমায় বিশ্বাসী মুসলিম। তাই আমরা কোনো বিভেদ, বিভাজন বা বিচ্ছেদে বিশ্বাসী নই। আমাদের ঐক্য বজায় থাকলে আগামীতে রাষ্ট্র পরিচালনায় আমাদের আলেম-ওলামারা নেতৃত্ব দেবেন, ইনশাআল্লাহ। তিনি আলেম সমাজকে ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, জুলাইয়ের চেতনা ছিল বিভাজনের বিরুদ্ধে, ঐক্যের পক্ষে।
সভাপতির বক্তব্যে অধ্যক্ষ মাওলানা যাইনুল আবেদীন বলেন, এখন থেকে আমরা সব ভেদাভেদ ভুলে গিয়ে দ্বীন কায়েমের জন্য ঐক্যবদ্ধ ভূমিকা রাখব। সংসদে আলেম সমাজের যেসব প্রতিনিধিরা রয়েছেন, তারা সংসদে ভূমিকা রাখবেন। আমরা মাঠে-ময়দানে ভূমিকা রাখবো, ইনশাআল্লাহ। দ্বীন কায়েমের মাধ্যমে এই জমিন থেকে সব অন্যায়, অনাচার, শোষণ, জুলুম-নির্যাতন মুক্ত করে ন্যায় ও ইনসাফের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের মহাসচিব ড. মুহাম্মদ খলিলুর রহমান মাদানীর পরিচালনায় আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে আরো বক্তব্য দেন বিশিষ্ট ইসলামিক স্কলার মুফতি কাজী ইব্রাহিম।
এ ছাড়া বক্তব্য রাখেন বাগেরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মশিউর রহমান, হেফাজতে ইসলাম বাংলাদেশের নায়েবে আমির ও সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদ ঢাকা মহানগর সভাপতি মাওলানা আহমদ আলী কাসেমী, খেলাফত আন্দোলনের সেক্রেটারি যুগ্ম-সম্পাদক মুফতি ফখরুল ইসলাম, সম্মিলিত উলামা মাশায়েখ পরিষদের কেন্দ্রীয় সদস্য যথাক্রমে ড. মাওলানা সামিউল হক ফারুকী, ড. মাওলানা আবদুস সামাদ, আ ন ম রশিদ আহমদ মাদানী, খেলাফত আন্দোলনের নায়েবে আমির আবুল কাসেম কাসেমী, মুসলিম জনতা ঐক্য পরিষদের আমির মাওলানা আজিজুর রহমান আজিজ, ছারছিনা দরবার শরীফের ছোট হুজুর মাওলানা শাহ মুহাম্মদ আরিফ বিল্লাহ সিদ্দিকী, উলামা কমিটি ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সভাপতি অধ্যক্ষ মাওলানা মোশাররফ হোসাইন, উত্তরের সভাপতি ড. মাওলানা মীম আতিকুল্লাহ, মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন, অধ্যক্ষ মাওলানা শহীদুল্লাহ, হাবীবুল্লাহ মুহাম্মদ ইকবাল, ড. সাইফুল ইসলাম রফিক, খালিদ সাইফুল্লাহ বকশী, মাওলানা লুৎফর রহমান, মুফতি মহিউদ্দিনসহ বিশিষ্ট আলেমরা।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

