ইরান যুদ্ধ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে ফাটল ধরাল

সুশান্ত সিং

ইরান যুদ্ধ যেভাবে যুক্তরাষ্ট্র-ভারত সম্পর্কে ফাটল ধরাল

গত ১২ জুন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর আমেরিকার সেক্রেটারি অব স্টেট মার্কো রুবিওকে ফোন করেছিলেন। ওমান উপসাগরে মার্কিন হামলায় তিন ভারতীয় নাবিক নিহত হয়েছে। জয়শঙ্কর এ ঘটনায় তীব্র প্রতিবাদ জানান। ঘটনাটি ঘটেছিল ৯ জুন। নাবিকরা ছিলেন পালাউয়ের পতাকাধারী ‘সেত্তেবেলো’ নামের একটি ট্যাংকারে। আমেরিকার দাবি, ট্যাংকারটি ইরান-সংশ্লিষ্ট জাহাজের ওপর জারি করা অবরোধ অমান্য করেছিল।

চলতি সপ্তাহে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে একটি শান্তি চুক্তি হয়েছে। তবে মনে হচ্ছে, ওয়াশিংটন ও নয়াদিল্লির মধ্যকার এই কূটনৈতিক ফাটল ইরান যুদ্ধের চেয়েও দীর্ঘস্থায়ী হবে।

বিজ্ঞাপন

জয়শঙ্করের প্রতি রুবিওর প্রতিক্রিয়া ছিল বেশ কঠোর। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, এই অঞ্চলে নৌনিরাপত্তা রক্ষা এবং যেকোনো হুমকি মোকাবিলায় মার্কিন বাহিনী প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ জারি রাখবে। এই মৃত্যুর ঘটনায় রুবিও কোনো দুঃখ প্রকাশ করেননি, ক্ষমাও চাননি। ভবিষ্যতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি হবে না, আমেরিকার কৌশলগত অংশীদার ভারতকে এমন কোনো আশ্বাসও তিনি দেননি।

এই কূটনৈতিক টানাপোড়েন এমন এক সময়ে ঘটল, যখন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানাচ্ছিলেন। ভারতের সবচেয়ে দীর্ঘমেয়াদি প্রধানমন্ত্রী হওয়ায় মোদিকে অভিনন্দন জানিয়েছিলেন ট্রাম্প। একই সময়ে ফ্রান্সে জি-৭ শীর্ষ সম্মেলনের ফাঁকে দুই নেতার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের প্রস্তুতিও চূড়ান্ত হচ্ছিল।

দুই নেতার বৈঠকের পর ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু নিয়ে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করা হয়েছিল। ট্রাম্প জবাব দিলেন, ‘আমরা ওই মানুষদের সবাইকে ভালোবাসি।’ তিনি মোদির প্রশংসায় পঞ্চমুখ হলেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক নিয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো ঘোষণা দেননি। এমনকি ‘কোয়াড’-সংক্রান্ত প্রশ্নটিও তিনি এড়িয়ে যান।

আজকের ভারত-আমেরিকা সম্পর্কের চিত্রটা এমনই। বাইরে থেকে মনে হয় সম্পর্কটা পাথরের মতো শক্ত। কিন্তু ভেতরে ভেতরে কৌশলগত বিশ্বাসের জায়গাটা ভেঙে গেছে। মে মাসে রুবিওর ভারত সফরই তার প্রমাণ। ওয়াশিংটন একে স্বাভাবিক দেখাতে চাইলেও, নয়াদিল্লি বুঝতে পারছে যে, তাদের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ পশ্চিমা অংশীদার তাদের কৌশলগত স্বাধীনতাকে খর্ব করছে।

ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক খারাপ হওয়ার পেছনে দুটি মূল কারণ দেখা যাচ্ছে। যুদ্ধ শেষ হলেও এই ক্ষতি পূরণ হবে না। প্রথম কারণটি হলো, এই যুদ্ধের ফলে ভারতের অর্থনীতিতে বড় ধরনের সংকট তৈরি হয়েছে। দ্বিতীয় কারণটি রাজনৈতিক। ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে বন্ধুত্বের ওপর ভরসা করে মোদি নিজের যে ভাবমূর্তি তৈরি করেছিলেন, এখন তাকে তার মাশুল দিতে হচ্ছে।

দুই দেশের কৌশলগত লক্ষ্যের মধ্যে একটা বড় অমিল রয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও হয়তো এই অমিল থেকে যাবে।

ভারতে ইরান যুদ্ধের অর্থনৈতিক প্রভাব পড়েছে সরাসরি। ভারত তার প্রয়োজনের প্রায় ৮৯ শতাংশ তেল আমদানি করে। ফলে বিশ্ববাজারে একটু সমস্যা হলেই ভারতকে বড় ধাক্কা খেতে হয়। অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ায় দেশের ভেতরে মুদ্রাস্ফীতি দেখা দিয়েছে। সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে গেছে। হরমুজ প্রণালিতে অচলাবস্থার কারণে ভারত সার ও রান্নার গ্যাসের তীব্র সংকটে পড়েছে।

এই জ্বালানি সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে আরেক সমস্যা। মধ্যপ্রাচ্যে অস্থিরতার কারণে সেখানকার স্থানীয় অর্থনীতি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ফলে সেখানে কর্মরত ভারতীয় প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স কমে গেছে। আয় কমে যাওয়ায় এবং সামুদ্রিক মালবাহী জাহাজের বীমা খরচ বেড়ে যাওয়ায় ভারতের রপ্তানি খাত বড় ধাক্কা খেয়েছে। দুই বছর আগেও ভারতীয় কর্মকর্তারা বড়াই করে বলতেন, ভারত শিগগিরই বিশ্বের তৃতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি হবে। এখন ভারত উল্টো ষষ্ঠ স্থানে নেমে গেছে।

এ সংকটের কারণে ভারতীয় রুপি এশিয়ার সবচেয়ে দুর্বল মুদ্রায় পরিণত হয়েছে। দেশ থেকে বিপুল পরিমাণ পুঁজি বাইরে চলে যাচ্ছে। বিদেশি বিনিয়োগকারীরা ভারতের শেয়ার ও ঋণ বাজার থেকে রেকর্ড পরিমাণ টাকা তুলে নিচ্ছেন। তারা তাইওয়ান বা দক্ষিণ কোরিয়ার মতো নিরাপদ জায়গায় বিনিয়োগ করছেন। এই অর্থনৈতিক মন্দার সঙ্গে সরকারের আর্থিক ঘাটতিও বাড়ছে। ফলে সরকার জনকল্যাণমূলক কাজে বা ক্ষতিগ্রস্ত খাতে সাহায্য করতে পারছে না।

ভারত ভেবেছিল তার অর্থনৈতিক কাঠামো দেশের ক্ষমতাকে বিশ্বমঞ্চে তুলে ধরবে। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের একতরফা সিদ্ধান্তের কারণে সেই কাঠামোই এখন চরম ঝুঁকির মুখে।

ইরান যুদ্ধ মোদির জন্য রাজনৈতিক সংকটও তৈরি করেছে। মোদির পুরো রাজনীতিই দাঁড়িয়ে আছে ভারতের শক্তি প্রদর্শনের ওপর। মার্কিন হামলায় ভারতীয় নাবিকদের মৃত্যু সেই যুদ্ধের মানবিক মূল্য সরাসরি জনগণের সামনে নিয়ে এসেছে। এর ঠিক আগেই আরেকটি ঘটনা ঘটেছিল। আমেরিকা ভারতের উপকূলের কাছে একটি ইরানি জাহাজ ডুবিয়ে দিয়েছিল। ভারত যে ভারত মহাসাগর অঞ্চলের মূল নিরাপত্তা রক্ষাকারী, এই দাবি ওই ঘটনার পর সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়ে।

নিজের নাগরিকদের রক্ষা করতে বা নিজেদের সামুদ্রিক অঞ্চলের নিরাপত্তা দিতে ভারতের এই ব্যর্থতা তাদের কথা ও কাজের অমিল সামনে নিয়ে এসেছে। মোদি নিজেকে বিশ্বমঞ্চে উদীয়মান ভারতের নেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছিলেন। স্বাভাবিকভাবেই এ ঘটনা দেশের ভেতরে তার ভাবমূর্তিকে বড় ধাক্কা দিয়েছে।

এ সংকটের আরেকটি দিক হলো দক্ষিণ এশিয়ার ক্ষমতার ভারসাম্যের পরিবর্তন। প্রায় এক দশক ধরে মোদি পাকিস্তানকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করার নীতি নিয়ে চলেছেন। তিনি পাকিস্তানকে সন্ত্রাসের মদতদাতা এবং আঞ্চলিকভাবে গুরুত্বহীন রাষ্ট্র হিসেবে তুলে ধরেছেন। কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসন ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানকেই কাজে লাগিয়েছে। ফলে আমেরিকার যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার কৌশলে পাকিস্তান অপরিহার্য হয়ে উঠল।

যখন সরাসরি আলোচনা রাজনৈতিকভাবে কঠিন ছিল, তখন ইসলামাবাদ আমেরিকার জন্য গোপন মাধ্যম হিসেবে কাজ করেছে। ১৪ জুন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফই প্রথম প্রাথমিক শান্তিচুক্তির ঘোষণা দেন। ভারতের জন্য এটি একটি বড় ধাক্কা। তাদের প্রধান প্রতিপক্ষ আমেরিকার একটি সামরিক অভিযানকে নিজেদের কূটনৈতিক সাফল্যে রূপ দিতে পেরেছে।

ওয়াশিংটনের সঙ্গে নয়াদিল্লির এই পরিবর্তিত সম্পর্ক বুঝতে হলে রুবিওর সাম্প্রতিক ভারত সফরের দিকে তাকাতে হবে। এ সফরটি দেখিয়ে দিয়েছে, বাইরে যা দেখানো হচ্ছে আর ভেতরে যা ঘটছে, তার মধ্যে কত বড় ফারাক। ভারত রুবিওর সফরকে দেখছিল সম্পর্ক জোড়া লাগানোর চেষ্টা হিসেবে। অন্যদিকে আমেরিকা এমন ভাব দেখাল, যেন কোনো সমস্যাই হয়নি।

ভারতে এসে রুবিও দাবি করলেন, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক একদম স্থিতিশীল রয়েছে। মার্কিন নীতির কারণে যে ফাটল ধরেছে, তা তিনি পাত্তাই দিলেন না। তিনি মোদিকে হোয়াইট হাউসে যাওয়ার আমন্ত্রণও জানান। ভারতীয় কর্মকর্তারা অবশ্য একটু রক্ষণশীল কূটনীতির আশ্রয় নেন। তারা সরাসরি বিবাদে না জড়িয়েও তাদের অসন্তোষ প্রকাশ করেন।

ভারতের সরকারি বিবৃতিতে রুবিওর দেওয়া হোয়াইট হাউসের আমন্ত্রণের বিষয়টি কৌশলে এড়িয়ে যাওয়া হয়। রুবিও যখন আগামী পাঁচ বছরে ভারতকে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের মার্কিন পণ্য কেনার লক্ষ্যমাত্রা বেঁধে দিলেন, নয়াদিল্লি তখন হিসাব কষে চুপ করে থাকল। এই বিশাল পরিমাণ পণ্য কিনলে আমেরিকার সঙ্গে ভারতের যে বাণিজ্যিক উদ্বৃত্ত ছিল, তা ঘাটতিতে রূপ নেবে।

রুবিওর সফরের ফল ছিল খুবই সীমিত। খনিজ সহযোগিতা নিয়ে শুধু একটি আনুষ্ঠানিক চুক্তি হয়েছে। এটি আসলে ইন্দো-প্যাসিফিক কোয়াড এবং ওয়াশিংটনের ‘প্যাক্স সিলিকা’ উদ্যোগের একটি পুনরাবৃত্তি মাত্র। ইন্দো-প্যাসিফিকের যে বন্ধন, তা আলগা হয়ে গেছে। কারণ যে কৌশলগত যুক্তির ওপর এই অংশীদারত্ব গড়ে উঠেছিল, তার আজ তেমন ভিত্তি নেই। এর মানে হলো, এই অঞ্চলটি এখন আর কোনো একক কৌশলগত নীতিতে চলছে না, বরং যে যার নিজস্ব স্বার্থ দেখছে।

কোয়াডের প্রতি ট্রাম্পের দৃষ্টিভঙ্গি বদলে গেছে। চীনকে ঠেকানোর বড় কোনো জোটের চেয়ে একে তিনি এখন শুধু একধরনের বাণিজ্যিক লেনদেনের মাধ্যম হিসেবে দেখছেন। রুবিওর সফরের সময় কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠক হয়েছিল, কিন্তু কোনো শীর্ষ সম্মেলন হয়নি। ১৬ জুন মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর তাদের এই অঞ্চলের কমান্ডের নাম পরিবর্তন করে আবার পুরোনো নাম ‘প্যাসিফিক কমান্ড’ বা প্রশান্ত মহাসাগরীয় কমান্ডে ফিরিয়ে নিয়ে যায়। আগে এর নাম দেওয়া হয়েছিল ইন্দো-প্যাসিফিক কমান্ড। এটিও প্রমাণ করে যে ইন্দো-প্যাসিফিকের গুরুত্ব কমছে।

তারপরও, আমেরিকা ও ভারতের মধ্যে আমলাতান্ত্রিক ও সামরিক সম্পর্ক এতটাই গভীর যে তা পুরোপুরি বন্ধ হওয়া কঠিন। ‘ইনিশিয়েটিভ অন ক্রিটিক্যাল অ্যান্ড এমার্জিং টেকনোলজি’ (ICET) এবং গভীর প্রতিরক্ষা সহযোগিতা এর মূল ভিত্তি। দুই দেশ যৌথ সামরিক মহড়া দেয়। ভারত মহাসাগরের তথ্য আদান-প্রদান করে। ভারত এখনো আমেরিকার কাছ থেকে প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম কিনছে।

তবে বিশ্বাসের ঘাটতি যদি থেকেই যায়, তবে এই সহযোগিতার ক্ষেত্রগুলো সীমিত হয়ে পড়বে। আইসিইটি এবং প্রতিরক্ষা খাতের কাজগুলোর গতি কমে যাবে। মার্কিন রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা এবং প্রযুক্তি হস্তান্তরের বাধা এর বড় কারণ। ট্রাম্প প্রশাসন তাদের নিজস্ব শিল্পকে অগ্রাধিকার দেবে এবং প্রযুক্তি বিনিময়ের ক্ষেত্রে কঠোর শর্ত আরোপ করবে। তখন ভারতকে বিকল্প পথ খুঁজতে হবে বা নিজেদের প্রযুক্তি তৈরি করতে হবে।

আমেরিকার এই সংরক্ষণবাদী নীতি এবং ভারতের দুর্বলতা এরই মধ্যে ভারতের পররাষ্ট্রনীতিতে পরিবর্তন আনতে বাধ্য করেছে। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ মিলছে চীনের প্রতি ভারতের আচরণে।

নয়াদিল্লি এখন বেইজিংকে নানাভাবে ছাড় দিতে শুরু করেছে। আগের সেই কঠোর অবস্থান থেকে তারা সরে আসছে। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষে ২০ জন ভারতীয় সেনা নিহত হয়েছিলেন। মোদি সরকার দেশের চলচ্চিত্র নির্মাতাদের নির্দেশ দিয়েছে এ ঘটনা নিয়ে কোনো সিনেমা না বানাতে। ভারতের বিদায়ি চিফ অব ডিফেন্স স্টাফ গত বছর পাকিস্তানের সঙ্গে সামরিক সংঘাতের সময় বেইজিংয়ের পাকিস্তানকে সাহায্য করার বিষয়টিকেও হালকাভাবে এড়িয়ে গেছেন। এই পদক্ষেপগুলো চীনের সঙ্গে সম্পর্ক সাময়িকভাবে স্বাভাবিক করার চেষ্টা হিসেবে দেখা যেতে পারে। তবে এগুলোই এখন স্থায়ী রূপ নিচ্ছে। এই সম্পর্ক যদি এভাবে চলতে থাকে, তবে ভবিষ্যতের কোনো মার্কিন প্রশাসনও হয়তো চীনকে ঠেকানোর জন্য ভারতকে আর পাশে পাবে না।

আমেরিকা একসময় ভারতের সবচেয়ে বিশ্বস্ত অংশীদার ছিল। ওয়াশিংটন যতই মুখে ভালো ভালো কথা বলুক, সেই বিশ্বাস আজ ভেঙে গেছে। ভারতের নেতৃত্ব আশা করছে সম্পর্কটা কোনোমতে টিকিয়ে রেখে ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদটা পার করে দিতে। কিন্তু আন্তর্জাতিক সম্পর্কে কোনো কিছুই চিরকাল স্থির থাকে না। একটি বাস্তবসম্মত কৌশল হতে পারত সহযোগিতার সীমা টেনে দেওয়া, যতক্ষণ না আমেরিকা ভারতকে সমমর্যাদা দিচ্ছে এবং ভারতের মূল স্বার্থকে সম্মান করছে। কিন্তু যদি এমন হয় যে, এ সমস্যাটি শুধু একজন প্রেসিডেন্টের কারণে হচ্ছে না বা যদি এটি আমেরিকার নিজস্ব অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক বাধ্যবাধকতার কারণে হয়ে থাকে এবং এই পরিবর্তনটা যদি স্থায়ী হয়, তাহলে কী হবে?

দীর্ঘ মেয়াদে ভারতের নীতিনির্ধারকদের বুঝতে হবে, আমেরিকার সঙ্গে অংশীদারত্বের মূল ভিত্তিটাই বদলে গেছে। মিষ্টি কূটনৈতিক ভাষা বা দেশের সংবাদমাধ্যমকে শান্ত রেখে এই সত্য আড়াল করা যাবে না। অন্ধ অংশীদারত্বের অবাস্তব মোহ ভারতকে আজ এক অস্থির আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মুখোমুখি এনে দাঁড় করিয়েছে।

ভারতের টিকে থাকা কোনো নির্দিষ্ট মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিদায়ের ওপর নির্ভর করে না। ভারতকে নিজের শক্তি বাড়াতে হবে এবং এই বিভক্ত পৃথিবীতে নিজের বিকল্প পথগুলো নিজেদেরই তৈরি করে নিতে হবে।

লেখক : ইয়েল ইউনিভার্সিটির দক্ষিণ এশীয় স্টাডিজের শিক্ষক এবং ভারতের ক্যারাভান ম্যাগাজিনের কনসাল্টিং এডিটর

ফরেন পলিসি অবলম্বনে জুলফিকার হায়দার

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন