ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার যুবক বললেন, ‘স্ত্রীকে জানাবেন না আমি বেঁচে আছি’

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধার যুবক বললেন, ‘স্ত্রীকে জানাবেন না আমি বেঁচে আছি’

১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা হলো যুবককে। মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখে বেঁচে ফিরলেন ভেনেজুয়েলার যুবক হার্নান আলবার্টো গিল ফ্লোরেস।

ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে যখন প্রাণের খোঁজ চলছিল, সেই সময়েই গিলের হদিস পান উদ্ধারকারীরা। তবে তাঁকে উদ্ধার করা খুব একটা সহজ কাজ ছিল না বলে জানিয়েছেন এক উদ্ধারকারী। বহুতলের ভেঙে পড়া কংক্রিটের জঙ্গল সরিয়ে গিলকে উদ্ধার করতে ১০০ ঘণ্টারও বেশি সময় লেগেছে।

বিজ্ঞাপন

কোস্টা রিকার উদ্ধারকারী দলের এক সদস্য মিনইয়ার কোলাডো সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ‘আমরা যখন গিলকে উদ্ধার করলাম, ক্ষীণ কণ্ঠে তিনি আমাদের বারবার একটা কথাই বলছিলেন, আমি বেঁচে আছি এ কথাটা স্ত্রীকে জানাবেন না।’

কোলাডো জানান, একটা নতুন জীবন পাওয়ার পরও গিলের এ ধরনের অনুরোধ শুনে স্তম্ভিত হয়ে গিয়েছিলেন উদ্ধারকারীরা। কেন তিনি এ কথা বলছেন, এটা জানতে চাওয়ায় গিল বলেছিলেন, ‘আমি এখন বেঁচে আছি ঠিকই, কিন্তু কতক্ষণ বাঁচব তারও তো নিশ্চয়তা নেই! তাই স্ত্রীকে না জানানোই ভালো।’ তবে গিলের বেঁচে ফেরার খবর পৌঁছে গিয়েছিল তার স্ত্রী গুসবিমান গোনজালেজের কাছে।

আট দিন ধরে ধ্বংসস্তূপের নীচে আটকে ছিলেন গিল। বাঁচার জন্য মরিয়া চেষ্টা করে গিয়েছেন। গিল বলেন, ‘একটা সময় মনে হয়েছিল, উদ্ধারকারীরা হয়তো আমার কাছে পৌঁছোতেই পারবেন না। আমি যে এখানে আটকে রয়েছি, কেউ জানতেই পারতেন না। ঈশ্বরের কৃপায় বেঁচে ফিরলাম।’

গত ২৪ জুন দুই দফা ৭ মাত্রার ভূমিকম্প হয়েছিল ভেনেজুয়েলায়। প্রথমটির কম্পনমাত্রা ছিল ৭.২ এবং দ্বিতীয়টির ৭.৫। এতে মৃত্যু হয়েছে আড়াই হাজারেরেও বেশি মানুষের। এখনও প্রাণের খোঁজ চলছে ধ্বংসস্তূপের নিচে। আর কেউ বেঁচে আছেন কি না, সেই খোঁজ যখন চলছিল, তখনই ১৪০ টন কংক্রিটের ধ্বংসস্তূপের নীচে থেকে জীবিত অবস্থায় পাওয়া গেল গিলকে।

স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলির প্রতিবেদন অনুযায়ী, গিল স্থানীয় একটি বহুতল শপিং মলে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করতেন। যে সময়ে ভূমিকম্প হয় সেই সময়ে তিনি শপিং মলের বেসমেন্টে ছিলেন। পুরো শপিং মল কম্পনে ধসে গিয়েছিল।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

সর্বশেষ

এলাকার খবর
Loading...