এক্সিওসের প্রতিবেদন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় কাতার, সৌদি ও পাকিস্তান

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ বন্ধের চেষ্টায় কাতার, সৌদি ও পাকিস্তান
ছবি: সংগৃহীত

যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে বাড়তে থাকা উত্তেজনা কমানো এবং পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে আবার আলোচনা শুরু করতে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে কয়েকটি আঞ্চলিক দেশ । সূত্রের বরাত দিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম এক্সিওসের প্রতিবেদনে বলা হয়, পরিস্থিতি শান্ত করার প্রচেষ্টায় বুধবার যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় দেশের কর্মকর্তাদের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে কথা বলেছেন কাতার, পাকিস্তান, তুরস্ক, মিশর ও সৌদি আরবের কর্মকর্তারা ।

মধ্যস্থতার সঙ্গে জড়িত একটি আঞ্চলিক সূত্র অ্যাক্সিওসকে জানিয়েছেন ‘প্রথম লক্ষ্য হলো দুই পক্ষকে উত্তেজনা কমাতে রাজি করানো। এরপর পারমাণবিক চুক্তি নিয়ে বিশেষজ্ঞ পর্যায়ের নতুন বৈঠকের তারিখ ঠিক করা।

বিজ্ঞাপন

এদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরগচি পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনিরকে বলেছেন, হামলা দুই দেশের মধ্যে হওয়া সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘন করেছে যুক্তরাষ্ট্র।

মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর একজন কর্মকর্তা এক্সিওসকে জানান, ‘তাদের ধারণা হরমুজ প্রণালিতে সাম্প্রতিক হামলাগুলো ইরানের এমন কিছু কট্টরপন্থি গোষ্ঠী করেছে, যারা যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারকটির বিরোধী এবং একে দুর্বল করতে চায়।’

এক্সিওসের তথ্যমতে, সাম্প্রতিক উত্তেজনার আগে পারমাণবিক চুক্তির বিষয়ে কিছুটা অগ্রগতি হয়েছিল। তাই তারা চাইছেন সেই আলোচনা পুরোপুরি ভেঙে না পড়ুক।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বুধবার ঘোষণা করেন যে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান সমঝোতা স্মারক ও যুদ্ধবিরতি ‘শেষ’ হয়ে গেছে এবং তিনি দুই দফা বিমান হামলার নির্দেশ দেন। তবে তিনি এখনো হরমুজ প্রণালি আবার নিরাপদভাবে খুলে দিতে চান এবং পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধ এড়াতে আগ্রহী।

দুই দেশ পাল্টাপাল্টি হামলা চালায়। এর শুরু হয় ইরানের পক্ষ থেকে হরমুজ প্রণালিতে তিনটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার পর।

এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র টানা দুই রাত ইরানে হামলা চালায়। মার্কিন হামলার প্রতিশোধ হিসেবে তেহরান বৃহস্পতিবার বাহরাইন, কুয়েত, কাতার ও জর্ডানে মার্কিন সামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালায়।

অ্যাক্সিওসের মতে, বৃহস্পতিবার আগের দুই দিনের তুলনায় পরিস্থিতি উল্লেখযোগ্যভাবে শান্ত ছিল। ইরানের কিছু গণমাধ্যমে দক্ষিণ ইরানে বিস্ফোরণের খবর প্রকাশিত হলেও, মার্কিন কর্মকর্তারা বলেছেন যে মার্কিন সামরিক বাহিনী সেদিন কোনো নতুন হামলা চালায়নি। একজন কর্মকর্তা এই বিরতির কারণ হিসেবে উত্তেজনা প্রশমনের প্রচেষ্টাকে উল্লেখ করেছেন।

ট্রাম্প বৃহস্পতিবার বিকেলে তার শীর্ষ জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে ইরানের সঙ্গে উত্তেজনা এবং পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে বৈঠক করেছেন।

বৈঠকের পর একজন মার্কিন কর্মকর্তা বলেন, প্রশাসন একটি সমাধান খুঁজে বের করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং পারমাণবিক চুক্তির লক্ষ্যে কারিগরি পর্যায়ের আলোচনা অব্যাহত রয়েছে।

সূত্র: টার্কি টুডে

আরএ

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন