কনডেম সেলে সারাক্ষণই অপেক্ষায় দিন কাটে ইয়াসমিনের। কেউ যদি তার খোঁজ নিতে আসে! কিন্তু কেউই খোঁজ নেয় না। পরিবার-পরিজন এবং স্বজন—সবারই একরাশ ঘৃণা তার প্রতি।
প্রতিবেশী দুই শিশু হত্যার ঘটনায় ইয়াসমিনকে ফাঁসির দণ্ড দেয় আদালত। বন্দি রয়েছেন চট্টগ্রাম কারাগারে। তার পরকীয়া প্রেমের সাক্ষী ছিল ওই দুই শিশু, যে কারণে তাদের দুনিয়া থেকে সরিয়ে দেয় ইয়াসমিন ও তার পরকীয়া সঙ্গী। সামনে মৃত্যুর রশি ঝুলে থাকা ইয়াসমিন এখন ইবাদত-বন্দেগিতে মনোনিবেশ করেছেন। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করছেন। তসবিহ্ জপতেও দেখা যায় কখনো কখনো। কারা দপ্তরের নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে কনডেম সেলে থাকা ইয়াসমিনের ব্যাপারে এসব তথ্য পাওয়া গেছে।
চট্টগ্রাম কারা কর্তৃপক্ষ এবং আদালতের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলায় প্রতিবেশী দুই শিশুকে হত্যার দায়ে ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত কুমিল্লার ইয়াসমিনের খোঁজখবর কেউ রাখে না। ফাঁসি কার্যকরের অপেক্ষায় থাকা ইয়াসমিন ধুঁকছেন চট্টগ্রাম কারাগারের কনডেম সেলে। পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আর ইবাদত-বন্দেগি করে দিন পার করছেন তিনি। নিয়মানুযায়ী কনডেম সেলের আসামিদের জন্য কারাগারে কোনো কাজ না থাকায় ভেতরেই চুপচাপ থাকেন তিনি। মাঝেমধ্যে অপেক্ষায় থাকেন—কারারক্ষীরা তাকে কখনো ডেকে বলবেন, কেউ তার খোঁজ নিতে এসেছে। কিন্তু তার খোঁজখবর নিতে কেউ আসে না।
আদালতের নথিপত্র সূত্রে জানা গেছে, কুমিল্লার মুরাদনগরের লাজৈর গ্রামের প্রবাসী বাবুল হোসেনের স্ত্রী ইয়াসমিন পরকীয়ায় জড়িয়ে পড়েন। একদিন তাকে পরকীয়া প্রেমিকের সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে দেবরের ছেলে আরাফাত। এরপর ২০১৪ সালের ২১ এপ্রিল তাকে ভুট্টাক্ষেতে নিয়ে গলা কেটে হত্যা করেন এই নারী। ওই ঘটনা দেখে ফেলায় জসিম নামে আরেক শিশুকেও একই কায়দায় হত্যা করেন তিনি। পরে লাশ খালে ডুবিয়ে দেন। এ কাজে তাকে সহযোগিতা করেন তার চাচি শাশুড়ি মাজেদা বেগম। শিশুদের হত্যা করে রক্তাক্ত কাপড়ে পালিয়ে যাওয়ার সময় এলাকাবাসী তাকে আটক করে পুলিশে দেন। ঘটনার পর মাজেদা বেগম আত্মগোপনে চলে যান। পরে ২০২২ সালে র্যাব-১১ তাকে চট্টগ্রামের ফটিকছড়ির দুর্গম পাহাড়ি এলাকা থেকে আটক করে।
ইয়াসমিনকে উদ্ধৃত করে চার্জশিটে পুলিশ উল্লেখ করে, ঘটনার দিন বেলা ১১টার দিকে আরাফাত ও জসিমকে হত্যার পর বাড়ির পাশে কালাডুমুর নদীতে ফেলে দেওয়া হয়। পরে পুলিশ নদী থেকে দুই শিশুর লাশ উদ্ধার করে।
ওই ঘটনায় আরাফাতের বাবা বিল্লাল হোসেন বাদী হয়ে মুরাদনগর থানায় ইয়াসমিনকে প্রধান আসামি, মাজেদা বেগমকে সহযোগী এবং অজ্ঞাত দুই-তিনজনকে আসামি করে হত্যা মামলা করেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া শেষে কুমিল্লার অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ তৃতীয় আদালতের বিচারক রোজিনা খান ২০২৩ সালের ফেব্রুয়ারিতে তাকে মৃত্যুদণ্ডের রায় দেন এবং তার সহযোগী মাজেদাকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেন।
ফাঁসির রায় শুনে ওই সময় আদালতে জ্ঞান হারান ইয়াসমিন আর মাজেদা বেগম। তবে কনডেম সেলে এখন আর কাঁদেন না ইয়াসমিন।
কারাগার সূত্র জানায়, তিনি সব সময় চুপচাপই থাকেন। কোনো চিৎকার-চেঁচামেচি বা কারো সঙ্গে খারাপ আচরণ করেন না ইয়াসমিন।
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



সরানো হচ্ছে ৫ আগস্টের আগের ১৬৯ পুলিশ সদস্যকে