চট্টগ্রাম মহানগরীতে প্রস্তাবিত মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাই-সংক্রান্ত স্বাক্ষরিত সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) এবং কার্যকরী স্মারক (এমওএ) বাতিল ঘোষণা করেছে চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশন (চসিক)। একই সঙ্গে চসিকের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ ব্যক্তি, মিশরের একটি প্রতিষ্ঠানের কথিত প্রতিনিধি কাউসার আলম চৌধুরীর কোনো বৈধ অনুমোদন না থাকার বিষয়টিও নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার প্রতারণার বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পর আজ চসিক মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এ আদেশ জারি করেন।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
চট্টগ্রাম মহানগরীতে মনোরেল প্রকল্পের সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের লক্ষ্যে আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিন্সুয়ালা কনসোর্টিয়ামের প্রতিনিধি দাবি করা কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে গত বছরের ১ জুন চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়। পরবর্তীতে একই বছরের ২৪ জুন একটি কার্যকরী স্মারকও (এমওএ) স্বাক্ষরিত হয়েছিল। প্রকল্পটির প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও সহযোগিতার জন্য বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা), সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয় এবং স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে গত বছরের ২৫ জুন চসিকের পক্ষ থেকে চিঠিও পাঠানো হয়েছিল। তবে পুরো প্রক্রিয়াটি হয়েছিল একজন প্রতারক ব্যক্তির সঙ্গে। চসিকের মতো স্থানীয় সরকারের একটি গুরুত্বপূর্ণ সংস্থার প্রধান, অর্থাৎ মেয়র এবং অন্যান্য কর্মকর্তাদের বিভ্রান্ত করে গুরুত্বপূর্ণ চুক্তি সম্পাদন করেন তিনি। এমনকি ওই চুক্তিপত্রের কপি প্রধানমন্ত্রীর কাছেও পাঠানো হয়েছিল।
যেভাবে জালিয়াতি প্রকাশ পেল
চসিক সূত্রে জানা যায়, বুধবার, ২৪ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে প্রাপ্ত এক ই-মেইলের মাধ্যমে জানানো হয় যে, ঢাকায় অবস্থিত মিশরীয় দূতাবাস এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী চসিকের সঙ্গে চুক্তিকারী কাউসার আলম চৌধুরী আরব কন্ট্রাক্টরস ওরাসকম পেনিন্সুলা কনসোর্টিয়ামের কোনো অনুমোদিত প্রতিনিধি নন। মিশরীয় দূতাবাস গত ২২ জুন এবং পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ২৩ জুন চিঠির মাধ্যমে বিষয়টি নিশ্চিত করে। তবে সম্প্রতি একটি জাতীয় দৈনিকে মনোরেল জালিয়াতির বিষয়টি প্রকাশিত হলে চসিক ও মন্ত্রণালয় নড়েচড়ে বসে।
ভুয়া প্রতিনিধির বিষয়টি নিশ্চিত হওয়ার পরপরই চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের মেয়র ডা. শাহাদাত হোসেন এক অফিসিয়াল আদেশের মাধ্যমে কাউসার আলম চৌধুরীর সঙ্গে স্বাক্ষরিত পূর্বের সব এমওইউ এবং এমওএ তাৎক্ষণিকভাবে বাতিল ঘোষণা করেন।
এই আদেশের অনুলিপি বিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান, স্থানীয় সরকার বিভাগের সচিব, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আফ্রিকা অনুবিভাগের মহাপরিচালক এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য দপ্তরে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য পাঠানো হয়েছে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

