আমেরিকায় ইসরাইলি দম্ভের অবসান

সৈয়দ মূসা রেজা

আমেরিকায় ইসরাইলি দম্ভের অবসান
প্রতীকী ছবি

কমলাকান্ত ভট্টাচার্যের রচিত সেই বিখ্যাত আকুল করা শ্যামা সংগীত—‘মা… আমার সাধ না মিটিল আশা না পুরিলো/সকলি ফুরায়ে যায় মা... পৃথিবীর কেউ ভালো তো বাসে না/এ পৃথিবী ভালোবাসিতে জানে না’—আজ যেন এক অন্তহীন, রূঢ় ও নির্মম দুঃস্বপ্নের মতো ক্ষণে ক্ষণে অনুরণিত হচ্ছে খোদ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ইসরাইল ভক্তদের মনে। নিজের পরম আরাধ্য মায়ের কাছে সন্তানের যে আকুতি আর পৃথিবীর কাছ থেকে ভালোবাসা না পাওয়ার যে বুকফাটা হাহাকার, তা যেন আজ আমেরিকার মাটিতে দাঁড়িয়ে পুড়তে থাকা ইসরাইল অনুরাগীদের নিয়তি হয়ে উঠেছে। ক্ষমতার দম্ভে অন্ধ এই ইসরাইল প্রেমিকদের কেউ কি কখনো স্বপ্নেও ভেবেছিল, যে দেশটিকে তারা নিজেদের সবচেয়ে নিরাপদ দুর্গ মনে করত, সেই আমেরিকার বুকেই খোদ ইসরাইলের বিরুদ্ধে মত-পথের জয়রথ এমন গড়গড় করে চলতে শুরু করবে? কিন্তু প্রকৃতির এক অমোঘ নিয়মে আজ সেই রূঢ় বাস্তবই তাদের সামনে হাজির হয়েছে, যা তাদের এত কালের সাজানো ক্ষমতার বাগানে এক প্রলয়ংকরী ও বিধ্বংসী ঝড় এনে দিয়েছে।

দেশটিতে আজ ডেমোক্র্যাটদের এক বড় পক্ষ যখন প্রকাশ্য রাজপথে ও ব্যালট বাক্সে ভোট দিয়ে ইসরাইলের সবচেয়ে সোচ্চার, কড়া ও তীব্র সমালোচকদের ওয়াশিংটনের ক্ষমতার চেয়ারে বসাচ্ছে, অন্যদিকে রিপাবলিকানদের শীর্ষ নেতৃত্ব তখন একচেটিয়া সুবিধা দিয়ে বড়সড় চুক্তি সই করছে ইসরাইলের প্রধান প্রতিপক্ষ ও শত্রু দেশ ইরানের সঙ্গে। বছরের পর বছর ধরে চলা দ্বিপক্ষীয় অন্ধ তোষামোদ আর নিঃশর্ত সমর্থনের অবসান ঘটিয়ে আমেরিকার রাজনীতিতে এখন ইসরাইলবিরোধী এক নতুন, বৈরী ও অনমনীয় যুগের উদয় হচ্ছে। ইসরাইলের ইংরেজি দৈনিক টাইমস অব ইসরাইল বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) এবং মার্কিন প্রভাবশালী ওয়েবসাইট অ্যাক্সওস সোমবার (২৯ জুন) এই বিস্ফোরক, চাঞ্চল্যকর ও নজিরবিহীন তথ্য দুনিয়ার সামনে এনেছে। টাইমস অব ইসরাইলের বিশেষ লেখক বেন সেলস এবং অ্যাক্সওসের প্রবীণ সাংবাদিক মাইক জ্যাপলার তাদের প্রতিবেদনে চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়েছেন, কীভাবে ওয়াশিংটনে ইসরাইলপন্থি লবিস্টদের এতকালের মজবুত পায়ের তলার মাটি আচমকা ধসে যাচ্ছে এবং খোদ রিপাবলিকান পার্টিও এখন ইসরাইলের ওপর থেকে কীভাবে মারাত্মকভাবে মুখ ফিরিয়ে নিতে শুরু করেছে।

বিজ্ঞাপন

নিউ ইয়র্ক সিটির কংগ্রেসনাল প্রাইমারি নির্বাচনে ডেমোক্রেটিক প্রার্থী দারিয়ালিজা আভিলা শেভালিয়েরের বিজয়ী ভাষণের শেষ দিকে উপস্থিত জনতা আচমকা স্বতঃস্ফূর্তভাবে স্লোগান তুলতে শুরু করে, ‘ফ্রি ফ্রি ফিলিস্তিন!’ আভিলা শেভালিয়েরের চেয়ে বড় ইসরাইলবিরোধী প্রার্থী ভাবা কঠিন, যিনি একজন কট্টর ইসরাইলপন্থি বিদায়ী জনপ্রতিনিধিকে বড় ব্যবধানে পরাজিত করেছেন। আভিলা শেভালিয়ের তার নিজের ভাষণে সরাসরি ইসরাইলের নাম না নিলেও যখন এই স্লোগান চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে, তখন তিনি ওয়াশিংটনে গিয়ে লড়াই করার সাধারণ রাজনৈতিক বক্তব্য দিচ্ছিলেন। অর্থাৎ, তার সমর্থকেরা ফিলিস্তিনের পক্ষে স্লোগান দিয়েছিল, কারণ ফিলিস্তিন ইস্যু তাদের নিজের কাছে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভোটাররা তাকে ইসরাইল বিরোধিতার কারণে বর্জন তো করেইনি, বরং ঠিক এ কারণেই তাকে ভোট দিয়ে জয়ী করেছে। আভিলা শেভালিয়ের ছাড়াও নিউ ইয়র্কের আরো দুজন প্রার্থী জয়ী হয়েছেন, যাদের সরাসরি সমর্থন দিয়েছিলেন নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র কট্টর ইসরাইলবিরোধী জোহরান মামদানী। এই প্রার্থীরা তাদের প্রচারণায় ইসরাইলের সমালোচনাকে একদম মূল কেন্দ্রে রেখেছিলেন। বিভিন্ন জরিপে দীর্ঘদিন ধরেই দেখা হচ্ছিল, তরুণ ডেমোক্র্যাটদের মাঝে ইসরাইলের প্রতি কোনো সহানুভূতি নেই এবং তারা গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার অভিযোগকে পুরোপুরি সমর্থন করে। গত বছর মামদানীর মেয়র পদে বিজয়ই প্রমাণ করেছিল যে, আমেরিকার সবচেয়ে বেশি ইহুদি অধ্যুষিত শহরেও একজন কট্টর ইসরাইলবিরোধী নেতা জিতে আসতে পারেন। আর মঙ্গলবারের এই জয়গুলো দেখাল যে, সাধারণ ভোটারদের কাছে ইসরাইলবিরোধিতা কোনো ত্রুটি বা সমস্যা নয়, বরং এটি একটি বড় যোগ্যতা।

বিগত দিনগুলোয় মার্কিন কংগ্রেসে ইসরাইলের প্রতি একচেটিয়া সমর্থনকে অবধারিত ধরে নেওয়া হতো। ২০১৯ সালে ডেমোক্রেটিক প্রতিনিধি ইলহান ওমর ইসরাইলপন্থি লবিস্টদের অর্থায়নের দিকে ইঙ্গিত করে টুইট করেছিলেন। আর যায় কোথায়, ইসরাইলপন্থি মিডিয়া নরমুণ্ডপূজারি কাপালিকদের তেজ নিয়ে তেড়েমেড়ে ওঠে। ওয়াশিংটনে তোলপাড় ঝড় ওঠে। ইলহান ওমরকে মাফ চাইতে হয়েছিল।

কিন্তু আজ সেই বিতর্ককে খুব মামুলি মনে হয়। এক র‍্যালিতে মেয়র জোহরান মামদানী ইসরাইলপন্থি লবিস্ট গ্রুপ ‘আইপ্যাক’কে সরাসরি ‘দানব’ বলে আখ্যা দিয়ে বলেন, এরা নেতাদের নৈতিক পরিবর্তনের পথ আটকে সাধারণ মানুষকে একে অপরের বিরুদ্ধে লেলিয়ে দিতে কোটি কোটি অন্ধকার ডলার খরচ করছে। মামদানীর সমর্থিত প্রার্থীরা গাজায় ইসরাইলি গণহত্যার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন এবং ইসরাইলে সমস্ত মার্কিন সামরিক সহায়তা বন্ধের অঙ্গীকার করেছেন।

আভিলা শেভালিয়ের তো ফিলিস্তিনিদের ওপর গত ৭৫ বছরের ইসরাইলি দখলদারিত্বের প্রসঙ্গ টেনে হামাসের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানাতেও স্পষ্ট অস্বীকৃতি জানিয়েছেন; অথচ তিনি জিতেছেন এমন এক এলাকা থেকে, যেখানে ইয়েশিভা ইউনিভার্সিটির ক্যাম্পাসসহ বহু ইহুদি প্রতিষ্ঠান রয়েছে।

রিপাবলিকানরা এই প্রবণতাকে কেবল ডেমোক্র্যাটদের সমস্যা হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করলেও খোদ রিপাবলিকানদের শীর্ষ পর্যায়েও এখন ইসরাইলবিরোধী হাওয়া বইছে। বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন হারিয়েছিলেন আগেই, আর এখন অনেক রিপাবলিকানও তার এবং তার দেশের ওপর ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। ১৫ বছর ধরে নেতানিয়াহু ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন হারানোর ক্ষতি পুষিয়ে নিতে রিপাবলিকানদের তেলে তোয়াজে বশীকরণে কোশেশ করছিলেন।

কিন্তু এখন সেই প্রাচীর ভেঙে পড়েছে। নিউ ইয়র্কের এই নির্বাচনের ঠিক কয়েক দিন আগেই ডোনাল্ড ট্রাম্পের মার্কিন প্রশাসন ইসরাইলের প্রধান প্রতিপক্ষ ইরানের সঙ্গে একটি অত্যন্ত উদার ও লাভজনক চুক্তি করেছে। গত সেপ্টেম্বর মাসে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যখন নেতানিয়াহুকে গাজা শান্তি চুক্তি মেনে নেওয়ার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছিলেন, তখন তিনি ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীকে সরাসরি বলেছিলেন, ‘সব ইহুদি আপনার ওপর চরম বিরক্ত এবং আপনি রাজি না হলে দুই দেশের সম্পর্কচ্ছেদ বা ডিভোর্স হয়ে যাবে।’

ট্রাম্প তো নেতানিয়াহুকে ‘উন্মাদ’ বলেও আখ্যা দিয়েছিলেন এবং সতর্ক করেছিলেন, তার কর্মকাণ্ড ইসরাইলকে গোটা বিশ্বে একঘরে করে ফেলবে। পরে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প সম্পর্ক ভালো দাবি করলেও বলেন, নেতানিয়াহুকে একটু লাইনে বা সুস্থ মাথায় রাখতে হবে।

একই সঙ্গে ট্রাম্পের সম্ভাব্য উত্তরসূরি ও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স একের পর এক প্রকাশ্য ফোরামে ইসরাইল ও তার সমর্থকদের কড়া সমালোচনা করে চলেছেন। ভ্যান্স একের পর এক পডকাস্ট সাক্ষাৎকার ও সংবাদ সম্মেলনে সাফ জানিয়েছেন, আমেরিকার স্বার্থ আর ইসরাইলের স্বার্থ সবসময় এক নয়।

তিনি বলেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে যারা ইসরাইলপন্থি, তারা দুটি মারাত্মক ভুল করেন। প্রথমত, তারা আমেরিকার স্বার্থ ও ইসরাইলের স্বার্থের তফাত বোঝেন না, আর দ্বিতীয়ত, তারা কোনো নির্দিষ্ট সরকারের সমালোচনা করলেই তাকে ইহুদিবিদ্বেষ বলে চালিয়ে দিতে চান। ইসরাইলের সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, সারাক্ষণ শুধু মেরে বা যুদ্ধ করে সব জাতীয় নিরাপত্তা সমস্যার সমাধান করা যায় না। আমেরিকার বন্ধুভাবাপন্ন দলটির ভাইস প্রেসিডেন্টের এমন অবস্থান এবং ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন চুক্তি ইসরাইলের সামরিক কর্তাদের কপালে চিন্তার ভাঁজ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই চুক্তির ফলে ইরানের তহবিল যেমন সমৃদ্ধ হচ্ছে, তেমনি লেবানন সীমান্তে ইসরাইলকে পুরোপুরি বাদ দিয়ে ইরানকে যুক্ত করে একটি কৌশল নির্ধারণ করা হয়েছে, যা ইসরাইলের জন্য বড় ধাক্কা।

আমেরিকার ডানপন্থি ও রিপাবলিকান শিবিরের ভেতরেও ইসরাইলবিরোধী এই মনোভাব এক নতুন পরীক্ষার মুখোমুখি দাঁড় করিয়েছে। টাকার কার্লসন, মেগিন কেলি এবং মার্জোরি টেলর গ্রিনের মতো প্রভাবশালী ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ বা উগ্র জাতীয়তাবাদী নেতারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে ক্ষোভ উসকে দিচ্ছেন।

কার্লসন সাফ বলেছেন, নেতানিয়াহু ট্রাম্পকে কারসাজি করে যুদ্ধে জড়িয়েছেন এবং মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রীর ‘দাস’ বলে উল্লেখ করেছেন।

ক্যান্ডিস ওয়েন্সের মতো বড় প্ল্যাটফর্মের ব্যক্তিত্বরা ইসরাইলবিরোধী বক্তব্য জোরালো করে বলছেন, ইসরাইলকে মার্কিন সমর্থন দেওয়া আসলে আমেরিকার স্বার্থের পরিপন্থী এবং এটি বিদেশি শক্তির অপপ্রভাবের স্পষ্ট প্রমাণ।

কট্টর ইসরাইল সমর্থক বেন শাপিরোর মতো পডকাস্টারদের শ্রোতা ও রেটিং হু-হু করে কমছে, কারণ ডানপন্থি শ্রোতারা এখন ইসরাইলকে মার্কিন সাহায্য দেওয়ার বিরোধী। নিক ফুয়েন্তেসের মতো কট্টরপন্থিরা মূলধারার কনজারভেটিভদের ইসরাইল তোষামোদের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালাচ্ছেন, যা আগে প্রান্তিক থাকলেও এখন তরুণ কনজারভেটিভদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়েছে।

পরিসংখ্যানও এই ফাটলের পক্ষে কথা বলছে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের সাম্প্রতিক এক জরিপে দেখা গেছে, চার দশমাংশ রিপাবলিকান ইসরাইলের প্রতি নেতিবাচক মনোভাব পোষণ করেন, যার মধ্যে ১৮ থেকে ৪৯ বছর বয়স যাদের, তাদের ক্ষেত্রে এই হার ৫৭ শতাংশ। কুইনিপিয়াক ইউনিভার্সিটির জরিপ বলছে, প্রতি পাঁচজন রিপাবলিকানের একজন মনে করেন, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ইসরাইলকে অতিরিক্ত সমর্থন দিচ্ছে, যা ৭ অক্টোবরের হামলার পর থেকে তিনগুণ বেড়েছে। ইউনিভার্সিটি অব মেরিল্যান্ডের জরিপে দেখা গেছে, মাত্র ২২ শতাংশ তরুণ রিপাবলিকান ইসরাইলের সামরিক পদক্ষেপকে সমর্থন করেছেন।

কয়েক দশক ধরে জাতিসংঘ বা আন্তর্জাতিক যেকোনো ফোরামে ইসরাইল সবসময় চোখ বন্ধ করে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের যে একচেটিয়া সমর্থন পেয়ে এসেছে, তা এখন ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ফাটলের মুখে। সুয়েজ খালের সংকটের সময় ৭০ বছর আগে আমেরিকা ইসরাইলকে সিনাই উপদ্বীপ থেকে সেনা সরাতে বাধ্য করেছিল, কিন্তু সেটি সাময়িক ছিল।

তবে এখনকার পরিস্থিতি পুরোই আলাদা। আমেরিকার রাজনীতির যে উঠোনে এতকাল ইসরাইল একচেটিয়া রাজত্ব করেছে, সেখানে আজ তাদের পায়ের তলার মাটিই উধাও। ওয়াশিংটনের ক্ষমতার অলিন্দে আজ যে পরিবর্তনের হাওয়া, তাতে মার্কিন মুলুকের ইসরাইল অনুসারীদের মনে প্রশ্ন জাগতেই পারে—কবি জ্ঞানদাস তার ‘বৈষ্ণব পদাবলী’তে যা লিখে গেছেন, তার চেয়ে বড় নির্মম সত্যি আর কী বা হতে পারে—‘সুখের লাগিয়া এ ঘর বান্ধিলুঁ/অনলে পুড়িয়া গেল/অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে/সকলি গরল ভেল।’

বিগত কয়েকটা দশক ধরে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দুই প্রধান দলের যে অন্ধ ও একচেটিয়া সমর্থনকে ইসরাইল তাদের চিরস্থায়ী বাপের সম্পত্তি ভেবে বসেছিল, তা আজ এক সপ্তাহের ঝড়ে তাসের ঘরের মতো ভেঙে পড়েছে। একপক্ষ যখন গাজায় গণহত্যার দায়ে অভিযুক্ত করে ইসরাইলের টুঁটি চেপে ধরছে, অন্যপক্ষ তখন প্রকাশ্য ফোরামে তাদের ধমক দিয়ে পরম বন্ধু ইরানের সঙ্গে হাসিমুখে হাত মেলাচ্ছে। হোয়াইট হাউস আর কংগ্রেসের যে সুরক্ষিত দুর্গে বসে ইসরাইল ভক্তরা এতকাল ক্ষমতার মধু খেয়েছে, সেখানে আজ এক চরম দেউলিয়াত্ব নেমে এসেছে। অমৃতের আশায় মার্কিন রাজনীতির সাগরে ডুব দিয়ে ইসরাইল অনুরাগীদের কপালে এখন জুটল কেবলই হলাহল। তাদের সাধের সেই সুখের সংসার, সাজানো সেই ক্ষমতার রাজপ্রাসাদ আজ আক্ষরিক অর্থেই অনলে পুড়ে খাক হয়ে গেছে। আর ছাইয়ের ওপর দাঁড়িয়ে তারা এখন দেখছে এক নতুন যুগের উদয়, যেখানে আমেরিকার চোখে ইসরাইল আর কোনো অপরিহার্য মিত্র নয়, বরং এক চরম বোঝা।

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

এলাকার খবর
Loading...