ইরানের সাবেক সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির শেষবিদায়ের আনুষ্ঠানিকতা ধাপে ধাপে এগিয়ে চলছে। প্রথম দিনে বিদেশি কূটনীতিক, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব এবং বিভিন্ন দেশের প্রতিনিধিরা তার প্রতি শেষ শ্রদ্ধা নিবেদন করেন।
শনিবার সাধারণ মানুষের শ্রদ্ধা জানানোর জন্য তেহরানের গ্র্যান্ড মোসল্লা প্রাঙ্গণে খামেনির লাশ রাখা হয়। তার কফিনের পাশে হামলায় নিহত পরিবারের অন্য সদস্যদের, এমনকি তার শিশু নাতনির কফিনও রাখা হয়েছিল।
এদিন হাজারো মানুষ শ্রদ্ধা জানালেও জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়নি। দুই দিন ধরে জনগণের শ্রদ্ধা নিবেদনের সুযোগ দেওয়ার পর আগামী রোববার আনুষ্ঠানিকভাবে প্রথম জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম প্রেসটিভির তথ্য অনুযায়ী, স্থানীয় সময় সকাল ৬টায় তেহরানের ইমাম খামেনি মোসল্লায় প্রথম জানাজার নামাজ শুরু হবে।
এদিকে জানাজার নামাজে কারা ইমামতি করবেন, সেই তালিকাও প্রকাশ করেছে ইরান। তবে আলোচিত বিষয় হলো তালিকায় নেই খামেনির ছেলে এবং বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নাম। ফলে নিশ্চিত হয়েছে যে, তিনি বাবার জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন না।
শিয়া ধর্মীয় রীতিতে সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার জানাজায় দায়িত্ব পালন করেন বর্তমান সর্বোচ্চ নেতা। সেই প্রচলিত ধারার ব্যতিক্রম হওয়ায় মোজতবা খামেনির নাম অনুপস্থিত থাকাকে ঘিরে নানা আলোচনা শুরু হয়েছে।
প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, তেহরানে প্রথম জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন জাফর সোবহানি। পরে পবিত্র নগরী কোমে অনুষ্ঠিত জানাজায় নেতৃত্ব দেবেন নাসের মাকারেম শিরাজি এবং সর্বশেষ মাশহাদে আয়োজিত জানাজার নামাজে ইমামতি করবেন হোসেইন নুরি হামেদানি।
উল্লেখ্য, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের যৌথ হামলায় নিহত হন ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। ওই হামলায় তার বড় মেয়ে, জামাতা, ১৪ মাস বয়সী নাতনি এবং ছেলে মোজতবা খামেনির স্ত্রীও প্রাণ হারান। এছাড়া ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)-এর বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা নিহত হন। এই হামলার পর পুরো অঞ্চলজুড়ে যুদ্ধ আরও তীব্র আকার ধারণ করে।
এআরবি
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন



ইসরাইলবিরোধী মামদানি মার্কিন সমাজে যেভাবে প্রভাব বলয় তৈরি করলেন