নীলফামারীর জলঢাকা উপজেলায় বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে দীর্ঘদিন চাঁদা আদায়ের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করে চার ঘণ্টা সড়ক অবরোধ করেছেন মালিক ও শ্রমিকেরা। এ সময় সড়কের দুপাশে শত শত যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম দুর্ভোগে পড়ে।
রোববার সন্ধ্যা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত জলঢাকা বাসস্ট্যান্ড এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয় পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করলে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়।
স্থানীয় সূত্র ও বাস মালিক-শ্রমিকদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে নীলফামারীর ডিমলা উপজেলায় চলাচলকারী বাসগুলো থেকে মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে প্রতিদিন প্রায় ৯০০ টাকা করে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। কেউ চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে বাসচালক ও শ্রমিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
এই পরিস্থিতির প্রতিবাদে বাস মালিক ও শ্রমিকেরা সড়কে অবস্থান নিয়ে যান চলাচল বন্ধ করে দেন। ফলে জলঢাকা-ডিমলা-রংপুর আঞ্চলিক সড়কে দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়। দূরপাল্লাসহ বিভিন্ন রুটের যানবাহন আটকা পড়ে যাত্রীরা চরম ভোগান্তির শিকার হয়।
রংপুরগামী যাত্রী আনোয়ার হোসেন বলেন, জরুরি কাজে রংপুরে যাচ্ছিলাম। জলঢাকায় এসে দেখি সড়ক অবরোধ চলছে। হঠাৎ এমন পরিস্থিতিতে ভোগান্তিতে পড়েছি।
পারফেক্ট ট্রাভেলসের পরিচালক মাজহারুল ইসলাম মিঠুন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে আমরা চাঁদাবাজির শিকার হচ্ছি। বাস মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নামে বিভিন্ন স্থানে চাঁদা আদায় করা হচ্ছে। দেশের অধিকাংশ সড়কে বাস চলাচলে এ ধরনের চাঁদা দিতে হয় না। অথচ এখানে অল্প দূরত্বেই একাধিক স্থানে টাকা দিতে বাধ্য করা হচ্ছে।
জলঢাকা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) নাজমুল আলম বলেন, খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে বাস মালিক ও শ্রমিকদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি শান্ত করে। আলোচনার ভিত্তিতে সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়েছে। পরবর্তী বৈঠক বা সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত সংশ্লিষ্ট রুটে কোনো ধরনের টোল, চাঁদা বা সার্ভিস চার্জ আদায় বন্ধ থাকবে।
এমই
আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন

