মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার

আমার দেশ অনলাইন
আমার দেশ অনলাইন

মুসলিম বিশ্বের ইতিহাস ক্যালেন্ডার
ইয়ান লিভেন্সের আঁকা চিত্রকর্মে সালাহউদ্দীন (বামে) এবং গাই অব লুসিনিয়ান (ডানে)

১ জুলাই ১২৭৭ (২০ মহররম ৬৭৬ হিজরি) : মামলুক সালতানাতের অন্যতম শ্রেষ্ঠ ও সফল শাসক আলমালিকুজ জাহির রুকনুদ্দিন বাইবার্স আলবুন্দুকদারী মৃত্যুবরণ করেন। ১২৬০ সালে আইন জালুত যুদ্ধে মঙ্গোলদের বিরুদ্ধে মুসলিম বাহিনীর ঐতিহাসিক বিজয়ে তিনি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিলেন। পরে সুলতান হিসেবে তিনি মিসর ও শামে মামলুক শাসনকে সুসংহত করেন, ক্রুসেডারদের একের পর এক দুর্গ এবং উপকূলীয় নগরী পুনর্দখল করেন ও ইসলামি বিশ্বের রাজনৈতিক ও সামরিক শক্তি পুনর্গঠনে অসামান্য অবদান রাখেন। তার শাসনকাল মধ্যযুগীয় ইসলামি ইতিহাসের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত।

১ জুলাই ১৮৩৯ : উসমানী সালতানাতের ৩০তম সুলতান দ্বিতীয় মাহমুদ মৃত্যুবরণ করেন। তিনি ১৮০৮ থেকে ১৮৩৯ সাল পর্যন্ত শাসন করেন। তার শাসনামলে উসমানী সালতানাতে ব্যাপক প্রশাসনিক, সামরিক ও শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার হয়। ১৮২৬ সালে তিনি জানিসারি বাহিনী বিলুপ্ত করে আধুনিক সেনাবাহিনী গঠন করেন এবং কেন্দ্রীয় শাসনব্যবস্থা সুদৃঢ় করতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ গ্রহণ করেন। আধুনিক উসমানী রাষ্ট্রব্যবস্থার অন্যতম প্রধান রূপকার হিসেবে তিনি ইতিহাসে বিশেষভাবে স্মরণীয়।

বিজ্ঞাপন

৪ জুলাই, ৭১১ : উমাইয়া সেনাপতি মুহাম্মাদ বিন কাসিম সিন্ধু অভিযানের সময় দেবল বন্দর জয় করেন। এই বিজয়ের মাধ্যমে বাংলা-পাক-ভারত উপমহাদেশে মুসলিম শাসনের প্রথম ভিত্তি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরবর্তী সময়ে নীরুন (হায়দরাবাদ, পাকিস্তান), সেওয়ান (সিন্ধু, পাকিস্তান), ব্রাহ্মণাবাদ (বর্তমান মনসুরা, সিন্ধু, পাকিস্তান) ও মুলতানসহ সিন্ধুর বিস্তীর্ণ অঞ্চল উমাইয়া খিলাফতের অধীনে আসে এবং ইসলামের বিস্তার, প্রশাসন ও বাণিজ্যের প্রসারে এ বিজয় সুদূরপ্রসারী প্রভাব ফেলে।

৪ জুলাই, ১১৮৭ (২৬ রবিউস সানি ৫৮৩ হিজরি) : হাত্তিনের যুদ্ধ। এই দিনে সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবির নেতৃত্বাধীন মুসলিম সেনাবাহিনী হাত্তিনের প্রান্তরে জেরুসালেমের রাজা গাই অব লুসিগনানের নেতৃত্বে থাকা ক্রুসেডার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে পরাজিত করে। যুদ্ধে গাই অব লুসিগনান বন্দি হন এবং ক্রুসেডারদের প্রধান সামরিক শক্তি কার্যত ধ্বংস হয়ে যায়। এই বিজয়ের মাধ্যমে মুসলিমদের জন্য বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধারের পথ উন্মুক্ত হয় এবং একই বছরের ২ অক্টোবর সুলতান সালাহউদ্দিন আইয়ুবি বাইতুল মুকাদ্দাস পুনরুদ্ধার করেন।

৫ জুলাই ৬৬১ : ইমাম হাসান ইবনে আলী ও মুয়াবিয়া ইবনে আবু সুফিয়ানের মধ্যে ঐতিহাসিক সন্ধি ও ক্ষমতা হস্তান্তরের চুক্তি সম্পাদিত হয়। মুসলিম উম্মাহর রক্তপাত ও গৃহযুদ্ধ বন্ধ করার লক্ষ্যে ইমাম হাসান (রা.) খিলাফতের দায়িত্ব মুয়াবিয়া (রা.)-এর কাছে অর্পণ করেন। এই সন্ধির মাধ্যমে ফিতনার অবসান ঘটে এবং মুসলিম বিশ্বের রাজনৈতিক ঐক্য পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়। ওই বছরটি ইসলামের ইতিহাসে ‘আমুল জামাআহ’ (ঐক্যের বছর) নামে পরিচিত।

৬-৮ জুলাই, ১৯৯৫ খ্রিষ্টাব্দ (৬/৭ সফর–৮/৯ সফর, ১৪১৬ হিজরি) : স্রেব্রেনিৎসা গণহত্যা। এই দিনে খ্রিষ্টান সার্ব বাহিনী বসনিয়ার স্রেব্রেনিৎসা শহরে গণহত্যা চালায়।

৯ জুলাই ৮৭৪-৮৭৫ খ্রিষ্টাব্দ/ ২৬১ হিজরি : প্রচলিত মত অনুযায়ী এই দিনে প্রখ্যাত সুফি দরবেশ বায়েজিদ বোস্তামি মৃত্যুবরণ করেন। তাসাউফের প্রারম্ভিক যুগের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে তিনি মুসলিম আধ্যাত্মিক চিন্তাধারায় গভীর প্রভাব বিস্তার করেছিলেন।

গ্রন্থনা : আহমাদ ফাহমি

Google News Icon

আমার দেশের খবর পেতে গুগল নিউজ চ্যানেল ফলো করুন